কলকাতায় এক মেডিকেল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল পরিষেবা বন্ধের ডাক দিয়েছেন চিকিৎসকরা।  পাশাপাশি প্রতিবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।

গত শুক্রবার (৯ আগস্ট) ভোরে আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারতলায় এক নারী শিক্ষার্থীর মরদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভুক্তভোগীকে প্রচণ্ড নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে আরজি কর হাসপাতালসহ পুরো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। দোষীদের শাস্তিসহ মূল ঘটনা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) গভীর রাতে, দেশটির সবচেয়ে বড় চিকিৎসক সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন শনিবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ছাড়া বেশিরভাগ বিভাগ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।  গত  এক দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ধর্মঘট হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে এক্সে  দেয়া এক বিবৃতিতে আইএমএ উল্লেখ করেছে, ডাক্তাররা, বিশেষ করে নারীরা, পেশার প্রকৃতির কারণে সহিংসতার শিকার হতে পারেন। হাসপাতাল ও ক্যাম্পাসের ভিতরে ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো  শুক্রবার (১৬ আগস্ট) কলকাতা শহরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে।

বলিউড অভিনেতা ও অন্যান্য সেলিব্রিটি এবং রাজনীতিবিদরা এই অপরাধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য আরো কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

২০১২ সালে দিল্লিতে সংঘটিত আলোচিত গণধর্ষণের ঘটনার পর দেশটির সরকার অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল।  যার মধ্যে রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান কিন্তু মানুষের দাবি, কঠোর আইন সত্ত্বেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।