ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগে ফারসি ভাষায় ‘আহাদিসুল খাওয়ানিন’ নামক চট্টগ্রামের ইতিহাস প্রণেতা ও ইংরেজ কর্মচারী খান বাহাদুর শেখ মোহাম্মদ হামিদউল্লাহ খাঁ বর্তমান খাতুনগঞ্জ এলাকার পার্শ্ববর্তী স্থানে একটি বাজার স্থাপন করেন। পরবর্তীতে এটি হামিদুল্লাহ খাঁর বাজার হিসেবে পরিচিত হয়। হামিদুল্লাহ খাঁ ছিলেন ফারসি ভাষায় প্রথম চট্টগ্রামের ইতিহাস রচয়িতা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চট্টগ্রাম শাসনকালে সুলকবহর এলাকার বাসিন্দা হামিদুল্লাহ খাঁ চট্টগ্রামের ডেপুটি কালেক্টর এবং পরে আলা সদর আমিন বা সাব জজ হয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ের উচ্চশিক্ষিত হামিদুল্লাহ খাঁর স্থাপিত বাজারসংলগ্ন এলাকাটিতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী খাতুন বিবির নিজস্ব জমিতে ক্রমান্বয়ে দোকানপাট স্থাপিত হয়। ওই এলাকায় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে এলাকাটি কালক্রমে খাতুনবিবির নামে খাতুনগঞ্জ হিসেবে নামকরণ হয়। মূলত আছদগঞ্জ, চাক্তাই, কোরবানিগঞ্জ, বক্সিরহাটকে খাতুনগঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কর্ণফুলী নদী পার্শ্ববর্তী হওয়ায় এবং একাধিক খাল ও শাখা নদী খাতুনগঞ্জের অভ্যন্তরে প্রবেশ করায় নৌ-বাণিজ্য আর পণ্য পরিবহন সুবিধার কারণে ব্রিটিশ-পরবর্তী পাকিস্তান আমলে বাজারটি বিস্তৃত হয়। বাংলাদেশের ভোগ্যপণ্যসহ প্রায় সব ধরনের বাণিজ্যে খাতুনগঞ্জ একটি ট্রেডমার্ক হিসেবে পরিচিত। যদিও বর্তমান চাক্তাই নামীয় এলাকায় তুর্কি ‘চুগতাই’ সম্প্রদায়ের বসবাস ও বাণিজ্য আধিপত্য ছিল। তাদের নামানুসারে শব্দ রূপান্তরিত হয়ে চাক্তাই নামকরণ হয়।

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী কিংবা বন্দরনগরী হিসেবে ডাকা হয়। অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার ক্ষেত্রে এই বন্দরনগরীর অবদান অনস্বীকার্য। আদিকাল থেকে বিশ্বের হরেক ব্যবসায়ী, জলদস্যু কিংবা বাণিজ্যতরীবাহী নাবিকের দল চট্টগ্রামের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যের স্বাদ আস্বাদন করে এসেছে। ভিনদেশী বণিক কিংবা নানা ভাষাভাষী মানুষ, আদিবাসী ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ছাড়াও নান বর্ণের মানুষের মিলনমেলা ও বাণিজ্য সম্পর্কের ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গড়ে উঠেছে একটি মাল্টিলিঙ্গুয়াল সোসাইটি (Multilingual Society)। ভিনদেশী বাণিজ্যগোষ্ঠী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের পদচারণায় একসময় খাতুনগঞ্জ একটি বাণিজ্য তীর্থে পরিণত হয়েছিল। আছদগঞ্জ, রামজয় মহাজন লেন, চাক্তাইসহ একাধিক প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের হরেক রকমের বাণিজ্যবৈচিত্র্য খাতুনগঞ্জকে রূপ দিয়েছে অনন্যতায়।

ব্যবসা-বাণিজ্যের নানা পরিক্রমায় বাংলাদেশ যেখানে বিশ্বের কাছে একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগক্ষেত্র। বাংলার নানা ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভ্রূণ তৈরির পেছনে একটিমাত্র বাজার বড় অবদান রেখেছে। ‘বাণিজ্যের আঁতুড়ঘর’খ্যাত খাতুনগঞ্জই চট্টগ্রামকে একটি বড় প্লাটফরম তৈরি করে দিয়েছে সম্ভাবনা আর বাণিজ্য জ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবে। একসময় খাতুনগঞ্জ বাংলাদেশের ভোগ্যপণ্য বাণিজ্যের প্রায় শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করত।

