তমদ্দুন মজলিসের
জন্মের
ইতিহাসের
সঙ্গে
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলনের
জন্ম
ইতিহাস
একাকার
হয়ে
আছে।
তমদ্দুন
মজলিস
জাতীয়
জীবনের
বিকাশে
অনেক
গুরুত্বপূর্ণ
দায়িত্ব
পালন
করলেও
এবং
আদর্শিক
একটি
বহুমাত্রিক
সংগঠন
হিসেবে
পরবর্তী
সময়ে
আত্মপ্রকাশ
করলেও
প্রথমে
কেবল
বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা
করার
একমাত্র
উদ্দেশ্যকে
সামনে
রেখেই
সংগঠনটির
জন্ম
হয়েছিল।
মজলিসের
মূল
প্রতিষ্ঠাতা
অধ্যাপক
(পরে প্রিন্সিপাল)
আবুল
কাসেম
ছিলেন
বাংলাভাষার
স্বপ্নবিহারি
এক
জাগ্রতবিবেক,
বাংলা
ভাষার
উন্নয়ন
ও
মর্যাদা
প্রতিষ্ঠাই
ছিল
যার
আজীবন
লালিত
স্বপ্নসাধনা।
মাতৃভাষার
বিকাশ
ছাড়া
জাতির
বিকাশ
সম্ভব
নয়,
এমন
একটি
ধারণা
তার
ছিল।
মূলত
সে
ধারণা
থেকেই
বাংলাভাষার
রাষ্ট্রীয়
মর্যাদা
প্রতিষ্ঠার
সংগ্রামে
তিনি
আত্মনিবেদন
করেছেন।
তমদ্দুন
মজলিস
শুরুতেই
তার
গতিশীল
নেতৃত্বে
সেই
ভাষিক
দাবিকে
সামনে
এনে
এ
দেশে
একটি
প্রগতিশীল
জাতীয়
আন্দোলনে
দেশবাসীকে
ঐক্যবদ্ধ
করার
প্রয়াস
পায়।
ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক অফিস:
৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
তারিখে
মজলিসের
অফিস
স্থাপিত
হয়
১৯
নম্বর
আজিমপুরে
অধ্যাপক
আবুল
কাসেমের
বাসভবনে।
এটিই
ছিল
ভাষা
আন্দোলনের
প্রাথমিক
অফিস।
ভাষা
আন্দোলনের
সূচনা
হয়
১৯
নম্বর
আজিমপুর
থেকে।
এজন্যে
১৯
নম্বর
আজিমপুরকে
ভাষা
আন্দোলনের
সূতিকাগার
বলেছেন
ভাষাসৈনিক
অ্যাডভোকেট
গাজীউল
হক।
এই
১৯
নম্বর
আজিমপুর
ছিল
একাধারে
অধ্যাপক
আবুল
কাসেমের
বাসভবন,
তমদ্দুন
মজলিস
অফিস,
ভাষা
আন্দোলনের
অফিস
এবং
ভাষাসৈনিকদের
মিলনক্ষেত্র।
ভাষা
আন্দোলনের
মাধ্যমে
পাকিস্তান-উত্তর
যে
প্রগতিশীল
আন্দোলন
দানা
বেঁধে
ওঠে,
১৯
নম্বর
আজিমপুর
ছিল
তার
কেন্দ্রবিন্দু।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের
অনুশীলন
হতো
এই
স্থানে।
ভাষা আন্দোলনের ঘোষণাপত্র প্রকাশ (১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭): রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের
