বর্তমান সময়ের অন্যতম মুখরোচক ও জনপ্রিয় পানীয় চায়ের ইতিহাস নিয়ে মতান্তর থাকলেও এ পানীয়র প্রচলন যে প্রথমে চীন দেশে হয়েছিল, সে বিষয়ে ভিন্নমতের অবকাশ কম। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় দুই হাজার বছর আগে চীনে চায়ের প্রচলন হয়েছিল। এ বিষয়ে অবশ্য একাধিক কিংবদন্তি চালু রয়েছে।

উপমহাদেশে চা আবিষ্কার ও এর আবিষ্কারক: বিসি এলেনের আসাম জেলা গেজেটিয়ার্স ভলিউম-২ (সিলেট)-এ আসামে ১৮২৩ সালে বন্য চা আবিষ্কৃত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্যার এডওয়ার্ড গেইটের ‘এ হিস্ট্রি অব আসাম’ (প্রথম ভারতীয় পুনর্মুদ্রণ ২০০৩)-এ অবশ্য ১৮২৪ সালে দেশীয় চায়ের নমুনা হস্তগত হয়েছিল বলে জানা যায়। গেইট সাহেবের মতে, রবার্ট ব্রুস ছিলেন ভারতে চায়ের প্রথম আবিষ্কারক। কিন্তু আসাম অঞ্চলের সিংফো উপজাতির দাবি, তাদের গোষ্ঠীপ্রধান নিংগ্রুলা হচ্ছেন এতদঞ্চলে প্রথম চা আবিষ্কারক। ঐতিহাসিক অমলেন্দু গুহ তাদের এ দাবি সমর্থন করেন। আমীনূর রশীদ চৌধুরী ‘সিলেটের চা শিল্প’ শীর্ষক প্রবন্ধে সিলেটে চা আবিষ্কারক ও সিলেটের প্রথম চা বাগান সম্পর্কে লিখেছেন, ‘১৮৫৬ সালে সিলেটের অস্থায়ী কালেক্টর এসএ গ্লোভার জানান যে, ১৮৫৫ সালে সিলেট জেলায় চায়ের গাছ আবিষ্কার করা হয়েছে এবং এ গাছ আবিষ্কারের জন্য মোহাম্মদ ওয়ারিসকে ৫০ টাকা পুরস্কার দেয়া হয়। এ আবিষ্কার হয় চান্দ-খিরা এলাকায় (এ এলাকা ব্যাডক্লিফ রোয়েদাদের ফলে এখন ভারতের অন্তর্ভুক্ত)। গ্লোভার প্রত্যয়ের সাথে রিপোর্ট দেন যে, এ গাছ এই জেলায় বহু টিলায় পাওয়া যাবে। প্রথমত. চা গাছ খুঁজে পেতে অসুবিধা হচ্ছিল। কারণ লোকেরা জানত না যে, তারা কী খুঁজছে। তাদের ধারণা ছিল, চায়ের গাছ কোনো রকমের খুদে লতাজাতীয় উদ্ভিদ হবে। এর বদলে পাওয়া গেল ৩০, ৪০ ও ৫০ ফুট উঁচু গাছ, যা একজন দুহাত দিয়ে বেড় পেত না। সঙ্গে সঙ্গেই সিলেট শহরসংলগ্ন মালনীছড়ায় প্রথম চা বাগান সৃষ্টি করা হলো। এ মালনীছড়া চা বাগান এখনো সগর্বে বেঁচে আছে। অন্য একটি মত হলো এই যে, টিলাগড়ে অর্থাৎ যেখানে মুরারি চাঁদ কলেজ অবস্থিত, সেখানেই সিলেটের প্রথম চা বাগান স্থাপিত হয়। ডব্লিউডব্লিউ হান্টারের ‘এ স্টেটি-স্টিকেল অ্যাকাউন্ট অব আসাম’ (১৮৭৯) গ্রন্থের মতে, অবশ্য সিলেটে ১৮৫৭ সালে প্রথম লালিছড়া নামের চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়। এ নামে এখন কোনো চা বাগান চালু নেই।

