ঈদের কেনাকাটা শুরু করার আগে অনলাইনে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ধরনের জামা-জুতা, প্রসাধনসামগ্রী দেখছিলেন লক্ষ্মীপুরের তানজিলা। হঠাৎ তার চোখে নামকরা একটি ব্র্যান্ডের ড্রেস ভালো লেগে যায়। পোশাকটি তানজিলার এত ভালো লেগে যায় যে সঙ্গে সঙ্গেই অর্ডার দিয়ে দেন অনলাইনে। পছন্দের পোশাকটি হাতে পেয়ে যান নির্ধারিত দিনের মধ্যেই। তাকে পেমেন্ট নিয়েও ভাবতে হয়নি। হাতের মুঠোয় থাকা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বিকাশ থেকে পেমেন্ট করেন তানজিলা, সঙ্গে পান ক্যাশব্যাক। ঘরে বসেই নিজের পছন্দের ঈদ পোশাক, সহজেই পেমেন্ট আর সঙ্গে ক্যাশব্যাক—এমন শপিং এক্সপেরিয়েন্স তানজিলার আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ।

শুধু তানজিলা নয়, তার মতো লাখো গ্রাহক এখন অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন ডিজিটাল পেমেন্টে। অনলাইন কিংবা অফলাইন, ব্র্যান্ডের দোকানসহ ছোট-বড় দোকান থেকে পছন্দের জামা, জুতা, অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্য কিনে ডিজিটাল পেমেন্ট করছেন অসংখ্য ক্রেতা, সঙ্গে উপভোগ করছেন ক্যাশব্যাক।

তানজিলার মতে, জীবন এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। অনলাইন কিংবা শপিং মলে গিয়ে কেনাকাটায় ক্যাশ টাকা নিয়ে ঘুরতে হয় না, নেই ভাংতির ঝামেলা। সহজেই হাতের মুঠোয় থাকা বিকাশে পেমেন্ট করে কেনাকাটা সম্পন্ন করা যায়। শুধু উৎসবের সময়ই নয়, সারা বছরই এখন বিকাশে পেমেন্টে কেনাকাটা করা যায় এবং ক্যাশব্যাকও পাওয়া যায়।

অনেকটা একই কথা বলছেন ডিজিটাল কেনাকাটায় অভ্যস্ত মিরপুরের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম। তার ভাষায়, ‘আমি ডিজিটাল পেমেন্টে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। অনলাইনে পণ্য কেনা থেকে শুরু করে সরাসরি কেনাকাটা, রাইড-শেয়ারের পেমেন্ট, নিত্যপণ্য কিনে পেমেন্ট, ইউটিলিটি বিল দেয়া, ওটিটি প্লাটফর্ম থেকে প্যাকেজ কেনাসহ নানা কিছুই বিকাশে পেমেন্টে করি আমি।’

উল্লেখ্য, এই ঈদেও বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটা করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট কুপন উপভোগ করতে পারছেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ পেমেন্ট করা তিনজন গ্রাহক পাচ্ছেন ১ হাজার পর্যন্ত টাকা ক্যাশব্যাক। এছাড়া রমজান মাসজুড়ে ইফতার ও সাহরিতে নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্টে থাকছে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক।

কেনাকাটায় শুধু গ্রাহকরাই স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছেন তা নয়, স্বস্তি মিলছে বিক্রেতাদেরও। কোনো ভাংতির ঝামেলা ছাড়াই পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারছেন নিমিষেই। তারা বলছেন, বিকাশের মতো ডিজিটাল পেমেন্ট তাদের ব্যবসায়িক লেনদেনকে সহজ করে দিয়েছে কয়েক গুণ।

দেশীয় একটি ফ্যাশন হাউজের মার্চেন্ট আবদুল মান্নান বলেন, ‘ব্যবসার কাছে দ্বিমুখী লেনদেনে বিকাশ ব্যবহার করা যায়। পাইকারদের কাছ থেকে মাল কিনে তাদের বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দেয়া এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে পেমেন্ট নেয়া—উভয় ক্ষেত্রে বিকাশ ব্যবসা সহজ করে দিচ্ছে। মানুষ এখন অনেক বেশি ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ত হচ্ছেন, কিউআর কোড স্ক্যান করে তারা সহজে পেমেন্ট করে ফেলছেন মুহূর্তেই। এটা সময় সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও ভাংতি টাকার ঝামেলা নেই।’

বর্তমানে সারা দেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ছোট-বড় বিকাশ মার্চেন্ট রয়েছে, যেখানে ক্রেতারা বিকাশ অ্যাপ, ইউএসএসডি চ্যানেল বা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারেন। এসব দোকানে খুচরা টাকার ঝামেলা এড়িয়ে ছোট থেকে বড়, যেকোনো অংকের কেনাকাটায় পেমেন্ট করা যাচ্ছে বিকাশ দিয়ে। কেবল পণ্য কেনাকাটা নয় রাইড-শেয়ারিং সেবা, বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমানের টিকিট কেনায় ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিকাশ পেমেন্ট।

অনলাইনে খাবার অর্ডার করে বা বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট গিয়েও ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ততা বাড়ছে। কিউআর কোড স্ক্যান করে বা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই পেমেন্টের সুযোগ থাকায় বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহকদের মধ্যে এ অভ্যস্ততা তৈরি হচ্ছে।

বিকাশের চিফ মার্কেটিং অফিসার মীর নওবত আলী বলেন, ডিজিটাল পেমেন্টের প্রকৃত সুবিধা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম তৈরিতে কাজ করছি। এখন একদম প্রান্তিক উদ্যোক্তারাও পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে পেমেন্ট নিতে পারছেন। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বিকাশ পেমেন্ট কার্যকরী করতে ইকোসিস্টেম তৈরি অব্যাহত রয়েছে। আর ঈদ-পার্বণ সামনে রেখে ক্যাশব্যাকসহ নানা অফারে গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্ট সাশ্রয়ী করতে আমাদের এ উদ্যোগ।

কেনাকাটাকে আরো নিরবচ্ছিন্ন করছে বিকাশের সঙ্গে ব্যাংকের দ্বিমুখী লেনদেনের নেটওয়ার্ক। বর্তমানে দেশের ৪১টি ব্যাংকের নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে এবং বাংলাদেশে ইস্যুকৃত ভিসা ও মাস্টারকার্ড থেকে গ্রাহক নিজেই অ্যাডমানি করে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়ে আসতে পারেন। ফলে কেনাকাটা হয়ে উঠেছে আরো স্বাচ্ছন্দ্যময়।