দাবিকে
সামনে
এনে
তমদ্দুন
মজলিস
গঠিত
হয়েছিল
বিধায়
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
দাবির
যৌক্তিকতা
তুলে
ধরে
ভাষা
-আন্দোলনের দিকনির্দেশনা
সংবলিত
একটি
ঘোষণাপত্র
প্রকাশের
প্রয়োজনীয়তা
দেখা
দিয়েছিল।
অত্যন্ত
দ্রুততার
সঙ্গে
এ
ঘোষণাপত্র
প্রণয়ন
ও
প্রকাশের
পদক্ষেপ
নেয়া
হয়।
১৫
সেপ্টেম্বর
১৯৪৭
তারিখ
সকালে
১৯
নং
আজিমপুর
রোডের
তমদ্দুন
মজলিস
অফিসে
অধ্যাপক
আবুল
কাসেম
ভাষা
আন্দোলনের
ঘোষণাপত্র
পাঠ
করেন।
এ
সময়
উপস্থিত
ব্যক্তিদের
মধ্যে
ছিলেন
সৈয়দ
নজরুল
ইসলাম
(পরবর্তীকালে বাংলাদেশের
প্রথম
অস্থায়ী
রাষ্ট্রপতি),
এ
কে
এম
আহসান
(পরবর্তীকালে সিএসপি
অফিসার),
শামসুল
আলম
(ভাষা আন্দোলনের
দ্বিতীয়
আহ্বায়ক),
আবদুল
মতিন
খান
চৌধুরী
(পরবর্তী সময়ে
বিচারপতি),
কবি
মোফাখখারুল
ইসলাম,
অধ্যাপক
নূরুল
হক
ভূঁইয়া
(ভাষা আন্দোলনের
প্রথম
আহ্বায়ক),
আবদুল
মান্নান,
আব্দুর
রহমান
চৌধুরী
(পরে বিচারপতি),
ফজলুর
রহমান
ভুইয়া
(পরে এমএলএ
ও
অ্যাডভোকেট)
প্রমুখ।
ঘোষণা
পাঠ
শেষে
উপস্থিত
নেতা-কর্মীদের
বাংলাকে
পাকিস্তানের
অন্যতম
রাষ্ট্রভাষা
করার
দাবিতে
আন্দোলন
গড়ে
তোলার
জন্য
শপথবাক্য
পাঠ
করান
অধ্যাপক
আবুল
কাসেম।
প্রথম সিম্পোজিয়াম (১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭): রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের
ঘোষণাপত্র
পুস্তিকা
প্রকাশের
পর
১৫
সেপ্টেম্বর
১৯৪৭
তারিখে
বিকাল
৪টায়
সরকারি
ইন্টারমিডিয়েট
কলেজ
(বর্তমান ঢাকা
কলেজ)
ছাত্রাবাস
‘নূপুর
ভিলা’য়
তমদ্দুন
মজলিসের
প্রথম
সিম্পোজিয়াম
অনুষ্ঠিত
হয়।
সিম্পোজিয়ামে
সভাপতিত্ব
করেন
জ্ঞানতাপস
ড.
মুহম্মদ
শহীদুল্লাহ।
অংশগ্রহণকারীদের
মধ্যে
ছিলেন
অধ্যাপক
আবুল
কাসেম,
ড.
কাজী
মোতাহার
হোসেন,
প্রিন্সিপাল
ইবরাহিম
খাঁ,
কবি
জসীমউদ্দীন,
ইতিহাসবিদ
কাজী
আকরাম
হোসেন,
পদার্থবিদ
অধ্যাপক
শামসুল
হক,
শাহেদ
আলী
ও
সানাউল্লাহ
নুরী।
এ
সেমিনারে
ভাষা
আন্দোলনের
ঘোষণাপত্র
পুস্তিকা
‘পাকিস্তানের
রাষ্ট্রভাষা
বাংলা—না
উর্দু?’
