চলতি সপ্তাহান্তে আরো তীব্র গরমের জন্য
প্রস্তুত হচ্ছে গ্রিস। পারদ ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত চড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন
আবহাওয়াবিদরা। খবর বিবিসি।
বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছে
দেশটির কর্তপক্ষ। এথেন্সের প্রাচীন অ্যাক্রোপলিসসহ জনপ্রিয় পর্যটন সাইটগুলো আগামী দুইদিনের
উষ্ণতম অংশে বন্ধ থাকবে।
দেশটির শীর্ষ আবহাওয়াবিদদের একজন বলেছেন,
৫০ বছর বা অর্ধ শতাব্দির মধ্যে জুলাইয়ের সবচেয়ে উষ্ণতম সপ্তাহান্ত পার করতে পারে
গ্রিস।
এদিকে কয়েক ডজন দাবানল ঘিরে আগুন নিয়ন্ত্রণে
কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। জরুরি অবস্থা ও নাগরিক সুরক্ষা কর্মকর্তারা
দেশজুড়ে নতুন দাবানলের খুব উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এথেন্স বরাবর পশ্চিমে
ওয়েস্টার্ন অ্যাটিকাসহ সাউদান পেলোপোনিজের ল্যাকোনিয়া ও রোডস দ্বীপ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত
অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
দাবানলের এই প্রাদুর্ভাবে সাহায্যে হাত
বাড়িয়ে দিয়েছে গ্রিসের ইইউ অংশীদাররা। ফ্রান্স ও ইতালি পাঠিয়েছে অগ্নিনির্বাপক উড়োজাহাজ।
পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া দুই শতাধিক অগ্নিনির্বাপক কর্মীসহ
সাহায্য দিয়েছে। প্রতিবেশী তুরস্কও পাঠাচ্ছে উড়োজাহাজ।
অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের মতো মাসের শুরু
থেকে দীর্ঘায়িত তাপপ্রবাহ অনুভূত হচ্ছে গ্রিসে। হেলেনিক ন্যাশনাল মেটিওরোলজিক্যাল সার্ভিস
(এইচএনএমএস) হালনাগাদ বার্তায় সতর্ক করে জানায়, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে আজ শনিবার তাপমাত্রা
৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। আগামীকাল গরম বেড়ে ৪৫ ডিগ্রি ছাড়াতে পারে মধ্য
গ্রিসে।
দেশটির আবহাওয়াবিদ প্যানাজিওটিস জিয়ানোপোলোস
বলেছেন, ৫০ বছরের মধ্যে জুলাই মাসের সর্বোচ্চ গরম হিসেবে এই সপ্তাহান্ত নথিবদ্ধ হতে
পারে। মাসের শেষ দিকে ৬-৭ দিনের জন্য এথেন্সের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে
থাকবে। আগামী সোমবার কিছুটা কমার পর মঙ্গলবার নতুন করে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
নথিবদ্ধ ইতিহাসে ১৯৮৭ সালের গ্রীষ্মের
পর থেকে এটি সবচেয়ে খারাপ তাপপ্রবাহ হতে পারে। ওই বছর চরম আবহাওয়ার কারণে শত শত মৃত্যু
হয়েছিল।
এরই মধ্যে গ্রিস জুড়ে দাবানলে বহু মানুষ
ঘরবাড়ি হারিয়েছে। পুড়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। মূলত জলবায়ু পরিবর্তন ও গরম, শুষ্ক
আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্পেন ও ইতালিসহ ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলো
এই সপ্তাহে তীব্র তাপ অনুভব করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশও রেকর্ড ভাঙা গরম দেখছে।
শিল্প যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে পৃথিবী
এরই মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ হয়েছে। এখনই কার্বন নির্গমন কমাতে
সারা বিশ্বে একমত না হলেও পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে।










