নেপালের পার্লামেন্ট ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পর এবার ভাইরাহাওয়া গৌতম বুদ্ধ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকায় থাকা যানবাহনে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা।
বিমানবন্দরটির মহাব্যবস্থাপক প্রতাপ বাবু তিওয়ারি জানান, এ ঘটনায় সাতটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
মূলত নেপালে দুর্নীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে হাজার হাজার তরুণ। গত শুক্রবার ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেন নেপালের কয়েক হাজার মানুষ। তাদের বেশির ভাগই তরুণ বা জেন–জি প্রজন্মের। সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডু ও পোখারা, ভুটওয়াল, ভাইরাহাওয়া, ভরতপুর, ইতাহারিসহ দেশটির সাতটি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিবন্ধকতা ভেঙে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। তখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। একপর্যায়ে গুলিও চালানো হয়। এতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয় কাঠমান্ডুতে। সেখানে ১৭ জন নিহত হন।
পরে বিক্ষোভের মুখে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও আন্দোলন তখন সরকারের নাগালের বাইরে চলে যায়। ব্যাপক বিক্ষোভ, সহিংসতা, হতাহতের ঘটনার পর সোমবার সন্ধ্যায় পদত্যাগ করেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি।










