সামরিক আইন জারির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অভিশংসনে দেশটির সংসদের নেয়া সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দেশটির সাংবিধানিক আদালত এ রায় দেন। খবর আল জাজিরার।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারি করে জনগণের অধিকার ‘লঙ্ঘন’ করেছেন ইউন সুক-ইওল। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি সংবিধান রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্বের অপব্যবহার দিয়েছেন এবং কোরিয়ার জনগণের সঙ্গে গুরুতর বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

এতে আদালত আরো বলেছেন, এ ধরনের বেআইনি ও অসাংবিধানিক কার্যকলাপ সংবিধানের আওতায় কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। এই কর্মকাণ্ডের গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে এবং এর প্রতিক্রিয়া হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী। একজন প্রেসিডেন্টের পদচ্যুত করার কারণে জাতীয়ভাবে যতটা ক্ষতি হবে, তার চেয়ে সংবিধানিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এ রায়ের ফলে দুই মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও নির্বাচিত প্রার্থীর অভিষেক না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু ।

২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন ঘোষণা করেন ইউন। সে সময় তার দাবি ছিল, রাষ্ট্রবিরোধী এবং উত্তর কোরিয়ার শক্তি সরকারে অনুপ্রবেশ করেছে। পরে জনগণ ও পার্লামেন্টের চাপে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সামরিক আইন তুলে নিতে বাধ্য হন তিনি।

তবে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, পার্লোমেন্ট প্রেসিডেন্টের আকস্মিক সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে না পারে সে কারণে বিরোধী রাজনীতিবিদদের আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ইউন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৪ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউনকে অভিসংশিত করে দেশটির পার্লামেন্ট। তাকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।