ক্যাফে তো অনেক ধরনেরই হয়। তবে নতুন ধারা তৈরি করেছে ওয়েলনেস ক্যাফে। একটি নতুন চিন্তা নিয়ে তাদের যাত্রা। শুরু হয়েছিল অতিমারীর সময়। ল্যাব এইড হাসপাতাল থেকেই এর যাত্রা। বদ্ধ অবস্থায় মানুষকে ভালো রাখার চিন্তা থেকে ‘ওয়েলনেস ক্যাফে’ নামটি চিন্তা করেন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারিসা শামীম। পাশাপাশি হাসপাতালে মানুষকে একটা বড় সময় কাটাতে হয় শুধু অপেক্ষা করে। তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ খাবার নিশ্চিতের জন্য শুরু হয় ওয়েলনেস ক্যাফে।

দেশীয় লোকবল, তাজা উপাদান, নতুন স্বাদ ও দামের ক্ষেত্রে সবার আয়ত্তের মধ্যে কফি ও ক্যাফেকে আনতে চেয়েছে ওয়েলনেস ক্যাফে। তাজা উপাদান, সাধারণত্ব, টেকসই মান, স্থানীয় উপাদান, পরিবেশবান্ধব হওয়া, স্থানীয় ও লোকবল, ভোক্তার সন্তুষ্টি, অন্দরসজ্জা, সুগন্ধ ও স্বাস্থ্যবিধি—সাতটি প্যারামিটার নিশ্চিত করে ক্যাফেটি। বলা চলে সাতটি প্যারামিটারই ক্যাফের মূলমন্ত্র। এ নিয়ে পারিসা শামীম বলেন, ‘আমরা তো সবকিছু নিয়ে ভালো থাকি। বিশেষত আমার মনে হয় এ সাত বিষয়ে ভালো থাকাই ওয়েলনেস। আমি বলি আমাদের ওয়েলনেস হলো বেঁচে থাকার গান।’

আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস বদলে যাচ্ছে প্রতিদিন। এ সময় কফি আমাদের প্রতিদিনের পানীয়ের একটি। শহুরে নাগরিক নানা উপলক্ষেই কফি পান করে। আড্ডা বসায় ক্যাফেতে। নাগরিক জীবনে মানুষের সেই অভ্যাসের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে চায় ওয়েলনেস ক্যাফে। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পারিসা বলেন, ‘কভিডের সময় থেকে আমাদের রিক্রিয়েশন বিষয়টা খাওয়া-দাওয়ার দিকে চলে গেছে। রিক্রিয়েশন বলতে এখন এটাই। সে জায়গা থেকেই কফি বা ক্যাফে দিয়ে শুরু করা।’


ল্যাব এইড হাসপাতাল থেকে ওয়েলনেস ক্যাফের শুরু ২০২০ সালে। এ বছর ধানমন্ডিতে প্রথম কফিশপটি যাত্রা করে। পরের বছর আউটলেটের সংখ্যা হয় আট। গত বছর সারা দেশে মোট আউটলেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টি। আউটলেট আছে উত্তরা, মিরপুর-১ ও ২, মালিবাগ, গুলশান, ধানমন্ডি ও দয়াগঞ্জে। ঢাকার বাইরে আরো ১০টি আউটলেট তৈরির পরিকল্পনা হচ্ছে। এর মধ্যে থাকছে নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর জেলা। ওয়েলনেস ক্যাফে কফিকে নিয়ে যেতে চায় নাগরিক জীবনের বাইরে। পারিসা শামীমের ভাষায়, ‘?কফি একটা কমিউনিটি তৈরি করে। শুধু ঢাকা কেন, কফির চাহিদা তো ঢাকার নাগরিকদের বাইরেও আছে। তাদের কাছেও ওয়েলনেসকে পৌঁছাতে চাই।’

ওয়েলনেস ক্যাফে মূলত সুস্বাস্থ্যের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা করেছিল। অতিমারীর পর তারা একটি ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের পরিচিতি তৈরির চেষ্টা করছে। কফিকে তারা পরিচয় করিয়ে দিতে চায় নতুনভাবে। এসপ্রেসো, ক্যাপাচিনো, লাটে, আমেরিকানো ও স্পেশালিটি লাটে নিয়ে তাদের এ যাত্রা। এর বাইরে থাকছে নানা ধরনের স্ন্যাকস। একজন আর্কিটেক্ট হয়েও খাদ্য ও সুস্বাস্থ্য নিয়ে ভাবেন পারিসা শামীম। ভালো খাবারের পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থাটিকে পরিবেশবান্ধব করার চেষ্টা করছে ওয়েলনেস ক্যাফে। পারিসা বলেন, ‘প্যাকেজিং নিয়ে ভাবছিলাম। যে প্যাকেজিংটা করা হচ্ছে সেটা আদৌ ইকো ফ্রেন্ডলি কিনা। এরপর ভাবলাম, এমন প্যাকেজিং শুরু করব যেটা বায়ো ডিগ্রেডেবল। আমরা এক ধরনের নতুন প্যাকেজিং ইন্ট্রোডিউস করতে চাচ্ছি যেটা কর্ন স্টার্চ থেকে তৈরি। ফেলে দেয়ার কিছুদিনের মধ্যে সেটা মাটিতে মিশে যাবে।’

এছাড়া পরিবেশিত স্ন্যাকসে থাকা মোট ক্যালরির পরিমাণ প্যাকেটের গায়ে লিখে দেয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়েলনেস ক্যাফে। মানুষ এরই মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতন কিন্তু সে সচেতনতা বাড়ানো বা সহযোগিতার উদ্দেশ্যেই এ পরিকল্পনা নিয়েছে ওয়েলনেস ক্যাফে।

এক্সপ্রেস, ক্যাফে ও বিস্ত্রো—তিন ধারার আউটলেট আছে তাদের। এর মধ্যে এক্সপ্রেস মূলত দ্রুততম সময়ে কফি ও স্ন্যাকস সরবরাহের চেষ্টা করে। এখানে আগে থেকে বানানো প্রি-প্যাকড স্ন্যাকস পাওয়া যায়। সীমিত মেন্যুর মধ্যে সহজ ও দ্রুততম পেমেন্ট প্রসেস তারা রেখেছে। এক্সপ্রেসের কার্পেট এরিয়া ১০০ বর্গফুট। ক্যাফে তুলনামূলক সময় নিয়ে কাজ করে। এখানে ক্রেতারা বসে কফি খেতে পারবেন। ক্যাফের কার্পেট এরিয়া ৪০০ বর্গফুট। এছাড়া বিস্ত্রোতে আরো বেশি সময় ও আরাম করে কফি, নাশতা ও ভারী খাবার-দাবারের সুযোগ থাকছে। বিস্ত্রোর কার্পেট এরিয়া হবে ৪০০ থেকে ৮০০ বর্গফুট।

পরিবেশনেও ওয়েলনেস ক্যাফে ভিন্নতা রাখে। এবারের ঈদে থাকছে তাদের নতুন একটি আইটেম। এছাড়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বিশ্বকাপ ফুটবল, স্বাধীনতা দিবসকে থিম ধরে তারা তৈরি করেছে ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের কাপ। এ নিয়ে পারিসা বলেন, ‘দেশকে আমি উপস্থাপন করতে চাই। নিজেদের একটা ব্র্যান্ড তৈরির চেষ্টা করছি যে দেশকে বিদেশে উপস্থাপন করবে। কফির কাপেও তাই থাকছে ভিন্নতা। বলা যায়, প্রতি কাপেই থাকছে একটি করে গল্প।’