চা শিল্পের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা, বরাদ্দকৃত ভূমি, মোট উৎপাদন ইত্যাদি: এখানে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের চা শিল্পে স্টার্লিং কোম্পানির সংখ্যা ও প্রভাব ধীরে ধীরে কমছে এবং দেশীয় শিল্পপতি ও পুঁজিপতিদের সংখ্যা ও প্রভাব বাড়ছে। বাংলাদেশে চা বাগানের ব্যবস্থাপনা নিম্নোক্ত চার পর্যায়ে ভাগ করা যায়—

১. স্টার্লিং টি কোম্পানি, ২. ন্যাশনাল টি কোম্পানি, ৩. বাংলাদেশ টি বোর্ড ও ৪. বাংলাদেশী নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন চা বাগান।

লক্ষণীয়, স্টার্লিং কোম্পানি ও টি বোর্ডের বাগানগুলো ভূমি ব্যবহার ও হেক্টরপ্রতি উৎপাদন প্রভৃতি ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভালো করছে। ন্যাশনাল টি কোম্পানির ভূমি ব্যবহার মোট ইজারা ভূমির অর্ধেকের কম, হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ও সন্তোষজনক নয়। এসব ক্ষেত্রে প্রাইভেট কোম্পানি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানগুলোর অবস্থা খারাপ এবং কোনো কোনোটি অর্থনৈতিকভাবে প্রায় অলাভজনক অবস্থায় রয়েছে। প্রায় দেড় দশকের ব্যবধানেও অবস্থার তেমন উন্নতি হয়েছে বলে মনে হয় না।

চা শিল্পে নিয়োজিত শ্রমশক্তি: বাংলাদেশীয় চা সংসদ প্রকাশিত ‘বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১১-১২’-এর সূত্রানুযায়ী চা বাগানের মোট জনসংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ৬২৮ হলেও স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট শ্রমিক সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ২৩১। এছাড়া কেরানি, কারিগর ও চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন পুরুষ ১ হাজার ৯৫৩ ও নারী ৮৬৬, সাকল্যে ২ হাজার ৮১৯ জন। এছাড়া স্থায়ী শ্রমজীবীদের ওপর নির্ভরশীল রয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩৮ জন ও অস্থায়ীদের ওপর নির্ভরশীল রয়েছে ৩৪ হাজার ৪২৩ জন। অর্থাৎ সাকল্যে ১ লাখ ২৪ হাজার ২৩১ জন শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল রয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৬১ জন। পরবর্তী পাঁচ বছরে এ সংখ্যা ও হারের খুব একটা হেরফের হয়নি।

মালিক, কর্মচারী ও শ্রমিকের সংগঠন: ব্রিটিশ আমলে ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (আইটিএ) আইনসভাসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মালিকপক্ষের স্বার্থরক্ষার জন্য কাজ করত। পাকিস্তান আমলে সংস্থাটির পরিবর্তিত নাম হয় পাকিস্তান টি অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর স্বাভাবিক পরিবর্তিত নাম হয় বাংলাদেশীয় চা সংসদ।

বাংলাদেশ টি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কমিউনিস্ট প্রভাবিত ‘সিলেট-কাছাড় চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন’। ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত, শ্রীহট্ট জেলা চা বাগান শ্রমিক কংগ্রেস ছিল কংগ্রেস প্রভাবিত। দেশভাগের পর এটির নাম হয় শ্রীহট্ট জেলা চা শ্রমিক ইউনিয়ন। বাংলাদেশ আমলে সংস্থাটির নাম হয় ‘বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন’। ১৯৬৪ সালে সিলেট অঞ্চলের কমিউনিস্ট নেতাদের পোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান চা শ্রমিক সংঘ’। বাংলাদেশ আমলে অবশ্য সংস্থাটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এখানে উল্লেখ আবশ্যক যে, চা বাগানের মালিক, কর্মচারী ও শ্রমিকদের এসব সংগঠন এ শিল্পের বিকাশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রেখে চলেছে।

