আমি যাদের ট্রেনিং দিয়েছিলাম, তারা পণ্য বানানোয় পারদর্শী হয়েছিল বটে, তবে বিক্রি করার ব্যবস্থা ছিল না। সেখান থেকে মূলত আমি মেলাগুলোয় অংশগ্রহণ করা শুরু করি। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মেলাগুলোয় আমি অংশগ্রহণ করে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করি। এভাবে ধীরে ধীরে ঢাকার উত্তরায় একটা শো রুম নিই। সেখানেও পণ্য বিক্রি হতে থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি অনেকটা সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। অনলাইনেও আমি একটা পেজ খুলি এবং সেখানেও আমাদের পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছতে থাকে। অনলাইনের সুবিধার কারণে শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরে থেকেও অর্ডার আসে।

কারুচিত্রে মূলত হাতে বানানো গহনা, টাই-ডাই, সুতির শাড়ি, থ্রিপিস, হাতের কাজের পণ্য সবকিছুই এখন পাওয়া যায়। এখন আমার প্রতিষ্ঠানে ২০ জন কর্মী কাজ করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নারী কর্মী আছেন, যাদের ঘরে বসে কাজ করারও সুযোগ করে দিয়েছি। মূলত নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা আমার এ প্রতিষ্ঠান গড়ার পেছনের অন্যতম কারণ ছিল।

অনেক নারীই এখনো উদ্যোক্তা হতে ভয় পান। তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, যেটাই শুরু করুক, সেটাতে নিজেকে আগে প্রশিক্ষিত করতে হবে। ভালোভাবে জানতে হবে। আর ছোট পুঁজি দিয়ে অল্প পরিসরে শুরু করতে হবে। আমি নিজের জমানো টাকা দিয়েই শুরু করেছিলাম। পরে অনেক ব্যাংক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা বড় করেছি। কিন্তু শুরুতেই তো কেউ লোন দেবে না। তাই নিজ উদ্যোগে ছোট থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়ালে এবং পণ্যের মান ভালো রাখলে সফলতা আসবেই।