বর্তমান কাস্টমারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেই তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, মাইক্রোওয়েভ বা ইলেকট্রিক ওভেন, ব্লেন্ডার বা গ্রাইন্ডার, টোস্টার, ওয়াটার হিটার, সাবস্যান্ডউইচ মেকারসহ একাধিক পণ্য। ঈদ উপলক্ষে দেশী-বিদেশী নানা ব্র্যান্ডের পণ্যে চলছে বিশেষ ছাড়। বাজার ঘুরে দেখা যায় এবার ঈদের ইলেকট্রনিকস পণ্যের মধ্যে টেলিভিশন, ফ্রিজ ও এসির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে বিভিন্ন কোম্পানিও দিচ্ছে নানা অফার।

এবার ঈদে ইলেক্ট্রো মার্ট ‘ঈদ বোনাস অফার’ ক্যাম্পেইনে দিচ্ছে বিশাল ছাড়। তাদের শোরুম থেকে এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন অথবা এলইডি কিনলে পাবেন ১২ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। পাশাপাশি ‘ঈদ বোনাস কার্ড’ নামক একটি কার্ড দিচ্ছে তারা যে কার্ডটি পরবর্তী ক্রয়ের ক্ষেত্রে আরো অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ডিসকাউন্ট পাওয়া যাবে। একজন কাস্টমার ঈদ উপলক্ষে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট উপভোগ করতে পারবেন।

এছাড়া দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন সিজন-১৭তে ওয়ালটন ফ্রিজ, টিভি, এয়ারকন্ডিশনার এবং ওয়াশিং মেশিন কিনে  ১০১টি পণ্য ফ্রি এবং ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ ভাউচার কিংবা নিশ্চিত উপহার দিচ্ছেন ক্রেতাদের। এরই মধ্যে অনেকেই পেয়েছেন ১০১টি ফ্রি পণ্য। মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেডের সব প্লাজায় চলছে অফার ‘মিশন মিলিয়নিয়ার’ সিজন-৩। এ ক্যাম্পেইনে ক্রেতারা দেশব্যাপী যমুনা প্লাজা কিংবা ডিলারশপে পণ্য কেনার সঙ্গে সঙ্গে পাবেন নিশ্চিত ডিসকাউন্ট, সোনার চেইন, ফ্রিজ, টিভি, এসিসহ লাখ টাকার পুরস্কার। সিঙ্গারের পণ্য কিনলে পাবেন ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশ ব্যাক ও প্রতি সপ্তাহে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সালামি ভাউচার।

ঈদ কেনাকাটায় গ্রাহকের পছন্দের দিক থেকে টেলিভিশনে কনকা, ওয়ালটন, সনি, স্যামসাং শীর্ষে রয়েছে। এয়ারকন্ডিশনার বা এসির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে গ্রী, দেশী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন, জেনারেল, সিঙ্গার ও ভিশন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে রেফ্রিজারেটর। এবার গরমে সেই চাহিদা আরো বেড়েছে। বাসাবাড়িতে রেফ্রিজারেটর ছাড়া যেন চলেই না। প্রতিদিনের বাজার করা থেকে রেহাই পেতে এবং কাঁচা বাজার সবজি, মাছ, মাংস, রাখার জন্য রেফ্রিজারেটরই একমাত্র ভরসা।

বাজারে বিভিন্ন ধরনেররেফ্রিজারেটর পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো হলো ডিপ ফ্রিজার, ডিরেক্ট কুল,  নন-ফ্রস্ট, সাইড বাই সাইড, টপ মাউন্ট, বটম মাউন্ট, আপরাইট ও সেমিকমার্শিয়াল সিরিজের ফ্রিজ। ইলেক্ট্রো মার্টের কনকা ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে ১৬৫ থেকে ৬১৬ লিটার পর্যন্ত। এসব ফ্রিজের দাম ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। বর্তমানে বাজারে ১৪ হাজার ৯৯০ টাকা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৯০ টাকার মধ্যে ওয়ালটনের বিভিন্ন ধারণক্ষমতার দুই শতাধিক মডেলের ফ্রিজ রয়েছে। এলজি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে ২২৭ লিটার থেকে ৬৯৪ লিটার পর্যন্ত। এক্ষেত্রে দাম পড়ছে ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। যমুনার সব ধরনের রেফ্রিজারেটরে রয়েছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যছাড়।

