২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সেলফোন বিক্রিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এতদিন যে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ ছিল সেটি এখন থেকে দিতে হবে। গতকাল জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথা জানান।

৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হওয়ায় সেলফোনের দাম আগের তুলনায় বাড়বে। এছাড়া সেলুলার ফোন, ব্যাটারি ও চার্জার আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশের প্রস্তাবও করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে সেলফোনের মূল্যে প্রভাব ফেলবে।

বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, সেলফোনের ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ মূসক অব্যাহতি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে সেলুলার ফোন উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে আরো বিকশিত করার লক্ষ্যে সেলুলার ফোন, ব্যাটারি ও চার্জারের আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসবের ফলে সেলফোনের দাম আরেক দফা বাড়ছে।

বর্তমানে স্মার্টফোন আমদানিতে প্রায় ৫৮ শতাংশ কর দিতে হয়। স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বল ও তৈরি হ্যান্ডসেটের ওপর ৩ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। ২০২০-২১ সালে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও আমদানি করা হ্যান্ডসেটের মোট সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ১২ লাখ। ভ্যাট-করের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান চিপ সংকট, জাহাজ ভাড়া ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ চেইনের সমস্যা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে সেলফোন ও এর যন্ত্রাংশের মূল্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সেই সঙ্গে আমদানীকৃত ব্যাটারিতেও ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সেলফোনের ওপর ব্যবসায়িক পর্যায়ে যে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর যুক্ত করা হয়েছে সেটি ভোক্তা বা গ্রাহকের ওপরই বর্তাবে বলে জানিয়েছেন দেশের সেলফোন ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএমপিআইএ) সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শহিদ। তিনি বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে সেলফোনের দাম অন্তত ১০-১৩ শতাংশ বেড়েছে। ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের কারণে ভবিষ্যতে গ্রাহকদের বর্তমানের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি দামে সেলফোন কিনতে হবে।