স্টক মার্কেট দিন দিন যেভাবে বুলিশ হয়ে পড়ছে, তাতে করে স্বর্ণ তার নিরাপদ অবস্থানের আবেদন সহসাই হারাবে। ২০১৭ সালের পণ্যবাজার সম্পর্কে পূর্বাভাস চারটি প্রধান চলকের ওপর নির্ভর করছে। ২০১৬ সাল অনেক ভালো কাটলেও ২০১৭ সালে পণ্যবাজার হয়তো খারাপ সময় দেখতে যাচ্ছে এবং সেটা অবশ্যই ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফেডারেল রিজার্ভ, চীনা সরকার এবং ওপেকের ওপর নির্ভর করছে।
অশোধিত তেল
ওপেকের সাম্প্রতিক চুক্তি ঘিরে একটি অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং যদি তা বাস্তবায়ন হয়, তবে সেটা তেলের বাজারে নিঃসন্দেহে একটা প্রভাব ফেলবে। ২০১৭ সালে পণ্যবাজার সম্পর্কে একটি ধারণাগত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা করা হয়েছে বাজারের চাহিদা ও জোগানকে কেন্দ্র করে। তেলের বাজারের ওপর ওপেকের প্রভাব এখন প্রশ্নের সম্মুখীন, যখন প্রধান বাজারের পাশাপাশি কিছু অনিয়মিত উত্স থেকেও তেল আসছে। পাশাপাশি এটাও আমাদের চিন্তিত করছে যে, কতটা সময় ওপেক সদস্যরা তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। এছাড়া বাজারের অসন্তুষ্টি এবং মূল্যবৃদ্ধি আমেরিকার তেল উৎপাদনের হারকে বৃদ্ধি করবে।
যাহোক, এর পরও বাজার একটা সমতায় আসছে বলেই আমাদের মনে হচ্ছে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, যেখানে বলা হয়েছে, ইউএস ক্রুড স্টকপাইলসের চার মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কমেছে শেষ সপ্তাহে।
এত কিছুর পরও বাজার যথেষ্ট আশাবাদী— আসন্ন ২০১৭তে যখন বিশ্বের অন্যান্য তেল উৎপাদনকারীর সঙ্গে ওপেকের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়াও এর অন্তর্ভুক্ত এবং তারা তাদের উৎপাদন ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল কমিয়েছে। যখন অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ ব্যর্থ হয়েছে তাদের সর্বোচ্চ তেল উৎপাদনে, তখন লিবিয়া তাদের উৎপাদন হার দ্বিগুণ করেছে ছয় লাখ ব্যারেলে, যা একই সঙ্গে ট্রেডার স্পিরিটকে ব্যর্থ করতে দেয়নি।
কয়লার মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে ৩০ শতাংশ, যা শক্তিশালী আমদানি চাহিদা এবং চীনের সীমিত জোগান যেখানে উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে দূষণের মাত্রা কমাতে।
আমেরিকার প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য এক লাফে ৩৩ শতাংশ বেড়েছে এয়ারকন্ডিশনিংয়ে এর শক্তিশালী চাহিদা, উৎপাদন কমে যাওয়া, স্টোরেজ সুবিধার অপ্রতুলতা এবং মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার শীতকালীন সময়ের রফতানি বৃদ্ধির কারণে। ২৮ সেপ্টেম্বর ওপেক অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন ৩২ দশমিক ৫ থেকে ৩৩ মিলিয়ন ব্যারেলে নির্ধারণ করে দেয় অনিয়ন্ত্রিতভাবে তেল উৎপাদনের দুই বছরের মাথায়। নিঃসন্দেহে এটা পণ্যবাজারের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতির পরিবর্তন। বিশেষ করে সৌদি আরবের মতো একটি দেশ, যে ওপেক সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সর্বাধিক তেল উৎপাদনকারী দেশ।
ওপেক একমাত্র পণ্যবাজার-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার প্রভাব এখনো আমরা দেখতে পাই। বৈশ্বিক তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা অনিয়মিত তেল উৎপাদনকারীদের কারণে দৃশ্যত কঠিন। আমেরিকার অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন ১ হাজার ৬০৯ ব্যারেল ছিল ২০১৪ সালের অক্টোবরে। ২০১৬ সালের ২৭ মে এ উৎপাদন নেমে ৩১৬ ব্যারেল হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায় খননকার্যক্রম কমে গেছে আমেরিকায়। মে মাসের পর রিগস কাউন্ট বেড়ে ১০৯ রিগস হয়েছে। হয়তো দাম বাড়লে সেটা আমেরিকার শেল উৎপাদনকারীদের জন্য একটা টনিক হিসেবে কাজ করবে। বাজার হয়তো আমেরিকার তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে শেল উৎপাদনকারীরা মার্জনা করবে।
