আফ্রিকার চতুর্থ বৃহত্তম নদী জাম্বেজি জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমানা দিয়ে প্রবাহিত। দুই দেশের সীমানা এলাকায় একটি গিরিখাতে গত শতাব্দীতে তৈরি করা হয় কারিবা ড্যাম। জাম্বেজি নদী ও কারিবা ড্যাম থাকা সত্ত্বেও জাম্বিয়া বর্তমানে স্মরণকালের সবচেয়ে খারাপ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে লড়াই করছে। সমস্যা এতটাই খারাপ অবস্থায় গেছে যে শহরে টানা তিনদিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ১ বা ২ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ এলেও দেশটির সাধারণ মানুষ নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছে।

চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ৪৩ শতাংশ জাম্বিয়ান ভুক্তভোগী। গত কয়েক বছরের মধ্যে জাম্বিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে। এ কারণে জলবিদ্যুতে অধিকাংশ নির্ভরশীল দেশটিতে বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট হয়েছে। রেস্তোরাঁ ও বারগুলোয় সাধারণ মানুষ খাবার বা পানীয়ের জন্য ভিড় করছে না। ফোনে চার্জ দেয়ার জন্য জেনারেটরের তীব্র শব্দের মধ্যেই বসে থাকছে তারা। তাছাড়া জেনারেটরের সাহায্যে চার্জিংয়ের ব্যবস্থা করে অর্থ উপার্জনের সংখ্যাও বেড়েছে অনেক।

জাম্বিয়ার ৮৪ শতাংশই জলবিদ্যুৎ। ১৩ শতাংশ বিদ্যুতের জোগান আসে কয়লা থেকে। আর বাকি ৩ শতাংশ সোলার, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি তেলনির্ভর। দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মাম্বা এনার্জি। কেন্দ্রটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় গত কয়েক সপ্তাহে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। এ কারণে সংকটময় এ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরো তীব্র হয়েছে। তবে গত বুধবার জ্বালানিমন্ত্রী মাকোজো চিকোটে বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হয়েছে। এখন থেকে জাম্বিয়ানরা দিনে অন্তত ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

প্রেসিডেন্ট হাকাইনদে হিচিলেমা ফেব্রুয়ারিতে চলমান খরাকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেন। এর পরও সরকার জ্বালানি সংকট সমাধান করতে পারেনি। কারণ জাম্বিয়ার বিদ্যুৎ কারিবা ড্যাম নির্ভরশীল।

জাম্বিয়া পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারেনি। কারণ সরবরাহকারীরা অগ্রিম পরিশোধের শর্ত দেয়। যদিও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেসকোর মুখপাত্র মাতোঙ্গো মাউম্বি বিবিসিকে বলেন, ‘সংকট নিরসনে মোজাম্বিক ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।’

খরার কারণে জাম্বেজি নদীর কিছু অংশ শুকিয়ে যাওয়ায় ১২৮ মিটার উঁচু, ৫৭৯ মিটার দীর্ঘ ও ২১ মিটার পুরু ড্যামটির ছয়টি টার্বাইনের মধ্যে মাত্র একটি সচল রয়েছে। এতে সক্ষমতার ১ হাজার ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মাত্র ৭ শতাংশ উৎপাদন হচ্ছে। ১৯ বছর ধরে জেসকোর প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত সেফাস মুসেবা জানান, তিনি কারিবায় পানির স্তর এত নিচে আগে কখনো দেখেননি। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকেই বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়। যদিও মোটামুটি এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার কথা। ফলে এখন পর্যন্ত ড্যামে সবচেয়ে কম পানি জমা হয়েছে।