নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে। গত সোমবার রাজ্যের জিরিবাম জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ১১ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই ব্যক্তিরা জিরিবামের একটি থানায় আক্রমণের চেষ্টা চালালে গোলাগুলি শুরু হয়। খবর রয়টার্স।
এদিকে ১১ জন নিহতের একদিন পর গতকাল বিকালে আরো দুজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে জাকুরাদরের শরণার্থী শিবির থেকে। নিখোঁজ রয়েছে তিন শিশুসহ অন্তত ছয়জন।
রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার নিহত ১১ জন কুকি চীন জনগোষ্ঠীর। ভারতের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গতকাল নিহত দুজন কুকি চীনের প্রতিপক্ষ মেইতেই জনগোষ্ঠীর সদস্য।
শরণার্থী শিবির থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি হলো লাইসরাম সিং (৬৩) ও মাইবাম সিং (৭১)। সোমবারের বন্দুকযুদ্ধের পর থেকে ওই শিবিরের তিন শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুকি সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহত ১১ জন স্থানীয় গ্রামগুলোর স্বেচ্ছাসেবক, তারা হামার নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
দেশটির উচ্চ আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে ভারতের মণিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আদিবাসী কুকি চীন জনগোষ্ঠীর এক বছর ধরে সংঘাত চলছে। ওই রায়ে মেইতেই জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটা, অর্থনৈতিক সুবিধাসহ বেশকিছু বাড়তি সুবিধার নির্দেশ দেয়া হয়। যার জেরে শুরু হয় সংঘাত। যদিও ওই রায় দেয়া বিচারপতিকে পরবর্তী সময়ে বদলি করেন দেশটির উচ্চ আদালত। কিন্তু তার রায় এখনো বাতিল হয়নি। এরই মধ্যে কুকি চীন জনগোষ্ঠী তাদের পুরনো নানা দাবিও সংযুক্ত করেছে এবারের সংগ্রামে।










