মুম্বাইয়ের সমুদ্রতীরবর্তী ওরলি সি ফেসকে নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ভারতের ধনকুবেররা। দেশটির শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ীরা এখানে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও সম্পত্তি কিনে তৈরি করছেন ‘বিলিয়নেয়ারস রো’। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীর অবকাঠামোগত উন্নতির সুবিধা নিয়ে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাটিতে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন তারা। খবর এফটি।
ওরলি সি ফেস একসময় ছিল শিল্পাঞ্চল। এখন ১৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত উপকূলীয় সড়কের পর অঞ্চলটিতে আবাসনের চাহিদা বেড়েছে। এখনকার আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য ও নির্ঝঞ্চাট পরিবেশ। ব্যাংকার উদয় কোটাক ও ফার্মাসিউটিক্যালস উদ্যোক্তা দিলীপ শাঙ্ঘভির মতো বিলিয়নেয়াররা সম্প্রতি ওরলি সি ফেসে সম্পত্তি কিনেছেন। এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির কন্যা ইশা আম্বানির এখনকার ঠিকানাও এটি।
সম্পত্তি খাতবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্রাঙ্কের সিনিয়র কার্যনির্বাহী পরিচালক গোলাম জিয়া বলেন, ‘ভারতের ধনকুবেরদের জন্য ওরলি সি ফেস হলো থাকার মতো জায়গা।’
কয়েক দশক ধরে খালি পড়ে থাকা একটি জীর্ণ বাংলোর জায়গায় নির্মাণ হয়েছে নামান জানা টাওয়ার, যা এলাকাটির বিলাসবহুল আবাসস্থলে রূপান্তরের প্রতীক হয়ে উঠেছে। শ্রী নামান গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়েশ শাহ জানান, ২৪ তলা ভবনটির ১৬টি অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যে অন্তত সাতটি কিনেছেন ভারতের চারটি ধনী পরিবার। ভূমি বিক্রির রেকর্ড, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ও স্থানীয় মিডিয়ার প্রতিবেদনেও এ তথ্যের সমর্থন পাওয়া যায়।
ফার্মা টাইকুন ইউএসভি ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারপারসন লীনা গান্ধী তিওয়ারি প্রায় সাড়ে ৭ কোটি ডলারে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন। দিলীপ শাঙ্ঘভির স্ত্রী ভিভা শাঙ্ঘভি একই ভবনে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন এবং গোদরেজ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক টানিয়া ডুবাস কিনেছেন একটি ডুপ্লেক্স। এছাড়া বার্নসলি ফুটবল ক্লাবের মালিক নিরাভ পারেখও এখানে দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক।
জয়েশ শাহ বলেন, ‘ধনীদের একটি ভালো কমিউনিটি চাই, অতিধনীদের দরকার শুধু একচেটিয়া সুবিধা ও গোপনীয়তা।’
নামান জানা টাওয়ারের প্রতিটি তলার আয়তন ছয় হাজার বর্গফুট এবং সেখান থেকে আরব সাগরের দৃশ্য দেখা যায়।
শীর্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ৩৬০ ওয়ান অনুসারে, ভারতে প্রায় ২০০ বিলিয়নেয়ার রয়েছেন, যাদের এক-তৃতীয়াংশ মুম্বাইয়ে থাকেন। আইপিওর সাফল্য ও শেয়ারবাজারের উত্থান ধনীদের সম্পদ আরো বাড়িয়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে প্রিমিয়াম আবাসনের চাহিদা।
ব্যাংক খাতের বিলিয়নেয়ার উদয় কোটাক ওরলি সি ফেসে দুটি সম্পত্তির জন্য ৮ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছেন। একটি বাংলো ২০১৮ সালে এবং সংলগ্ন অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি তিনি এ বছর কিনেছেন।
গোলাম জিয়া বলেন, ‘আমরা উদয় কোটাকের কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করার সময় অঞ্চলটিকে উদীয়মান বিলিয়নেয়ারস রো বলেছিলাম। আমরা দেখতে পেলাম, উপকূলীয় সড়ক নির্মাণ হওয়ায় বাজারে ওরলি তার সঠিক অবস্থান অর্জন করতে পারে।’
ভারতের বৃহত্তম আইনি পরিষেবা সংস্থা সাইরিল আমরচন্দ মঙ্গলদাসের প্রধান সাইরিল শ্রফও ওরলি সি ফেসে তার সম্পত্তি পুনর্নির্মাণ করছেন।
একসময় তুলার মিলের জন্য পরিচিত ছিল অঞ্চলটি। এখন ওরলি সি ফেসে ব্যাপকভাবে বাড়ি পুনর্নির্মাণ চলছে। দুই দশক আগে শুরু হয়েছিল এ কর্মকাণ্ড। এসব উন্নয়নযজ্ঞের মধ্যে মেট্রো, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর অন্তর্ভুক্ত।
আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ এ উপকূলীয় সড়কের ধারে হাঁটার রাস্তা, সাইক্লিং ট্র্যাক ও অন্যান্য পাবলিক স্পেসসহ একাধিক পার্ক তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া আদানির তৈরি একটি সড়ক পার্কগুলোকে শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।
স্যাভিলসের ভারত শাখার গবেষণা ও পরামর্শক বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরবিন্দ নন্দনা বলেন, ‘বড় অবকাঠামো প্রকল্প চলমান থাকা এবং নতুন সরবরাহ সীমিত হওয়ায় আমরা আশা করি, দামের স্থিতিশীল বৃদ্ধি দেখা যাবে।’
শ্রী নামান গ্রুপের জয়েশ শাহের মতে, ভারতের ধনীদের আকাঙ্ক্ষার দিক থেকে অগ্রাধিকার পায় আবাসন। এরপর তারা প্রাইভেট জেট ও ইয়ট ইত্যাদি কেনেন। কিন্তু সবার আগে কেনেন বাড়ি।










