আনুমানিক অষ্টম শতাব্দী থেকেই চট্টগ্রাম ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এ সময় থেকেই আরব-পারস্যের মুসলিম বণিকরা চট্টগ্রামে যাওয়া-আসা শুরু করেন। ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম পরিব্রাজক ইবনে বতুতা চট্টগ্রাম পরিভ্রমণে আসেন। সমগ্র বঙ্গদেশের প্রথম স্বাধীন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের আমলে চট্টগ্রাম বন্দর সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলার সমুদ্রবন্দর হিসেবে ব্যবহূত হয়। এ বন্দরের মাধ্যমের গৌড়ের শাসকরা সমসাময়িক চীন সম্রাটদের কাছে উপহার সামগ্রী পাঠাতেন। দূরপ্রাচ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে বন্দর-শহর চট্টগ্রামের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নৌপথে অন্য দেশের বণিকরা এ দেশে আগমন করে এর বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে অনেকে সমৃদ্ধ করেন। সুলতান গিয়াসুদ্দিন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪০৯) ও অন্যান্য কয়েকজন সুলতানের আমলে চট্টগ্রাম শহর টাঁকশাল শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে। এতে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
পরবর্তীতে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলে এবং ইংরেজ শাসনামলে ব্যবসা-বাণিজ্যে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অব্যাহত থাকে। ব্রিটিশ শাসক কর্তৃক ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলা ও আসাম নিয়ে গঠিত নতুন প্রদেশের একমাত্র বন্দর-শহর ছিল এই চট্টগ্রাম। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বন্দরনগরী এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পায়। বস্তুত অবিভক্ত পাকিস্তানের দুই অংশে দুটি বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পাকিস্তানের করাচি ও পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রাম গড়ে উঠতে থাকে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, মাঝিরঘাট ও স্ট্যান্ড রোড, পরবর্তীতে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। পশ্চিম পাকিস্তানের আর্থিক সম্রাটদের একাধিপত্য মোকাবেলা করার জন্য ৬০ দশকের প্রথম দিকে কিছু স্বাধীনচেতা বাঙালি ব্যবসায়ী চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাঙালিদের প্রথম ব্যাংক ‘ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক’।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টলার কৃতী সন্তান প্রয়াত এমআর সিদ্দিকী চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাঙালিদের প্রথম বীমা কোম্পানি (৬০ এর প্রথম দিকে) ইস্টান ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের বেশ পূর্বে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা শুরু করেছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ দুটি প্রতিষ্ঠান আর থাকেনি চট্টগ্রামে। স্বাধীনতার পর সব ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি জাতীয়করণ করা হলে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইস্টার্ন ব্যাংকের নতুন নাম হয় পূবালী ব্যাংক।
