প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের পরামর্শে ভেঙে দেয়া হয়েছে পাকিস্তানের সংসদ। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থাকা দেশটিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুত নিতে এই সিদ্ধান্ত। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার মাত্র তিনদিন আগে গতকাল বুধবার (৯ আগস্ট) রাতে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। খবর ডন। 

জাতীয় পরিষদ বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে শাহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অবসান ঘটল। আগামী ৯০ দিনে মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গঠিত হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। 

আজ বৃহস্পতিবার জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে শাহবাজ শরীফের। মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন, তা নির্ধারণের জন্য এ বৈঠক।

পাকিস্তানের সংবিধান অনুসারে, পার্লামেন্ট বিলুপ্তির তিনদিনের মধ্যে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া হয়, তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন করতে হবে।

যেহেতু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেয়া হয়েছে, তাই ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের কারণে এবারের নির্বাচন পেছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

এদিকে দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে জনশুমারির ভিত্তিতে নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কমিশনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, জনশুমারি শেষ হলেই নির্বাচন হবে। এ জন্য চার মাস সময় দরকার হবে। ফলে নির্বাচনটি আগামী বছর পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে।

সাধারণ নির্বাচনের পর ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানের নেতৃত্বে দেশটিতে জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। তবে গত বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিরোধীদের আনা আস্থা ভোটে হেরে ইমরানের সরকার ক্ষমতা হারায়। পরে শাহবাজ শরীফের নেতৃত্বে বিরোধীরা জোট সরকার গঠন করে।

সম্প্রতি ইমরান খান তোশাখানা মামলায় গ্রেফতার হন। ওই মামলায় তিন বছরের সাজা হয় তার। এছাড়া তাকে পাঁচ বছরের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।