বাজারে এখন স্মার্ট টিভির জয়জয়কার। কনকা বাজারে নিয়ে এসেছে ভয়েস কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট টিভি। ফলে গ্রাহক কথা বলেই টিভিতে বিভিন্ন কমান্ড দিতে পারবেন। ইউটিউবে কোনো কনটেন্ট খুঁজতে রিমোটে টাইপ করতে হবে না। গ্রাহকের হ্যান্ডসেটে ইনস্টলকৃত ই-শেয়ার অ্যাপসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে স্মার্ট টিভি। ই-শেয়ার থেকে গ্রাহক তার সুবিধামতো কি রিমোট, টাচ রিমোট, মাউস ও এয়ার মাউস রিমোট ফরম্যাটগুলো বেছে নিতে পারবেন। সিঙ্গারের বেসিক টিভির দাম ১৪ হাজার ৪৯০ টাকা থেকে শুরু। ক্রিস্টাল ইউএইচডি স্মার্ট টিভির দাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ট্রান্সটেক রাওয়া ৪৩ ইঞ্চি টিভির দাম ৪৪ হাজার ৯৯০ টাকা, ৩২ ইঞ্চি প্যানেল রেজল্যুশন টিভির দাম পড়বে ২১ হাজার ৫০০ টাকা, ৬৫ ইঞ্চি ফোরকে ইউএইচডির দাম ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ওয়ালটনের বেসিক এলইডির দাম ২০ হাজার ৪০০ টাকা, ফোরকে আল্ট্রা এইচডি টিভির দাম ৪৭ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। কনকার ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি ১৮ হাজার এবং ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট এলইডির দাম ২২ হাজার টাকা।


পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা জার্মান ওয়েব পোর্টাল স্ট্যাটিস্টার হিসাব বলছে, বাংলাদেশে এসি বিক্রির পরিমাণ বছর বছর বাড়ছে। ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এসির বাজার। শুধু করোনা শুরুর বছর ২০২০ সালে বিক্রিতে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। সে বছর লকডাউনের কারণে অফিস-আদালত বন্ধ ছিল, রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ ছিল। ফলে এসির চাহিদাও কমে যায়। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হলে পরের বছরই তা আবার বেড়ে যায়। বিক্রিও ভালো হয়। বাজার ঘুরে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়, ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দামের এসির চাহিদা বেশি। এছাড়া গ্রাহকেরা সহজ মাসিক কিস্তিতে এসি কিনছেন। দেশে এসি উৎপাদন ও বাজারজাতে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইলেক্ট্রো মার্ট, ওয়ালটন, ট্রান্সকম, এসকোয়্যার ইলেকট্রনিকস, সিঙ্গার বাংলাদেশ, বাটারফ্লাই, র্যাংগস ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল, মিনিস্টার, ভিশন, এলজি প্রাণসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

বাজারে ব্র্যান্ডভেদে এক টনের এসির দাম ৫০-৬০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রেও ঈদ সামনে রেখে ব্র্যান্ডভেদে দেয়া হচ্ছে নানা ছাড়। গ্রীর ইনভার্টার ছাড়া এক টন এসির দাম ৫০ হাজার ৫০০ টাকা, দেড় টন ৬৬ হাজার ৬৯০, দুই টন ৮১ হাজার ৯৯০, ইনভার্টারসহ এক টন এসির দাম ৬৮ হাজার ৪০০ টাকা, দেড় টন ৭৮ হাজার ৩৯০ টাকা, দুই টন ৯৩ হাজার ২৮০ টাকা, আড়াই টন ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং তিন টন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। তবে এসবের সঙ্গে ঈদ বোনাস অফারে পাবেন সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। দেশী ব্র্যান্ড ওয়ালটনের এক টন এসির দাম ৩৯ হাজার থেকে ৪১ হাজার, দেড় টনের এসি ৫৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার, এসি দুই টন ৬৬ থেকে ৮২ হাজার টাকা, আড়াই টনের এসি ৮৩ হাজার টাকা। যমুনা এসি কিনলেই পাবেন সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৫৭০ টাকা পর্যন্ত মূল্যছাড়সহ ইনস্টলেশন সুবিধা।