প্রাচীনকাল থেকে খাতুনগঞ্জসহ চট্টগ্রামে শিল্প বাণিজ্যের পুঁজি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে মহাজনি প্রথা।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। ‘বিশ্বাসের লেনদেনই’ এখানকার ব্যবসার মূল ভিত। নগদ অর্থের তাত্ক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে এখানে চালু আছে রহস্যময় এক পদ্ধতি, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে যা ‘টু-টু’ নামে পরিচিত।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শতবর্ষী খাতুনগঞ্জের প্রায় শুরু থেকেই অনানুষ্ঠানিক এ পদ্ধতিতে লেনদেনের প্রচলন ছিল। তবে পদ্ধতিটি ব্যাপক মাত্রা পায় আশির দশকে। তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট দিনে পরিশোধের শর্তে চড়া সুদে ঋণ নিতে থাকেন ব্যবসায়ীরা।
এ পদ্ধতিরও আবার রয়েছে একাধিক ধরন, যেমন: সিঙ্গেল বার-টু-বার, ডাবল বার-টু-বার ও মাস-টু-মাস। সপ্তাহের কোনো একটি দিনে চড়া সুদে নগদ অর্থ নিয়ে পরবর্তী সপ্তাহের একই দিনে সুদসহ ওই অর্থ পরিশোধের পদ্ধতিই হচ্ছে বার-টু-বার। আবার কোনো মাসের যে তারিখে নগদ অর্থ ধার হিসেবে নেয়া হয়, পরবর্তী মাসের একই তারিখে সুদসহ তা ফেরত দেয়াকে বলা হয় মাস-টু-মাস। ১৫ দিনের জন্য অর্থ ধারের পদ্ধতি ডাবল বার-টু-বার নামে পরিচিত।
কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই শুধু বিশ্বাসের ভিত্তিতে এ পদ্ধতিতে ঋণ নেয়া যেত একসময়। তবে প্রতারণামূলক বেশকিছু ঘটনার পর পণ্যের সরবরাহ আদেশ ও ব্যাংকের চেক জমা রেখে নগদ অর্থ দিচ্ছেন এ পদ্ধতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীরা। সাম্প্রতিক সময়ে ভোগ্যপণ্য ব্যবসায় ব্যাংকের রক্ষণশীল আচরণের কারণে লেনদেনের প্রথাগত এ পদ্ধতি আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
টু-টু খাতুনগঞ্জের খুবই উচ্চসুদের সাময়িক ঋণের প্রথাগত ব্যবস্থা। প্রাচীন আমলে ব্যাংকিং লেনদেন না থাকায় ব্যবসায়ীরা এভাবেই অর্থ সংগ্রহ ও লেনদেন করতেন। মাঝে কিছুদিন কমলেও ভোগ্যপণ্যে ঋণ প্রদানে ব্যাংকের কঠোরতার কারণে টু-টু পদ্ধতিতে অর্থ লেনদেন আবার বেড়ে গেছে।
নব্বইয়ের দশকে দেশে ব্যাংকিং খাতের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে খাতুনগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরনও পাল্টে যায়। নগদ অর্থ কিংবা সুদে অর্থ নিয়ে পণ্য আমদানি করলেও অনেকেই ব্যাংকের সহযোগিতা নিয়ে পণ্য আমদানি ও বিপণন শুরু করেন। পরবর্তীতে খাতুনগঞ্জের আস্থার সংস্কৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাংকগুলোও সহজ শর্তে ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে থাকে। পণ্যবাজারে দ্রুত অর্থ ফেরত ও লাভের কারণে দেশের প্রথম সারির বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতুনগঞ্জে শাখা খোলে। তবে বেশকিছু নতুন ও পুরনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কয়েক হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ না করেই দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রক্ষণশীল হয়ে পড়েছে ব্যাংকগুলো। ফলে ফের চাঙ্গা হতে শুরু করেছে টু-টু পদ্ধতির ব্যবসা।
খাতুনগঞ্জে নগদ অর্থের চাহিদা খুব বেশি। ব্যবসার ধরন ও ব্যবসায়িক প্রকৃতির কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের চাহিদা থাকে। একসময় সহজে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া গেলেও বর্তমানে ব্যাংকগুলো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ সুযোগে টু-টু পদ্ধতিতে লেনদেন আবারো জমজমাট হয়ে উঠেছে। ঝুঁকি সত্ত্বেও খাতুনগঞ্জের নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই এ ব্যবসায় যুক্ত থাকায় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
খাতুনগঞ্জে রহস্যময় এ পদ্ধতি জনপ্রিয় হলেও কারা এর মাধ্যমে অর্থ দিচ্ছে, তা জানা যায় না। অর্থ সংকটের বিষয়টি জানাজানি হলে বাকিতে পণ্য ক্রয়ে অসুবিধায় পড়তে হবে, এ ভয়ে ঋণদাতা ও গ্রহীতা কারো নামই প্রকাশ পায় না। তবে খাতুনগঞ্জে এ পদ্ধতিতে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়।