চা শিল্পের সমস্যা ও সমাধান: এ দেশে নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির ৩ শতাংশ নিয়োজিত রয়েছে চা শিল্পে। চায়ের যন্ত্রপাতি তৈরি ও বিপণন, মোড়ক/বস্তা তৈরি ও প্যাকিং, কীটনাশক উৎপাদন, চা গুদামজাতকরণ, পরিবহন ও চা ব্যবসায় প্রভৃতি খাতে নিয়োজিত পুঁজি ও শ্রমশক্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। এ তরল পানীয় মুখরোচকভাবে গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে হাটবাজারে ও রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য চা স্টল। এতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির সংখ্যাও কম নয়। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৫০টি চা উৎপাদনকারী দেশে উৎপন্ন চায়ের মধ্যে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের উৎপাদন ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০০০ সালে ১ দশমিক ৮ ও ২০০৫ সালে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্বের রফতানির ক্ষেত্রে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০০০ সালে এ অংশগ্রহণ ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। আমাদের চায়ের তুলনামূলক উৎপাদন ও রফতানির ক্ষেত্রে এ ক্রমহ্রাসমানতা লক্ষণীয়। এককালে আমাদের মোট জাতীয় আয়ে চা শিল্পের উল্লেখযোগ্য অবদান থাকলেও ২০০৫ সালের দিকে তা ছিল দশমিক ২২ শতাংশ।

২০১২ সালের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান সাফওয়ান চৌধুরী ইংরেজিতে প্রদত্ত তার বার্ষিক প্রতিবেদনের উপসংহারে উল্লেখ করেন, দেড়শ বছরেরও অধিককাল পুরনো চা শিল্প বর্তমানে দ্রুতবর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ ভোগ, চা রফতানিতে অপ্রত্যাশিত পতন, উৎপাদন হ্রাস, শিল্পটির মৌলিক প্রয়োজনের প্রতি সরকারের স্বল্প সংবেদনশীলতা, অন্য দেশ থেকে নিম্নমানের চায়ের অবাধ আমদানি ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। শিল্পটিকে রক্ষা করতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধভাবে সক্রিয়তার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।

১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত এম. হাবিবুল্লাহ প্রণীত ‘টি ইন্ডাস্ট্রি অব পাকিস্তান’ শীর্ষক গ্রন্থে চা শিল্পের সমস্যা সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছিল। এ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে অনেক পুরনো সমস্যা সমাধান হলেও নতুন নতুন অনেক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। চা শিল্পের সমস্যাগুলোকে নিম্নরূপভাবে চিহ্নিত করা যায়—

১. পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা, ২. চায়ের বস্তা/মোড়ক/বাক্স সরবরাহের সমস্যা, ৩. ভালো বীজের অভাব, ৪. রাসায়নিক সারের অপ্রাচুর্য ও সময়োচিত সরবরাহ, ৫. যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের ঘাটতি, ৬. গুদামের সমস্যা, ৭. প্রয়োজনীয় ঋণ ব্যবস্থার সমস্যা, ৮. অনিশ্চিত বৃষ্টিপাত, ৯. চুরি ও ছিঁচকে চুরি, ১০. উৎপাদনের উচ্চব্যয়, ১১. মূল্যের অস্থিতিশীলতা, ১২. করভারের আধিক্য, ১৩. চা চাষের একরভিত্তিক বাধ্যতামূলক সম্প্রসারণ, ১৪. গবেষণার সীমিত সুযোগ, ১৫. রোগবালাই ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ।

সাম্প্রতিককালে এসব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে— অর্থাভাব, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, শ্রমিক সমস্যা, পয়োনিষ্কাশন ও সেচ সমস্যা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা ইত্যাদি।

