চারদিন আগে শেষ হওয়া ‘অপারেশন মহাদেবের’ রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কাশ্মীরের কুলগামের আখাল অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে অভিযান শুরু করেছে ভারতের সেনা ও পুলিশ বাহিনী। গতকাল ভোর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন আখাল’। জম্মু ও কাশ্মীর কমান্ডের অধীনে থাকা সেনাবাহিনীর চিনার কোর জানায়, শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুলগামের আখালে যৌথ অভিযান চালানো হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, অভিযানে দুজন বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি নিহত হয়েছে।
চিনার কোরের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর অভিযানে নামে যৌথবাহিনী। তল্লাশি শুরু হলে জঙ্গিরা গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে আমরাও গুলি চালাই। রাতভর চালানো অভিযানে একজন জঙ্গিকে হত্যা করতে সক্ষম হই।’ পরে আরো একজন নিহত হওয়ার খবর দেয়া হয়। তবে নিহতদের নাম ও পরিচয় জানানো হয়নি।
এর আগে গত ২৮ জুলাই দাচিগামের পাহাড়ি জঙ্গলে চালানো ‘অপারেশন মহাদেবে’ সুলেমান, আবু হামজা ও ইয়াসির নামে তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে ভারত। ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিনার কোর ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দাবি, ওই তিনজন পাকিস্তানের নাগরিক এবং লস্কর-ই-তৈয়বার সক্রিয় সদস্য। গত এপ্রিলে পেহেলগামে হামলায় অংশ নিতে পাকিস্তান থেকে কাশ্মীরে প্রবেশ করেছিলেন তারা। অমিত শাহ জানিয়েছেন, নিহত তিনজনের কাছ থেকে পাকিস্তানি পরিচয়পত্র মিলেছে। তাছাড়া পেহেলগামে হামলার পর হামলাকারীদের যেসব ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, নিহত তিনজনের সেসবের সঙ্গেও সাদৃশ্য পাওয়া গেছে।
তবে পাকিস্তান সরকার ভারতের দাবিকে বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেয়। এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ উপমহাদেশের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
এদিকে গত ৩১ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার সীমান্তে দুই সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত এ দুজনও পাকিস্তানের নাগরিক এবং লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য ছিলেন।










