৫ নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পর থেকে নানা বিষয়ে চলছে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিবাসী নীতি। কারণ অভিবাসী নীতিতে ট্রাম্প বরাবরই কঠোরতা দেখিয়ে এসেছেন। সীমান্ত পারাপারের বিষয়টি তিনি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে চান। নির্বাচনী প্রচারণায় গণহারে অভিবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার প্রসঙ্গও টেনেছেন ট্রাম্প। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যে। তাদের ক্ষেত্রে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তা নিয়ে তারা চিন্তিত। খবর বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১ কোটি ৩০ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসী বাস করছেন। অনিবন্ধিত অভিবাসী বলতে তাদের বোঝায়, যারা অনুমতি ছাড়াই দেশটিতে প্রবেশ করেছেন এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছেন বা নির্বাসন এড়াতে বিশেষ সুরক্ষা পেয়েছেন।
দুই দশকের বেশি সময় আগে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন গ্যাব্রিয়েলা। বলিভিয়ার নাগরিক তিনি, বর্তমানে মেরিল্যান্ডের একজন গৃহকর্মী। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গ্যাব্রিয়েলার মতো অভিবাসীরা আসন্ন ট্রাম্প প্রশাসনের গণনির্বাসনের প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য কী অর্থ বহন করতে পারে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে তারা বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের সম্প্রদায়, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হচ্ছে।
গ্যাব্রিয়েলার মতো কেউ কেউ মনে করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না। গ্যাব্রিয়েলা বলেন, ‘আমি আসলে মোটেও ভয় পাচ্ছি না। বিষয়টি অপরাধীদের জন্য উদ্বিগ্নের কারণ হতে পারে। আমি তো ট্যাক্স দিই, এখানে কাজও করি। সে যাই হোক, আমি অনিবন্ধিত। তাহলে তারা কীভাবে আমার সম্পর্কে জানবে?’
নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় ফিরলে প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে গণহারে অভিবাসীদের বিতাড়িত করবেন। তবে নির্বাচিত হওয়ার দুই সপ্তাহ পার হলেও অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ঠিক কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন যে এক্ষেত্রে ব্যয় কোনো সমস্যা হবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিগুলো বড় ধরনের আর্থিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও অভিবাসন নীতি তদারকি এবং পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন টম হোমান। তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বাইডেন প্রশাসনের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কর্মস্থলে অভিযান আবারো শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শনিবার ফক্স নিউজকে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হোমান ‘আইনপ্রয়োগকারীরা খারাপ মানুষ, যারা আইন ভঙ্গ করে তারা ভুক্তভোগী’ এ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কোনো রাজনীতিবিদ তাদের সম্প্রদায় থেকে জননিরাপত্তা হুমকি অপসারণের বিরোধিতা করবেন?’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নির্বাচিত করে আমেরিকানরা যেসব পরিকল্পনার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, নতুন প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করবে বলে জানান তিনি।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে ১৫ লাখের বেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কভিড-১৯ মহামারীর সময় কয়েক লাখ অভিবাসীকে দ্রুত ফেরত পাঠানো হয়েছিল।