১৯৮৬ সালে বিভূতি ভূষণ রায় নামে এক ব্যবসায়ী ৬ কোটি টাকা বকেয়া রেখে ভারতে পালিয়ে যান। শত বছরের বিশ্বাসের ব্যবসায় ভাঙন শুরু হয় সেদিন থেকেই। এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষভাবে শতাধিক ঘটনায় কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রতারণা হয়েছে খাতুনগঞ্জে। ২০১৩ সালে ইয়াছির এন্টারপ্রাাইজ ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৪৫ কোটি এবং ব্যাংকের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে উধাও হয়ে যায়।
দুই বছর ধরে ব্যাংকের আরো প্রায় হাজার কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বন্ধ করলে প্রতারণার ভিন্ন রূপ বেরিয়ে আসে ব্যবসায়ীদের সামনে। এর পরও প্রাচীন ব্যবসায়িক বিশ্বাসের লেনদেন থেমে নেই। এটি ছাড়া পাইকারি ব্যবসা অচল বলেও দাবি এখানকার ব্যবসায়ীদের। ফলে প্রতারণার একটি ঘটনার কিছুদিন যেতে না যেতেই নতুন বিশ্বাসের পুনরুজ্জীবন ঘটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
আস্থার লেনদেনকে ঐতিহ্য ধরে নিয়েই ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয় খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (কেটিআইএ)। ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনের মূলমন্ত্র ‘সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও মহাশক্তির বন্ধন’। সাদা কাগজে স্বাক্ষরের বিনিময়ে কোটি টাকার লেনদেন ব্যবসায়িক আইনের দৃষ্টিতে অন্যায্য, নিয়মবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এখানকার ব্যবসায়ীদের স্বাচ্ছন্দ্য এতেই।
ভোগ্যপণ্য ব্যবসায় নগদ অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজন বলেই খাতুনগঞ্জে দীর্ঘদিনের পুরনো মহাজনি কারবার বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই। তবে ব্যবসায়িক সচেতনতা, ব্যাংকের রক্ষণশীল আচরণ ও বিকল্প ব্যবসায় বিনিয়োগের কারণে খাতুনগঞ্জের অস্থিরতা অনেকাংশে কমে গেছে।
তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে দেশের ছোট প্রতিষ্ঠানেও প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা যায়। অথচ প্রযুক্তির ছোঁয়া থেকে এখনো অনেক দূরে খাতুনগঞ্জ। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেনের পরও প্রাচীন নিয়মে ব্যবসা পরিচালনা করেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।
মহাজনি কারবারের অন্যতম স্থান খাতুনগঞ্জে আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে তাই চড়া সুদের এ কারবার প্রতিদিনই বাড়ছে। ব্যাংকগুলো জামানত ছাড়া ঋণ প্রদানে অনীহা দেখানোয় চড়া সুদে মহাজনি ঋণ ব্যবসায়ীদের আস্থায় পরিণত হয়েছে।
খাতুনগঞ্জের লেনদেন পদ্ধতিতে বিশ্বাস ও পারস্পরিক আস্থাই প্রধান। এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিনের পুরনো সম্পর্ককে সমান গুরুত্ব দেয়। ব্যাংক যতই আইনি কাঠামোর মধ্য থেকে ঋণ প্রদান করুক না কেন, তারা বরাবরই আউটসাইডার। ফলে ব্যবসায়ীদের তাত্ক্ষণিক লেনদেনে ব্যাংকের যুক্ত হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে ব্যাংকিং নিয়মের মধ্য থেকেই ভোগ্যপণ্য বাজারে বিনিয়োগ জরুরি। সেক্ষেত্রে সাময়িক লোকসান হলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়ী ও ব্যাংক উভয়েই লাভবান হবে।