এর
বক্তব্যের
আলোকে
করণীয়
ও
কর্মপন্থার
ব্যাপারে
আলোচনা
হয়।
যৌক্তিকভাবে
গণতান্ত্রিক
প্রক্রিয়ায়
বৈজ্ঞানিক
পন্থায়
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
দাবি
আদায়ের
কর্মকৌশল
সম্পর্কে
সুধীজন
নিজ
নিজ
মতামত
দেন
সিম্পোজিয়ামে।
সিম্পোজিয়ামটি
ঘরোয়া
পরিবেশে
অনুষ্ঠিত
হয়েছিল।
তমদ্দুন
মজলিস
বুদ্ধিবৃত্তিক
প্রক্রিয়ায়
আন্দোলন
পরিচালনায়
বিশ্বাসী
ছিল।
আলোচ্য
সিম্পোজিয়াম
অনুষ্ঠানের
লক্ষ্যও
ছিল
তাই।
ভাষা আন্দোলন সংগঠনে সাংগঠনিক পক্ষ পালন
(১৬-৩০
সেপ্টেম্বর ১৯৪৭):
১৯৪৭ সালের ৭
সেপ্টেম্বর
তারিখে
তমদ্দুন
মজলিস
অফিস
উদ্বোধন
অনুষ্ঠানের
দিন
১৯
নম্বর
আজিমপুরে
অধ্যাপক
আবুল
কাসেমের
বাসভবনে
তমদ্দুন
মজলিস
কেন্দ্রীয়
কমিটির
এক
বৈঠকে
১৬
থেকে
৩০
সেপ্টেম্বর
পর্যন্ত
সাংগঠনিক
পক্ষ
পালনের
সিদ্ধান্ত
ঘোষণা
করা
হয়।
সাংগঠনিক
পক্ষ
পালনের
মূল
উদ্দেশ্য
ছিল
ভাষা
আন্দোলন,
তমদ্দুন
মজলিসের
আদর্শ-উদ্দেশ্যের
পক্ষে
জনমত
গঠন
এবং
মজলিসের
পরিধি
সম্প্রসারণ।
সাংগঠনিক
পক্ষ
পালনের
সময়
মজলিস
নেতারা
ঢাকা
শহর
ও
তত্কালীন
পূর্ব
বাংলার
বিভিন্ন
স্থান
সফর
করেন।
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
হলসমূহ,
ঢাকার
প্রধান
প্রধান
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,
ছাত্রাবাস
বা
হোস্টেলসমূহে
তমদ্দুন
মজলিসের
পক্ষে
প্রচার
চালানো
হয়
এ
সময়।
ভাষা
আন্দোলনের
ঘোষণাপত্র
পুস্তিকাটি
বিতরণ
করা
হয়
বিভিন্ন
স্থানে।
এ
সময়
ঢাকা
ও
ঢাকার
বাইরে
মজলিসের
শাখা
গঠিত
হয়।
মাসব্যাপী গণসংযোগ ও আইন
পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় (১-৩১
অক্টোবর ১৯৪৭):
তমদ্দুন
মজলিস
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলনের
ঘোষণা
দেয়ার
পর
ওই
আন্দোলনের
পক্ষে
জনমত
গঠনের
পাশাপাশি
আইনসভার
সদস্যদের
সক্রিয়
সমর্থন
আদায়ের
প্রচেষ্টায়
প্রবৃত্ত
হয়।
এজন্যে
১৯৪৭
সালের
১
থেকে
৩১
অক্টোবর
পর্যন্ত
গণসংযোগ
ও
আইনসভার
সদস্যদের
সঙ্গে
মতবিনিময়ের
জন্য
এক
মাসব্যাপী
কর্মসূচি
গ্রহণ
করা
হয়।
এ
সময়
তমদ্দুন
মজলিসের
নেতা-কর্মীরা
ঘরে
ঘরে
গিয়ে
বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা
করার
যৌক্তিকতা
তুলে
ধরেন।
এ
সময়
লিফলেট,
হাতে
লেখা
পোস্টার
ও
ভাষা
আন্দোলনের
ঘোষণাপত্র
পুস্তিকা
বিতরণ
করা
হয়।
গুরুত্বপূর্ণ
স্থান
ও
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
হাতের
লেখা
পোস্টার
লাগিয়ে
দেয়া
হয়।
তারা
আইনসভার
সদস্য
এবং
মন্ত্রিসভার
সদস্যদের
সঙ্গে
দেখা
করে
বাংলা
ভাষা