অন্যদিকে এনওয়াইএমইএক্স ডব্লিউটিআইয়ে সূচক ৬২-৬৩ ডলারে (এমসিএক্স ৪০০০-৪২০০) অবস্থান করছে, যা ৫০ ডলার থেকে উপরে এসেছে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, ৪৫ ডলারের (এমসিএক্স ৩০০০) নিচে সূচক আরেকটি বাজার ধসের সম্মুখীন করবে, যা কিনা আবার ৭০ ডলারে (এমসিএক্স ৪৮০০-৫০০০) নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
স্বর্ণ ও সিলভার
২০১৭ সালের স্বর্ণের বাজার নিয়ে আমি আশাবাদী, যা কিনা গত বছরের এ সময়েও ছিলাম না। ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্য এবং হার বৃদ্ধির ঘোষণাও আমাকে এতটা আশাবাদী করেনি। কিন্তু স্বর্ণ তার বাজার উদ্ধার করেছে, ধন্যবাদ দুর্বল শেয়ারবাজার এবং হার বৃদ্ধির ওপর আমার সন্দেহকে।
একইভাবে এ মাসেও হার বৃদ্ধির একটা আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। শুধু পার্থক্য এটুকুই যে, এবার স্বর্ণের মৌলিক বাজার ঘিরে একটা নেতিবাচক ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা যখন স্বর্ণের মৌলিক বাজারের কথা বলছি, তখন এর অর্থ আমরা স্বর্ণের ভোগ ও উৎপাদনের কথা বলছি।
উৎপাদন ক্রমাগত বাড়ছে, কিন্তু বড় ভোগের বাজার বিশেষ করে ভারত ও চীনে এর ভোগের মাত্রা একেবারেই কমে গেছে। চীন একই সঙ্গে স্বর্ণের অন্যতম বৃহত্ উৎপাদনকারী দেশ। ভারতীয়রা যেকোনো দেশের মানুষের থেকে স্বর্ণের ওপর তাদের আস্থা বেশি। সেক্ষেত্রে ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাস বাজার অনেক বেশি ভুগবে। ভারতীয়রা আসলে স্বর্ণ ক্রয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যস্ত হয়নি।
যাহোক, একটি রাষ্ট্র যেখানে স্বর্ণের চাহিদা অসামান্য, সেখানে মুদ্রাহিতকরণ স্বর্ণের এ চাহিদাকে কিছু কোয়ার্টারের জন্য শিথিল করতে পারে। তবে আশা করা যায়, চাহিদা আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে এবং স্বর্ণের আমদানিকে চাঙ্গা করবে।
২০১৬ সালে ফিরে তাকালে দেখা যায়, বছরের শুরুতে স্বর্ণের বাজার একটা ধাক্কা পেয়েছিল, যা ২০১৫ সালের শেষে তলানিতে ছিল। ২০১৫ সালের শেষে এর অবস্থান ছিল ১ হাজার ৫০ ডলার/ওজি। কিন্তু বিভিন্ন উন্নত বিশ্বে নেতিবাচক ইন্টারেস্ট রেট স্বর্ণের মূল্য বাড়িয়ে ৩০০ ডলার/ওজি করে, যা ২০ শতাংশের কিছুটা বেশি বছর শুরুর রেটের থেকে।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে আবার একটা পূর্বাভাস করা হলো বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে, যেখানে বলা হলো স্বর্ণের দাম ১৫০০-১৯০০ ডলার হবে শুধু এ বিশ্বাসের ওপর ভর করে যে, ফেডারেল রিজার্ভ থেকে হার বাড়ানো হবে না দীর্ঘ সময়ের জন্য। তবে ব্রেক্সিট তেমন প্রভাব না ফেললেও বছর শেষে এসে ট্রাম্প শক বাজেভাবে বাজারকে প্রভাবিত করেছে।
এর পর থেকে টানা ছয় মাস মূল্য পতন ঘটেছে, যা বছরের সবচেয়ে বাজে সময়। মার্কিনমুলুকে উচ্চ ঋণহার স্বর্ণের চাহিদা শূন্যের কোটায় এনে ঠেকিয়েছিল। ২০১৭ সালের ক্ষেত্রে তা মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। হেজ ফান্ড কাট ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে কম ছিল, যেখানে বিনিময় তহবিল থেকে বহির্গমন অনেক বাড়ছিল।
২০১৭ সালে আমরা আসলে স্বর্ণের মূল্যকে কোথা দেখছি? এই শেয়ারবাজারে অসন্তুষ্টি যেভাবে দেখা যাচ্ছে, তাতে করে স্বর্ণ তার নিরাপদ স্বর্গ হারাবে। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে বাজারে ভীতি ছিল, যার কারণে স্বর্ণ অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। কিন্তু এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে সম্প্রতি। ইউরোজোন সংকট, ইতালিয়ান ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভাগ্যের অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার রুগ্ণ দশা আমাদের আরো চিন্তিত করে তুলছে। জেনেট ইয়েলেন ইউএস সেন্ট্রাল ব্যাংকের চেয়ারওম্যান ২০১৭ সালে তিনবার বাজারের উত্থান তিনি পূর্বাভাস করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা গত বছর দুবার হবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছিল।
