যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্রমাগত তাপপ্রবাহে
পুড়ছে। এশিয়া, ইউরোপ থেকে আফ্রিকা; কোথায় নেই চরম আবহাওয়া ছোবল। এ পরিপ্রেক্ষিতে হাজার
হাজার বছর না হলেও অন্তত কয়েক শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ মাস হতে পারে চলতি জুলাই।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার
(২০ জুলাই) সাংবাদিকদের এই তথ্য দিয়েছেন নাসার গডার্ড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজের
পরিচালক গ্যাভিন শ্মিড্ট।
এদিন নাসার ওয়াশিংটন সদর দফতরের বৈঠকে
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন শ্মিড্ট। উপস্থিত ছিলেন সংস্থার জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও নাসার
প্রশাসক বিল নেলসন এবং প্রধান বিজ্ঞানী ও জ্যেষ্ঠ জলবায়ু উপদেষ্টা কেট ক্যালভিনসহ
অন্যরা।
সভাটি এমন এক সময় হলো যখন সারা বিশ্বর
তীব্র গ্রীষ্মের মুখোমুখি। নিউ ইংল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যা চলছে। আবার কানাডার দাবানলের
ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে দম বন্ধ পরিস্থিতি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও
পশ্চিম জুড়ে তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙায় কয়েক কোটি মানুষ রয়েছে ঝুঁকিতে।
শ্মিডট জানান, সারা বিশ্বে অভূতপূর্ব পরিবর্তন
দেখা যাচ্ছে। তবে পরিবর্তনগুলো অনেককে হতবাক করলেও বিজ্ঞানীদের কাছে ‘বিস্ময়কর নয়’।
গত চার দশকের প্রতি দশকে বৃদ্ধি পেয়েছে তাপমাত্রা।
নাসার বৈশ্বিক তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে
গত সপ্তাহে জানায়, রেকর্ড করা তথ্যের হিসাবে পৃথিবী সবচেয়ে উষ্ণ জুন দেখেছে।
তবে শ্মিডট বলেন, ২০২৩ সালে সবচেয়ে উঞ্চ
বছর হওয়ার আশঙ্কা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। তার পূর্বাভাস অনুসারে, এই হার ৫০ শতাংশ। তবে অন্যান্য
মডেল বলছে এবার সবচেয়ে উঞ্চ বছর হওয়ার আশঙ্কা ৮০ শতাংশ।
আবার অনেক বিজ্ঞানীর মত, চলতি বছরের চেয়ে
বেশি গরম পড়বে ২০২৪ সালে। কারণ এল নিনোর প্রভাবের সঙ্গে পরিচিতরাই জানেন, ওই সময় তাপমাত্রা
ক্রমশ বাড়তে থাকে।
২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সর্বশেষ বড়
এল নিনো বিরাজ করেছে। ওই সময় প্রতিটি বছর পর্যায়ক্রমে বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড ভঙ্গ
করেছে এবং রেকর্ডকৃত নথি অনুসারে ২০১৬ সাল এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম বছর।
সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, পৃথিবীর এই পরিবর্তন সরাসরি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের সঙ্গে যুক্ত। গর্ডাড ইনস্টিটিউটের প্রধান বিজ্ঞানী ক্যালভিন বলেন, আমরা বিজ্ঞান থেকে যা জানি তা হলো মানুষের কার্যকলাপ এবং প্রধানত গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন অনিবার্যভাবে আমাদের গ্রহের এই উষ্ণতার কারণ। এটি বিশ্বজুড়ে মানুষ ও বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে।










