এ সময় দেশের বাজারে কেনাকাটা, লেনদেন ও ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ইবিএল সেই প্রবাহের ধারা বজায় রাখতে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে। বৈশাখে সবাই নতুন পোশাক, উপহার, খাবার ইত্যাদি কেনাকাটা করে। ইবিএল তাদের কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট সেবার মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করে। ইবিএল প্রতি বছর বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক ও প্রমোশন চালু করে, যা ভোক্তাদের খরচ বাড়াতে উৎসাহ দেয় এবং বাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি করে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই), বিশেষ করে পোশাক, হস্তশিল্প ও খাবারের ব্যবসায়ীরা বৈশাখে অধিক পরিমাণে বিক্রি করেন। ইবিএল উৎসব উদ্দেশ্যভিত্তিক জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা, চলতি মূলধন এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ সুবিধা দিয়ে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সাহায্য করে। অনেক প্রবাসী এ সময়ে দেশে পরিবারকে টাকা পাঠান। ইবিএলের রেমিট্যান্স সেবা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করে, যা বৈশাখী বাজারকে চাঙ্গা করে। ইবিএল ই-কমার্স প্লাটফর্মের সঙ্গে কাজ করে অনলাইন ব্যবসাকে উৎসাহ দেয়, ফলে বৈশাখী পণ্যের বিক্রি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্ষেপে ইবিএল বৈশাখী অর্থনীতিতে লেনদেন বৃদ্ধি, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সক্রিয় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।

এ উৎসবকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কী ধরনের চাহিদা তৈরি হয়?

পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে মৌসুমি হলেও খুবই শক্তিশালী একটি চাহিদা তৈরি হয়। এ চাহিদা বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় আয়-রোজগার বাড়ায়। গ্রামে নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন কাপড় পরার ঐতিহ্য রয়েছে। তাই লাল-সাদা শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া ইত্যাদির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে স্থানীয় দর্জি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লাভবান হন। বৈশাখে পান্তা-ইলিশ, পিঠা, মিষ্টি, দই ইত্যাদির চাহিদা বাড়ে। গ্রামের হাট-বাজারে চাল, মাছ, দুধ, গুড়, মিষ্টির বিক্রি অনেক বৃদ্ধি পায়। এ সময় নতুন ফসল, বিশেষ করে ধান, বাজারে আসে। উৎসবের কারণে এসব কৃষিপণ্যের ব্যবহার ও বিক্রি বৃদ্ধি পায়। মাটির পাত্র, বাঁশের দ্রব্য, নকশিকাঁথা, হাতের তৈরি অলংকার—এসবের চাহিদা বাড়ে। এতে গ্রামীণ কারিগররা বাড়তি আয় পান। গ্রামে বৈশাখী মেলা বসে, যেখানে খেলনা, নাগরদোলা, খাবার ও নানা পণ্য বিক্রি হয়। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও দিনমজুরদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়। মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে, আত্মীয়দের বাড়ি যায়। ফলে ভ্যান, অটোরিকশা, নৌকা ইত্যাদির চাহিদা বাড়ে। অনেকেই অস্থায়ীভাবে দোকান বসান—খাবার, পোশাক, খেলনা ইত্যাদি বিক্রি করেন। এতে স্বল্প পুঁজিতে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়।

বৈশাখ উৎসব এসএমই অর্থনীতিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে?

পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের এসএমই অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক ভূমিকা রাখে। এটি শুধু সাংস্কৃতিক উৎসব নয়, বরং একটি বড় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্র তৈরি করে। বৈশাখ উৎসব এসএমই অর্থনীতিতে চাহিদা সৃষ্টি করে, আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ায়, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে এবং ব্যাংকিং ও ঋণ কার্যক্রমকে গতিশীল করে।

উৎসবকে ঘিরে পোশাক, মৃৎশিল্প, বাঁশ-বেত, মিষ্টি, কাঠের খেলনার মতো লোকজ ও হস্তশিল্পের আলাদা চাহিদা তৈরি হয়। আপনার প্রতিষ্ঠান এ খাতগুলোতে বিশেষ কোনো অর্থায়ন প্রোগ্রাম চালু রেখেছে কিনা? বিশেষ করে ক্লাস্টারে কী ভূমিকা রাখছে?

ইবিএল উৎসব উদ্দেশ্যভিত্তিক জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা ইবিএল উৎকর্ষ ঋণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু ও বিস্তারের ক্ষেত্রে ইবিএল স্টার্টআপ ঋণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের ইবিএল মুক্তি ঋণ দিয়ে থাকে। বৈশাখের সময় নকশিকাঁথা, বাঁশ-বেত, মৃৎশিল্প ইত্যাদি খাতে চাহিদা বাড়ে এবং ক্লাস্টারের ছোট উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিংয়ের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ইবিএল বড় ভূমিকা পালন করে ।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের এ খাতগুলোর অধিকাংশ অর্থনীতিই অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হয়। তাদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কীভাবে? ইবিএল এখানে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে?

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প যেমন মৃৎশিল্প, বাঁশ-বেত, হস্তশিল্প, মৌসুমি খাদ্য, লোকজ পোশাক ইত্যাদি বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় অংশ হলেও বাস্তবে এগুলোর একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ তা ব্যাংকিং চ্যানেল, ট্যাক্স নেটওয়ার্ক বা রেগুলার হিসাব ব্যবস্থার বাইরে। ইবিএল উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্স সহজীকরণ, ট্যাক্স আইডি সহজ প্রাপ্তি, ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি তৈরি এবং তার পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং প্রডাক্ট ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যাংকিং প্রবৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সবশেষ এসএমইতে আপনাদের কিছু উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ, যা বৈশাখকে ঘিরে, তেমন কিছু প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাই।

ইবিএল ক্ষুদ্র উৎপাদক দল, এনজিও-সংযুক্ত কারিগর গ্রুপ, স্থানীয় ক্লাস্টারভিত্তিক উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা দিয়ে অর্থায়ন করে। ছোট বুটিক হাউজ, উৎপাদন ও পাইকারি সরবরাহকারীদের থেকে শুরু করে পাঞ্জাবি, শাড়ি, কুর্তা, লোকজ ডিজাইন ফ্যাশন আইটেম প্রস্তুতকারক এবং ব্যবসায়ীদের ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। ইবিএল হস্তশিল্প, ফ্যাশন, মিষ্টি ও মৌসুমি ট্রেডিং—এ এসএমই ক্লাস্টারগুলোকে তাদের ঋণের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে অর্থায়ন করে।