এটা মাথায় রাখলে স্বর্ণের সূচক ধরে নেয়া যায় ১০৪৫-৫০ ডলারে অবস্থান করবে (এমসিএক্স ২৫০০০), তবে ৯৯০ ডলারের (এমসিএক্স ২৪০০০) কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ২০১৭-এর মাঝামাঝি এটা ৯০০ ডলারের আশপাশে থাকবে, যা ১৯৮০-এর রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে। এর পর বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এবং একটি শক্তিশালী বুল বাজার তৈরি করবে। এটাও হতে পারে, যেখানে বেশি মাত্রার বাজারের উত্থান আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থাকে উদ্ধার করার বদলে দুর্বল করবে এবং অসন্তুষ্টিকে সম্পদের নিরাপদ স্বর্গে পরিণত করবে।
স্বর্ণের মতো সিলভারের অবস্থাও ভালো ছিল একটা সময়, যখন জানুয়ারির প্রথম সময়ের থেকে এর মূল্য ১৩ দশমিক ৮৪১ ডলার থেকে ৩৯ শতাংশ বেড়ে জুলাইয়ে ২১ ডলারে চলে যায়। এর পর থেকে ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান এবং ক্রমান্বয়ে কমতে থাকা শিল্প চাহিদা সিলভারের এ অবস্থাকে আবারো দুর্বল করে দেয় এবং তা এখন আবার ১৫ দশমিক ৫৯ ডলারে অবস্থান করছে। সিলভার স্বর্ণের সঙ্গে একটি অসম বাজার অবস্থানে আছে। আধুনিক সময়ে এসেও স্বর্ণ এবং সিলভার ১৫ অথবা ১৬-এর মধ্যকার অবস্থানে আছে। এটা স্বর্ণের সঙ্গে সিলভারের একটা কাছাকাছি অবস্থান নির্দেশ করেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা অনেক সময় স্বর্ণের সঙ্গে সিলভার ক্রয়েও অনেক আগ্রহ দেখান।
স্বর্ণের বাজার পড়তি, সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম। তবে সিলভারের বাজারের অর্ধেকটাই ব্যবহার হচ্ছে সোলার প্যানেল ও ইলেকট্রিক পণ্য তৈরিতে, যা চীন থেকে মার্কিনমুলুকে আসছে। সিলভারের বাজার অনেক বেশি আশা দেখাচ্ছে।
আমরা এখনো বিশ্বাস করি, দামি মেটালের বুল মার্কেটে আমরা এখনো আছি, যা ১৫ বছর আগে শুরু হয়েছিল। অনেকবার হোঁচট খেলেও হাল ছেড়ে দেয়ার চিন্তা করেনি। ২০১৭ সালে আমরা স্বর্ণের বাজারকে ঘুরে দাঁড়াতে দেখতে চাই। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সিলাভারকেও প্রাধান্য দিতে হবে।
বেজ মেটাল
বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা বেজ মেটাল থেকে তাদের মুনাফা অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে চাইবে নতুন বছরেও, যাকে অন্য পণ্যবাজারের সঙ্গে মেলানোটা কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। এদিকে চীনের কয়লা ও লোহার আকরিক উত্তোলন তাদের বাজারের ওপর বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছে। তবে ইস্পাতের দাম হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে যে জল্পনা-কল্পনা চলছে, সেখানেও বলার আছে অনেক কিছু। ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধির বিপরীতে সরবরাহ নিশ্চিত করতে গেলে অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হবে। তবে ধীরে ধীরে বিশ্ববাজারের কিছু পণ্যে মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি চিন্তার কারণ হতে পারে। তবে অনাগত বছরে তামার দাম ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলন থেকে মনে করা হচ্ছে, ২০১৭ সালের দিকে এসে পণ্যবাজার কেমন হবে, সেখানে চীনের ভূমিকা হবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত বেজ মেটালের মূল্যনির্ধারণী প্রকল্প থেকে অনেক পণ্যের দরদাম ঠিক করার প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ধরনের বিষয়গুলো অন্তত এখনো চিন্তার অধীন।
লেখক: কমট্রেন্ডজ রিসার্চের ডিরেক্টর
ইকোনমিক টাইমস থেকে সংক্ষেপে ভাষান্তর মুহাম্মাদ হাসান রাহফি
