ফ্যাশনের প্রতি তখন থেকেই একটা ঝোঁক ছিল আমার। উদ্যোক্তা হওয়ার প্রথম ধাপটা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে আমি চাকরি খুঁজছিলাম, একই সঙ্গে আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে আমি ‘জেডিপিসি’ সম্পর্কে জানতে পারি এবং সেখানে হস্তশিল্পের ওপর প্রশিক্ষণ নিই।

৪ লাখ টাকা নিয়ে আমি শুরু করেছিলাম আমার ফ্যাক্টরি। মিরপুর-৬ নম্বরে বর্তমানে আমার ফ্যাক্টরিটা আছে। সেখানে পাঁচজন কর্মী কাজ করছেন। আমার এখানে পাটজাত পণ্যই তৈরি হয়। পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জামদানি শাড়ি, ব্যাগ এসবও তৈরি হয়। আমার প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটা যন্ত্রপাতি আমি নিজেই ধীরে ধীরে করেছি। পরিবার থেকে একটা সমর্থন ছিল। এটা অনেক বড় বিষয়।

পাটজাত পণ্যের কাঁচামালের দাম ইদানীং বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতার কারণেই মূলত সবকিছুর দাম বেড়েছে। দেশীয় পণ্য হলেও তার প্রভাব পাটের ওপরেও পড়েছে। তাই প্রফিট মার্জিন খুব সামান্য রেখে ব্যবসা করতে হচ্ছে। ব্যবসায় লাভ-লস থাকবে। এটা মাথায় রেখেই ব্যবসাটা করতে হবে।

পাট আমাদের দেশীয় পণ্য। দেশে তো বটেই, বিদেশে এর চাহিদা আছে এবং আমরা উদ্যোক্তারা সেটা নিয়ে কাজ করতে চাই। কিন্তু আমাদের এখানে এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা আছে। সরকারিভাবে সে জায়গাগুলো আরো সহজ করে দিলে আমাদের দেশীয় পণ্যকে বাইরে ছড়িয়ে দিতে পারতাম।

নতুন উদ্যোক্তা যারা হতে চান, তাদের বলব অন্যেরটা দেখেই হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। আরেকজন যে ব্যবসা ভালো করছে সেটা আপনি ভালো নাও করতে পারেন। আগে নিজেকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে, নিজে শিখতে হবে, মার্কেট বুঝতে হবে। এরপর যদি ধৈর্য ধরে ব্যবসাটা চালিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে সবাই উদ্যোক্তা হতে পারবেন।