আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৪ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রস্তাবিত অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ সাড়ে ১২ শতাংশ বাড়ছে। তবে মোট বাজেটে বরাদ্দের হার চলতি অর্থবছরের মতো ৫ দশমিক ৪ শতাংশই রয়েছে। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতকে আলাদা করে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। প্রতি বছরের মতো জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ খাতকে অবহেলিত রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও তাতে গুরুত্ব দেয়া হয়নি।
গতকাল জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা, যা প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বেড়ে ২৯ হাজার ২৮১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়বে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ৬ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও আসন্ন বাজেটে ৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিভাগে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে ৭৬৫ কোটি টাকা।
বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য মোট ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে ৪ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত মোট ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের মতো আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও স্বাস্থ্য গবেষণায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সমন্বিত স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিলের আওতায় এ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, এ অর্থ দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণার অবকাঠামো তৈরি ও গবেষণা কার্যক্রম প্রবর্তন করা, গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশের স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, অণুজীব বিদ্যা, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতের নতুন উদ্ভাবনের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। তহবিল কার্যকরভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্যে ‘সমন্বিত স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল কার্যক্রম পরিচালনা সম্পর্কিত নীতিমালা-২০২০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ খাতে প্রস্তাবিত এ বরাদ্দ বাজেটে ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, টাকার অংকে অন্যান্য বছরের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়লেও মূল বাজেটের তুলনায় তা সামান্য।
এদিকে নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জরুরি প্রয়োজন মেটাতে গত অর্থবছর ও চলতি অর্থবছরে ১০ হাজার কোটি টাকা করে থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তবে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমিয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপনায় বলেন, স্বাস্থ্য খাতের যেকোনো জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য দুই বাজেটেই আমরা ১০ হাজার কোটি টাকা করে থোক বরাদ্দ রেখেছিলাম। আগামী অর্থবছরেও স্বাস্থ্য খাতের জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, প্রতি বছর বিভিন্ন পণ্যের ক্রয়মূল্য বাড়ে, বেতন বাড়ে, তাই এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কিছু উপজেলায় মাতৃত্বকালীন সুবিধা প্রকল্পের সম্প্রসারণ ছাড়া বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে নতুনত্ব নেই। চলতি বাজেটের চেয়ে প্রস্তাবিত বাজেট ১৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে এবার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১২ শতাংশ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বাজেটের প্রবৃদ্ধি মোট বাজেটের চেয়ে কম। গবেষণার জন্যও চলতি বাজেটের চেয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।