দেশের ভোগ্যপণ্যের প্রাচীনতম বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। শত বছর ধরে এ বাজার ঘিরে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা চলে আসছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের চেক প্রতারণা, ডিও জালিয়াতি, ব্যাংকের কাছে ঋণখেলাপির ঘটনায় গত কয়েক বছর থেকে ভাটা পড়েছে কর্ণফুলী নদী কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাজারটিতে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জকে বাদ দিয়ে ঢাকার নারায়ণগঞ্জ, বাবুবাজারসহ বিভিন্ন দিকে সরে যাচ্ছে।
খাতুনগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের মহাজনি প্রথা চালু রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত প্রথা হচ্ছে সয়াবিন তেলের দাম অনুযায়ী ঋণ প্রদানের প্রথা। এ নিয়মে প্রতি মণ সয়াবিন তেলের দাম ধরা হয় ১ হাজার ১০০ টাকা। প্রতি গাড়ি সয়াবিনে ১৫০ মণ হিসাব করে ঋণ দেয়া হয় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। বর্তমানে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার জন্য প্রতি মাসে সুদ দিতে হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসেবে ১০০ টাকায় ১ বছরের সুদ হয় ১৯ টাকা ৬৪ পয়সা। যখন প্রতি মণ সয়াবিন তেল ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতো সে সময় এ প্রথা চালু হয়, যা এখনো চলছে।
এর পাশাপাশি বর্তমানে প্রতি মণ সয়াবিনে প্রতি সপ্তাহে (বার-টু-বার) সাড়ে ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা সুদের প্রথাও প্রচলিত রয়েছে। এ নিয়মে ১৫০ মণের গাড়িতে (১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ঋণ) সপ্তাহে সুদ হয় ৭৫০ টাকা। এক মাসে হয় ৩ হাজার টাকা। আর ১০০ টাকায় এক বছরের সুদ হয় ২১ টাকা ৮১ পয়সা।
যখন বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি থাকে বা ব্যাংক ক্লোজিংয়ের সময় উপরোক্ত সুদের হার থেকেও বেশি হারে মহাজন থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। ওই সময় ব্যবসায়ীদের প্রতি মাসে প্রতি ১ লাখ টাকায় ১০ হাজার টাকা সুদ গুনতে হয়। সেই হিসেবে, ১০০ টাকায় মাসে সুদ হয় ১০ টাকা। যা বছরে দাঁড়ায় ১২০ টাকা। অর্থাৎ মহাজন থেকে ১০০ টাকা ঋণ নিয়ে বছর শেষে তাকে ১২০ শতাংশ সুদ দিতে হয়।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসার গোড়ার দিক থেকে বাজারে মহাজনি প্রথার প্রচলন হয়। এরপর থেকে যুগ যুগ ধরে এ প্রথা চলে আসছে। এ মহাজনদের এতই টাকা যে, অনেক ব্যবসায়ী এসব মহাজনদের বিশ্বব্যাংক নামেও আখ্যায়িত করে। চট্টগ্রামের নামকরা বেশিরভাগ গ্রুপ অব কোম্পানি এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।
অনেক আগে থেকে বাজারে চালু থাকলেও মহাজনি প্রথা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৯০-এর দশকে। ১৯৮৬ সালে ৬ কোটি টাকা নিয়ে বাজার থেকে পালিয়ে যাওয়া বিভূতি ভূষণ রায় এ প্রথা চালু করেন। এ প্রথায় শতকরা বার্ষিক সুদের হার ২০ শতাংশের উপরে। তা কখনো কখনো ১০০ শতাংশেরও বেশি হয়।
যুগ যুগ ধরে খাতুনগঞ্জে মহাজনি প্রথা চালু রয়েছে। ব্যাংকঋণে অনেক শর্ত ও ঝামেলা থাকায় ব্যবসায়ীরা এ প্রথায় ঋণ নেন। বিশেষ করে ব্যাংকে মর্টগেজ দেয়ার মতো যাদের নিজস্ব জমি, বিল্ডিং, দোকান বা এফডিআর থাকে না, তারা এ প্রথায় ঋণ নিয়ে থাকেন। এ প্রথায় ঋণ পেতে ঋণগ্রহীতাকে মহাজনের কাছে সমপরিমাণ টাকার চেক জমা দিলেই হয়ে যায়।
বিভিন্ন সময় ঋণ পরিশোধে গড়িমসি ও সময়মতো ফেরত না দেয়ায় এখন বুঝে-শুনে ঋণ দেয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। আর মহাজনি প্রথায় অনেক সহজ শর্তে ও যেকোনো সময় ঋণ পাওয়া যায়। তাই হয়তো এ প্রথায় ব্যবসায়ীরা ঋণ নেয়।
লেখক: সাংবাদিক