করার
দাবির
প্রতি
তাদের
সমর্থন
আদায়ের
চেষ্টা
করেন।
তারা
মন্ত্রিসভার
সদস্যদের
কাছে
সরকারি
কাজে
এবং
মুদ্রিত
বিভিন্ন
কাগজপত্রে
বাংলা
ভাষা
উপেক্ষিত
হওয়ার
কারণ
জানতে
চান।
বাংলা
ভাষাকে
রাষ্ট্রভাষা,
সরকারি
ভাষা
এবং
শিক্ষার
মাধ্যম
হিসেবে
চালু
করতে
হলে
বিষয়টি
সম্পর্কে
সরকারি
মহলের
উদ্যোগ
গ্রহণ
যেমন
প্রয়োজন,
তেমনি
এ
কাজে
জনগণের
সক্রিয়
সহযোগিতার
প্রয়োজনীয়তা
অনস্বীকার্য;
কিন্তু
সরকার
যখন
বাংলা
ভাষার
প্রসঙ্গ
বাদ
দিয়ে
উর্দুর
প্রতি
ঝুঁকে
পড়েছে,
তখন
সরকারকে
ভুল
পথ
থেকে
ফেরানোর
জন্য
মন্ত্রিসভার
সদস্য
এবং
আইন
পরিষদ
সদস্যদের
মাধ্যমে
পূর্ব
বাংলার
মানুষের
বিক্ষুব্ধ
মনোভাব
তুলে
ধরা
আবশ্যক
হয়ে
পড়ে।
মজলিস
নেতারা
সে
কাজটি
করেছেন
পুরো
অক্টোবর
মাসে।
তমদ্দুন
মজলিস
নেতারা
পর্যায়ক্রমে
পূর্ব
পাক
প্রধানমন্ত্রী
খাজা
নাজিমুদ্দিন
এবং
মন্ত্রী
হবিবুল্লাহ
বাহার,
গিয়াসউদ্দীন
পাঠান,
নূরুল
আমীন,
মাহমুদ
হাসান,
সৈয়দ
মো.
আফজাল
প্রমুখের
সঙ্গে
আলোচনায়
মিলিত
হন।
তারা
পাকিস্তানের
শিক্ষামন্ত্রী
ফজলুর
রহমান
এবং
পাকিস্তান
গণপরিষদ
সদস্যদের
কয়েকজনের
সঙ্গে
আলোচনায়
মিলিত
হন।
এদের
মধ্যে
রয়েছেন
ধীরেন্দ্রনাথ
দত্ত,
আবুল
খায়ের,
আবদুল্লাহিল
বাকি,
আনোয়ারা
খাতুন,
তোফাজ্জল
আলী,
আলী
আহমদ
খান
প্রমুখ।
আইনসভার
সদস্যদের
অনেকেই
তমদ্দুন
মজলিসের
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
দাবির
প্রতি
সমর্থন
প্রদান
করেন
এবং
আইনসভার
বৈঠকে
ও
সরকারি
নীতিনির্ধারণী
পর্যায়ে
এ
ব্যাপারে
যথাযথ
ভূমিকা
রাখার
প্রতিশ্রুতি
দেন।
সরকারের
নির্বাহী
বিভাগ
ও
লেজিসলেটিভ
বিভাগ
ছাড়াও
সমাজের
গুরুত্বপূর্ণ
ব্যক্তিদের
সঙ্গে
মজলিস
নেতারা
বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা
করার
যৌক্তিকতা
সম্পর্কে
আলোচনায়
মিলিত
হন।
তারা
পর্যায়ক্রমে
পত্রিকার
সম্পাদক,
বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভাইস
চ্যান্সেলর
ও
অধ্যাপক,
বিভিন্ন
কলেজের
প্রিন্সিপাল,
প্রতিষ্ঠিত
সাহিত্যিক,
সাংবাদিক,
শিল্পী,
কবি,
ছাত্রনেতা
প্রমুখের
সঙ্গে
আলোচনা
করে
বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা
করার
দাবির
প্রতি
একটি
কনসাসনেস
জাগ্রত
করতে
সমর্থ
হন।
কয়েকজন
উর্দুভাষী
ব্যক্তিত্বকেও
তারা
বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা
করার
দাবির
যৌক্তিকতা
সম্পর্কে
বোঝাতে
সক্ষম
হন।
অধ্যাপক
রেয়াত
খান
তাদের
মধ্যে
একজন।
তিনি
উর্দুভাষী
হয়েও
বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা
করার
পক্ষে