সরকার ও সমস্যার সমাধান: আমাদের দেশে চা একটি শ্রমঘন কৃষিভিত্তিক শিল্প হওয়ায় এর সমস্যাবলি যেমন ব্যাপক, তেমনি যথেষ্ট জটিল। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত পদক্ষেপের বিকল্প নেই। চা শিল্পের বিদ্যমান সমস্যার সঙ্গে সরকারি একাধিক সংস্থা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকায় এর সমাধান ও সরকারের ভূমিকাকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। ব্রিটিশ আমলে সরকার চা শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা করলেও পরবর্তী আমলে তা আরো ব্যাপক ও প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে চা বোর্ড ও অন্যান্য সহায়ক সংস্থার ভূমিকা বিবেচনাযোগ্য।

চা বোর্ড: চা শিল্পে সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৫০ সালের প্রাসঙ্গিক আইনের অনুবলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত হয় পাকিস্তান টি বোর্ড। বাংলাদেশ টি বোর্ড আবার পুনর্গঠিত হয়েছিল ১৯৫৯ সালের টি অর্ডিন্যান্স এবং ১৯৭৭ সালের সংশোধনী ও ১৯৮৬ সালের সংশোধনীর অধীনে। বোর্ডের মুখ্য উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে—

১. দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও রফতানি বৃদ্ধি, ২. চায়ের গুণগত মান বৃদ্ধি, ৩. বর্তমান বাজার ধরে রাখা এবং নতুন রফতানি বাজার অনুসন্ধান, ৪. প্যাকেট চায়ের রফতানি বৃদ্ধি, ৫. কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ, ৬. গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট: বিটিআরআই নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ চা বোর্ডের অন্যতম সংস্থা হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত। ১৯৫৩ সালে ঢাকায় পাকিস্তান চা গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলেও পরে তা ১৯৫৭ সালে শ্রীমঙ্গলে স্থানান্তর হয়। ইনস্টিটিউটের লক্ষ্যগুলো হচ্ছে— গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশী চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগত মানোন্নয়ন, চা শিল্পে পরামর্শমূলক সেবা প্রদান, নতুনভাবে উদ্ভাবিত ও ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি হস্তান্তর।

চা বোর্ডের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০০২-২১: বাংলাদেশে চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট ২০০২-২১— দুই দশকের জন্য চা উন্নয়নের একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। তা হচ্ছে— ১. উৎপাদন এলাকা সম্প্রসারণ ও পুরনো চা গাছের স্থলে নতুন চা গাছ লাগানো, ২. রুগ্ণ ও তুলনামূলকভাবে অনুন্নত বাগানের উন্নয়ন, ৩. চা চাষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্প গ্রহণ, ৪ কেনা কাঁচা পাতার ফ্যাক্টরি স্থাপন, ৫. বাগানের পয়োনিষ্কাশন ও সেচের ব্যবস্থাকরণ, ৬. বর্ধিত চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ কারখানাগুলো আধুনিকায়ন, ৭. দক্ষতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশে শ্রমিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ, ৮. বাগানে ভূমির সদ্ব্যবহার ও শস্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়ন, ৯. চা বাগান বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়ন, ১০. চা বাগানের ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান সম্পর্কিত কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ।

চায়ের মতো মুখরোচক পানীয়র স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের স্বার্থের বিষয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিবেশী চা রফতানিকারক দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার বিষয়ও উপেক্ষণীয় নয়। এ শিল্পকে অভ্যন্তরীণ বাজার যেমন ধরে রাখতে হবে, তেমনি রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে হলে চা উৎপাদন বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন যেমন উদ্যোক্তা কিংবা শ্রমিকশ্রেণীর পক্ষে এককভাবে সম্ভব নয়, তেমনি বাংলাদেশ টি বোর্ড প্রভৃতি সংস্থার ওপরও তা ছেড়ে দিলে চলবে না। উদ্যোক্তাশ্রেণী, শ্রমিকশ্রেণী, চা ব্যবসায়ীশ্রেণী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের সুসমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমেই কেবল চায়ের মতো সম্ভাবনাময় শিল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।

লেখক: গবেষক