ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন বছর ২০২৫ কে স্বাগত জানিয়েছে পুরো বিশ্ব। নিজ নিজ সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য অনুসারে নববর্ষ উদযাপনে মেতে ওঠে দেশগুলো। বর্ণিল আতশবাজি, আলোকসজ্জা এবং নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে নতুন বছরের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

প্রথমে কিরিবাতি-টোঙ্গায় শুরু:

ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন শুরু হয় সময় অঞ্চল অনুযায়ী প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতি ও টোঙ্গা থেকে। এখানকার স্থানীয় সময় ৩১ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা (গ্রিনউইচ মান সময়) থেকে শুরু হয় নতুন বছর। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া যথাক্রমে অকল্যান্ডের স্কাই টাওয়ার এবং সিডনি হারবার ব্রিজে জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ২০২৫ সালকে স্বাগত জানানো হয়।

ইউরোপে জমকালো আলোকসজ্জা:

ইউরোপে নববর্ষের প্রধান আকর্ষণ ছিল আলোকসজ্জা এবং আতশবাজি। লন্ডনের বিগ বেন ও থেমস নদীর তীরে জমকালো আতশবাজি হাজারো মানুষকে মুগ্ধ করে। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার আলোকিত হয়ে উঠে, আর রোমের ঐতিহাসিক স্থানগুলোতেও উৎসবের আবহ দেখা যায়।

আমেরিকায় বল ড্রপের রীতি:

নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিখ্যাত বল ড্রপ ইভেন্টে হাজির হয় হাজারো মানুষ। নতুন বছরের কাউন্টডাউনের সঙ্গে সঙ্গে তারা উদযাপনে মেতে ওঠে। এছাড়া দেশজুড়ে কনসার্ট, প্যারেড এবং পারিবারিক আড্ডার মধ্য দিয়ে নববর্ষের আনন্দ উদযাপন করা হয়।

এশিয়ায় ঐতিহ্যের ছোঁয়া:

এশিয়ার দেশগুলোতে ইংরেজি নববর্ষের উদযাপনে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশ্রণ দেখা যায়। জাপানে মন্দিরে ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে নতুন বছর শুরু হয়। চীনে পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন জনপ্রিয়। ভারত ও বাংলাদেশে রঙিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নতুন বছরকে আনন্দমুখর করে তোলে।

মধ্যপ্রাচ্যে আধুনিক আয়োজন:

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও নববর্ষ উদযাপনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার মনোমুগ্ধকর আতশবাজি বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ে। এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

একতার বার্তা নিয়ে নববর্ষ:

নববর্ষ উদযাপনের ধরন দেশ ভেদে আলাদা হলেও এর মূল বার্তা এক: নতুন আশা, ভালোবাসা আর একতার উৎসব। পুরোনো বছরের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বছরকে আরো সুন্দর করার প্রত্যাশা নিয়ে সবাই নতুন স্বপ্ন গড়ে তোলে।

বিশ্বজুড়ে নববর্ষ উদযাপন আজ শুধুই আনন্দের নয়। এটি একতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই উৎসব নতুন দিনের প্রত্যাশা ও মানবিক বন্ধনের বার্তা বহন করে। —বাসস