অবস্থান
গ্রহণ
করেন,
বক্তব্য
রাখেন
ও
বিবৃতিতে
স্বাক্ষর
করেন—এমনকি
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদের
সদস্যপদ
পর্যন্ত
গ্রহণ
করেন।
বস্তুত,
১৯৪৭
সালের
অক্টোবর
মাসে
তমদ্দুন
মজলিসের
গণসংযোগ
কর্মসূচির
মাধ্যমে
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
দাবির
প্রতি
সমাজের
প্রতিনিধিত্বকারী
ব্যক্তিদের
মধ্যে
একটি
আলোচনার
পরিবেশ
তৈরি
হয়।
এতদিন
তমদ্দুন
মজলিস
একা
যে
বিষয়টি
সম্পর্কে
ভাবত,
অক্টোবরের
গণসংযোগের
পর
সে
বিষয়টির
ওপর
আরও
ভাববার
এবং
কথা
বলার
অনেক
সাথি
তারা
সংগ্রহ
করতে
সমর্থ
হন।
সমাজের
সর্বস্তরে
কেউ
না
কেউ
তাদের
বক্তব্য
সমর্থন
করেছেন,
আবার
কেউ
প্রত্যাখ্যান
করেছেন;
কিন্তু
তারা
চলার
পথ
বন্ধুর
ভেবেও
থেমে
থাকেননি।
তারা
নয়া
কৌশলে
নতুনভাবে
কর্মসূচি
গ্রহণ
করে
সামনের
দিকে
অগ্রসর
হওয়ার
চেষ্টা
করেছেন।
রশিদ বিল্ডিংয়ে ভাষা আন্দোলন অফিস স্থানান্তর (১ নভেম্বর ১৯৪৭): তমদ্দুন মজলিস
প্রাথমিকভাবে
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক
একটি
সংগঠন
হিসেবে
আত্মপ্রকাশ
পায়।
অধ্যাপক
আবুল
কাসেমের
বাসভবনের
১৯
নম্বর
আজিমপুরের
কেন্দ্রীয়
অফিসটি
অপেক্ষাকৃত
দূরে
হওয়ার
কারণে
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
সন্নিকটে
একটি
অফিস
স্থান
ভাড়া
নেয়ার
প্রচেষ্টা
চালানো
হয়।
অবশেষে
তত্কালীন
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
আমতলার
কাছে
(বর্তমান ঢাকা
মেডিকেল
কলেজের
ইমারজেন্সি
বিভাগের
পূর্ব
দিকে)
রশিদ
বিল্ডিংয়ের
দোতলায়
অফিসের
জন্য
একটি
রুম
পাওয়া
যায়।
১
নভেম্বর
১৯৪৭
তারিখে
রশিদ
বিল্ডিংয়ে
ওই
রুমে
তমদ্দুন
মজলিস
অফিস
স্থানান্তরিত
হয়।
তমদ্দুন
মজলিসের
যাবতীয়
কার্যক্রম
এবং
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলন
এ
অফিস
থেকেই
জোরদারভাবে
পরিচালিত
হতে
থাকে।
রশিদ
বিল্ডিং
পর্যায়ক্রমে
ভাষা
আন্দোলনের
নেতা,
সাহিত্যিক,
বুদ্ধিজীবী
ও
মজলিসকর্মীদের
পদচারণে
মুখরিত
হয়ে
ওঠে।
প্রতিদিন
বিকালে
ওই
মজলিস
অফিসে
সাংস্কৃতিক
কর্মী,
সাহিত্যিক,
বুদ্ধিজীবী
ও
ভাষাসৈনিকদের
আড্ডা
বসত।
রশিদ
বিল্ডিংয়ে
অফিস
স্থাপনের
পর
তমদ্দুন
মজলিসের
কার্যক্রমের
ওপর
সরকারি
মহলের
নজরদারি
বেড়ে
যায়।
বিভিন্ন
সময়
ওই
অফিসে
পুলিশ
অনাবশ্যকভাবে
ঢুকে
পড়ত
এবং
কর্মীদের
সঙ্গে
হয়রানিমূলক
আচরণ
করত।
পুরান
ঢাকার
অবাঙালিরাও
এ
অফিসটিকে
ভালো
দৃষ্টিতে
দেখত
না।
তাদের
দ্বারা
অফিসটি
কয়েক
দফা
আক্রান্তও
হয়েছিল।
এম এ বার্ণিক: ভাষা আন্দোলন বিষয়ক গবেষক