আধুনিক অবকাঠামোর পরিধি ও ডিজিটাল ইন্টারনেটের যুগে যেহেতু বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে, সেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্যের এ কেন্দ্রটি বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটালাইজড হয়েছে। খাতুনগঞ্জকে কেন্দ্র করে আগ্রাবাদ, মাঝিরঘাট, সদরঘাট, ফিরিঙ্গিবাজারসহ চট্টগ্রামের একাধিক এলাকার বাণিজ্য সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় শুধু খাতুনগঞ্জকেন্দ্রিক বাণিজ্যের পরিধি ছড়িয়ে চট্টগ্রামের একাধিক প্রবেশমুখ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ বাণিজ্যে রূপান্তরিত হয়। আন্দরকিল্লা, টেরিবাজার, লালদীঘিরপাড়, ফিশারিঘাট ইত্যাদিও ক্রমেই খাতুনগঞ্জের বাণিজ্য ভাবধারায় বিশেষায়িত পণ্য বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

মূলত প্রাকৃতিক ও আদি বন্দর সুবিধার জন্য একটি বাজার কীভাবে একটি রাষ্ট্রের বাণিজ্য ও অর্থনীতির পথ মসৃণ করে, তা খাতুনগঞ্জ থেকেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষা নেয়া যায়। আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মসলা থেকে শুরু করে বিশ্ববাজার থেকে আমদানিকৃত হরেক পণ্য নিয়ে এই বাজারের ব্যবসায়ীরা যখন চট্টগ্রামের আদি ঢঙে বিকিকিনিতে ব্যস্ত তখন অর্থ লেনদেনের চেয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের নয়া একটি দিক দেখা যায়। একসময় শুধু লুঙ্গি কিংবা স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এলেও বর্তমানেও সেসব চর্চা কেউ কেউ ধরে রেখেছেন। ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্যের মাধ্যমেই ব্যবসায় খাতেখড়ি যেসব ব্যবসায়ীদের, তারাই একসময় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে নিজেদের সম্পৃক্ত করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে শুরু করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশে অবকাঠামো নির্মাণের হার বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইস্পাত পণ্যের চাহিদাও বাড়তে থাকে। পণ্য আমদানির নানাবিধ সুবিধা থাকার দরুন খাতুনগঞ্জ তথা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরাই রড, স্ক্র্যাপ জাহাজ কিংবা নির্মাণসামগ্রী আমদানি কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের একমাত্র ভারী প্রক্রিয়াজাত শিল্প হিসেবে জাহাজ ভাঙা ও ইস্পাত শিল্পের প্রসার শুরু হয় চট্টগ্রাম থেকেই।

অন্যদিকে ১৯৯১ সালের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন চালুর পর দেশে মোড়কজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ শুরু হয়। ওই সময় খাতুনগঞ্জের শীর্ষ ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীরা প্রথম ভোগ্যপণ্য মোড়ক ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবসার প্রবর্তন করেন। এরপর যা সারা দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে যায়। একসময় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী শিল্পগোষ্ঠীগুলো খাতুনগঞ্জ থেকে ব্যবসা শুরু করে বর্তমানে সারা দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে প্রভাবশালী করপোরেট গ্রুপে পরিণত হয়েছে।

খাতুনগঞ্জ থেকে উঠে আসা ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ, মোস্তফা গ্রুপ, কেডিএস গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, পিএইচপি গ্রুপ, পারটেক্স গ্রুপ, নূরজাহান গ্রুপ, বিএসএম গ্রুপ, জিপিএইচ গ্রুপ, আরএসআরএম, কেএসআরএম, এমইবি গ্রুপ, সানোয়ারা গ্রুপ অন্যতম। শুরুতে ক্ষুদ্র পরিসরে ট্রেডিং বাণিজ্যে নাম লিখিয়ে একসময় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপে পরিণত হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যের পাঠশালা হিসেবে ব্যবসায়ীরা খাতুনগঞ্জ থেকে ব্যবহারিক জ্ঞানে পরিশুদ্ধ হয়ে এর পরই শিল্প বিনিয়োগে মনোনিবেশ করার নজির রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসার ধরন, স্বকীয় লেনদেন পদ্ধতি, মহাজনি সুদের লেনদেন ও ট্রেডিংয়ের মতো অনানুষ্ঠানিক ডিও বা সরবরাহ আদেশ প্রথাই এখানকার বাণিজ্যকে একটি নেশায় পরিণত করে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের। ছোটবেলা থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানে ক্ষুদ্র একটি চাকরি দিয়ে শুরু করে ব্যবসা শিখে পরবর্তীতে কোটিপতি ব্যবসায়ী হওয়ার নজির রয়েছে খাতুনগঞ্জের আনাচে-কানাচে। আর এসব মিথ কিংবা বাস্তব সত্যকে পুঁঁজি করে এখনো চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যাকবেঞ্চারস কিশোর-তরুণ খাতুনগঞ্জের যেকোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। কেউ কেউ ট্রেডিং ব্যবসার মাধ্যমে রাতারাতি বিপুল পুঁঁজির মালিক হয়ে যাওয়ার ঘটনা খাতুনগঞ্জকে আরো বেশি রহস্যময় বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত করেছে প্রায় শতবর্ষ ধরে।