ইলেক্ট্রো মার্টের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার মো. জুলহক হোসাইন বলেন, ‘আমরা সবসময়ই কাস্টমারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের অফার দিয়ে থাকি। এবার ঈদেও ঠিক এ রকম কাস্টমারের কথা মাথায় রেখে আমরা অফার দিয়েছি। পাশাপাশি শুধু ঈদ নয় যেহেতু প্রচণ্ড দাবদহ গরম শুরু হয়ে গেছে তাই এসিও যেন মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ক্রয় করতে পারে সেটা মাথায় রেখে আমরা আমাদের অফারগুলো সাজিয়েছি। বর্তমান আমাদের গ্রী এসি বিশ্বে নাম্বার ওয়ান পজিশনে রয়েছে এবং বিভিন্নভাবে গ্রী এসি সার্টিফায়েডকৃত। সম্প্রতি বাংলাদেশে সুপার ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে গ্রী এসি। সর্বশেষ ফুটবল বিশ্বকাপ যেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেই স্টেডিয়ামগুলো গ্রী এসি দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল।

তিনি আরো বলেন, গ্রী এসিতে রয়েছে আইফিল টেকনোলজির মাধ্যমে এসি কম্পোর্টিবল বাতাস প্রবাহিত করে। ঘরের বাইরের টেম্পারেচার ভেতরের টেম্পারেচার, ভেতরে কতজন মানুষ আছে সবগুলো টেম্পারেচার মেজারমেন্ট করে যেই টেম্পারেচারে মানুষ কমফোর্টেবল থাকবে সেই ধরনের টেম্পারেচার সাপ্লাই দেয়। অর্থাৎ মানুষের প্রয়োজন বুঝে বাতাস সাপ্লাই দেয়। গ্রী এসির পাঁচ ধরনের এয়ার ফিল্টার রয়েছে, এর মাধ্যমে ঘরের বাতাসকে পুরোপুরি বিশুদ্ধ করে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে অনেক জায়গায় এসি ব্লাস্ট হয়, তবে গ্রী এসিতে ফায়ার প্রুভ সার্কিট থাকার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেক্ট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী গ্রুপ ইলেক্ট্রো মার্ট ২৫ বছরের অধিক সময়ব্যাপী বাংলাদেশের বাজারে গ্রী এয়ার কন্ডিশনার বিশ্বস্ততা, সুমান ও আস্থার সঙ্গে সরবরাহ ও বাজারজাত করছে। ১৫ বছর ধরে গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী ও ভোক্তাদের আস্থা এবং নির্ভরতার ফলস্বরূপ গ্রী বাংলাদেশের এয়ার কন্ডিশনার বাজারে নাম্বার ওয়ান স্থান দখল করে আছে। প্রতিটি স্বীকৃতিই নতুন দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে যা আগামীর প্রতিটি মুহূর্তে আমাদেরকে আরো দায়িত্বশীল ও কর্ম অনুপ্রেরণা যোগাবে। বিগত সময়ে গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী ও ভোক্তাদের অটল আস্থা এবং নির্ভরতার প্রতি জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা।

ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানে পাওয়া যাবে পছন্দের ওয়াশিং মেশিন। অটো ও ম্যানুয়াল—দুই ধরনের মেশিনই পাওয়া যায়। কেজি হিসেবে ম্যানুয়াল ও অটো ওয়াশিং মেশিনের দামেও রয়েছে ভিন্নতা। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওয়াশিং মেশিনের দাম শুরু ১১ হাজার টাকা থেকে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ওয়াশিং মেশিনের মূল্য সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যেই চলছে ছাড়। চাইলেই ঘরে বসে লুফে নিতে পারেন এসব অফার। অনলাইনে ওয়েবসাইটে ঢুঁ মেরে দেখে নিতে পারেন পণ্যের ফিচার। ফ্রি হোম ডেলিভারি দিচ্ছে অনেকে।