দেশের প্রায় সব ধরনের ব্যাংক, বীমা, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা অফিস খাতুনগঞ্জে চালুর মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন প্রজন্ম খাতুনগঞ্জকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে আসছে। সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মৈত্রীর সেতুবন্ধ হিসেবে এখানকার ব্যবসায়ীরা অলিখিত বিশ্বাসের বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে। শুরুতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর অনীহা থাকলেও শেষ পর্যন্ত করপোরেট পুঁঁজি সংগ্রহের ব্যাংক খাতেও অর্থ নিতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। তবে এখনো দৈনিক কিংবা তাত্ক্ষণিক বড় ঋণের প্রধান উত্স হিসেবে টু-টু পদ্ধতি এখানকার ব্যবসায়ীদের প্রধানতম আস্থার নাম। অর্থাত্ কারো যেকোনো পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হলেই সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসায়ী বা মহাজনি কারবারে প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে, যা পরবর্তীতে এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ কিংবা সর্বোচ্চ এক মাস মেয়াদের সুদে গ্রহণ করে। অর্থাত্ ঊর্ধ্বমুখী বাজারে দীর্ঘদিনের বিশ্বাসী কোনো ব্যবসায়ী যেকোনো পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবসার মাধ্যমে দ্রুত ফেরত দিয়ে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। এজন্য কেউ কেউ বিভিন্ন মৌসুম, উত্সব, সংকটকালীন বাণিজ্যের জন্য মুখিয়ে থেকে খাতুনগঞ্জের বাণিজ্যের লেনদেন ভলিউম ধরে রেখেছেন।

একসময় ইনটেন্ডিং পদ্ধতির মাধ্যমে এখানকার ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজার থেকে পণ্য ক্রয় করতেন। অনেক সময় একাধিক  ব্যক্তি একটি বৃহত্ চালান বা জাহাজ ভাড়া করে ভোগ্যপণ্য আমদানি করতেন। কিন্তু বাণিজ্যের প্রসার, পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলসি বা ঋণপত্র খোলার মাধ্যমে পণ্য বাণিজ্যে সম্পৃক্ত হন। তবে দেশে ঢালাওভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর পর ব্যবসায়ীরাও অযাচিতভাবে ঋণ নিতে থাকেন ব্যাংক থেকে। খাতুনগঞ্জের জৌলুসের কথা চিন্তা করে ব্যাংকগুলোও উদারহস্তে ঋণ দিতে থাকে। মাঝে বিভিন্ন ফটকা ব্যবসা, শেয়ারবাজার ধস, এক খাতের ঋণ ভিন্ন খাতে বিনিয়োগ, ব্যাংকের ঋণে ভোগবিলাসসহ একাধিক কারণে নানা সময়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেউলিয়া বা মানুষের পাওনা রেখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্য ব্যবসা প্রায় দুই দশক আগে বিভূতিভূষণ রায় নামে এক ব্যবসায়ী প্রায় ৬ কোটি টাকা বকেয়া রেখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কিছুটা চিড় ধরে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় খাতুনগঞ্জের শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট দেখা দেয়। এ পর্যন্ত শতাধিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। কিন্তু এর পরও কিছুদিনের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা পুরনো লেনদেন পদ্ধতিতে ফিরে যান অনায়াসে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের দায় রেখেও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

খাতুনগঞ্জ থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে করপোরেট দুনিয়ায় পদচারণায় থাকা ব্যবসায়ীরা একসময় চাল-ডাল-নুনের ব্যবসায় থাকলেও এখনো পুরনো বাণিজ্য ধরে রাখার প্রবণতা রয়েছে এখানকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সচেতনতার অভাব, খাতুনগঞ্জের বাণিজ্য নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চর্চা ও ব্যবস্থাপনা সংকট দূর করার কোনো ধরনের পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন বাণিজ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম ক্ষয়িষ্ণুতার দিকে এগিয়ে গেছে। বড় করপোরেটদের অনেকেই সীমিত পরিসরে কার্যক্রম রেখে এখন ভোগ্যপণ্য ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে বিকল্প ব্যবসায় মনোনিবেশ করছে। এছাড়া খাতুনগঞ্জের তৃতীয় প্রজন্মের ব্যবসায়ীরা উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পর আগের মতো ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্যের পরিবর্তে উত্পাদনমুখী শিল্প কিংবা করপোরেট বাণিজ্যেই বেশি আগ্রহী। ফলে চট্টগ্রামের সওদাগরি ব্যবসার মূল কেন্দ্রটি এখন চাকরিজীবী বিশ্বস্ত কর্মীদের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে অনেকাংশে। এছাড়া ব্যবসার ভলিউম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে প্রতি বছর বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, জোয়ারের পানির উপদ্রব খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের আদি বাণিজ্যে অনীহা তৈরি করেছে।

 

লেখক: সাবেক চেয়ারম্যান, পদার্থবিদ্যা বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়