নতুন বছরের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদরা দিচ্ছেন নানা মত। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডসের রবার্ট এইচ স্মিথ স্কুল অব বিজনেসের একদল অধ্যাপকও একটি রূপরেখা দেয়ার চেষ্টা করেছেন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। রবার্ট এইচ স্মিথ স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক দলের পূর্বাভাসের ওপরই নজর দেয়া যাক
প্রয়োজন সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কিত ইমোটিকন
গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ছয়লাব ছিল ভুয়া ও নেতিবাচক খবরে। এ ধরনের কিছু খবরে ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। অনেকের মতে, এসব ভুয়া খবরে ভর করেই প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভুয়া ও প্রকৃত খবর পৃথক করা যাচ্ছে না। কারণটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদমের ডিজাইন। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জনপ্রিয় বিষয়গুলোই গুরুত্ব পায় এতে। বন্ধুদের শেয়ার করা খবর সরাসরি নিজের নিউজফিডে দেখতে পান ব্যবহারকারী— তা সঠিক হোক কিংবা ভুয়া। এতে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ভুল খবরকেই সঠিক বলে মনে করে দিকভ্রষ্ট হয়েছেন। নতুন বছর সামাজিক ও প্রচলিত মিডিয়াগুলো সত্যতা যাচাইয়ের পর কোনো তথ্য প্রকাশে ব্রতী হবে বলেই আশা সবার। ভুয়া সংবাদের দ্রুত খণ্ডনই হবে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ১৪০ শব্দের সম্ভাব্য টুইটের চেয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপরই নীতি বিশ্লেষণের দায়িত্ব দিতে হবে। রবার্ট এইচ স্মিথের ইনফরমেশন সিস্টেমসের অধ্যক্ষ হেনরি লুকাস বলেন এ কথাগুলো।
ম্যাকডোনাল্ডসের টেবিল সার্ভিসে ইতিবাচক পরিবর্তন
একাডেমি ফর ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপের বিশিষ্ট ফেলো ও ক্লিনিক্যাল প্রফেসর অলিভার শ্লেক বিশেষ গুরুত্ব দিলেন ম্যাকডোনাল্ডসের টেবিল সার্ভিসে। তার ভাষ্যে, ম্যাকডোনাল্ড ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের প্রয়োজন স্টাফের সংখ্যা বাড়ানো। তারা অতিথিদের সঙ্গে অতীব ভদ্র আচরণ করবে, যেমনটি দেখা যায় চিক-ফিল-আ রেস্তোরাঁয়। ম্যাকডোনাল্ডসের অন্দরমহলেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। অন্দরমহল সুচারুভাবে সাজানো হলে অতিথিরা দীর্ঘ সময় কাটাতে বাধ্য হবেন ম্যাকডোনাল্ডসে বসেই। ম্যাকডোনাল্ডসের সঙ্গে যেকোনো প্রতিষ্ঠানই প্রতিযোগিতায় শামিল হতে পারে। এক্ষেত্রে ম্যাকডোনাল্ডসকে ছাড়িয়ে গেছে চিক-ফিল-আ, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিশেষ করে পরিবেশনে চিক-ফিল-আ অনেকটাই এগিয়ে ম্যাকডোনাল্ডসের চেয়ে।
অ্যামাজনিং অব আমেরিকা
কয়েক সপ্তাহ আগে চালু হয়েছে অ্যামাজনের নতুন স্টোর ‘অ্যামাজন গো’। অ্যামাজনের এ উদ্যোগ বিশ্বের নজর কাড়বে বলে মনে করেন হার্ভে স্যান্ডার্সের রিটেইল ম্যানেজমেন্টের ফেলো ও মার্কেটিংয়ের অধ্যক্ষ জিয়ে ঝ্যাং। তার ভাষায়, অ্যামাজন গোয়ে রকমারি পণ্যের ছড়াছড়ি থাকলেও এটি প্রচলিত ধারার সুপারমার্কেটের তুলনায় আকারে ছোট। তবে অ্যামাজন গো সুপারমার্কেটগুলোর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারবে না। আর নতুন স্টোরের এ ধারণা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে সুবিধাভোগী স্টোরগুলোর জন্য। কারণ এসব স্টোর প্রচলিত ধারার খাবার বিক্রি করে থাকে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনই বেশ চড়াই-উতরাই অতিক্রম করতে হচ্ছে। অ্যামাজন গোয়ের সুবাদে প্রতিযোগিতা আরো বাড়বে।
সেন্টার ফর এক্সিলেন্সি ইন সার্ভিসের পরিচালক ও মার্কেটিংয়ের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জ্যানেট ওয়াগনারের মতে, ভোক্তার কেনাকাটার অভ্যাসে বিপ্লব ঘটাবে অ্যামাজন ডটকম। চলতি বছরের শুরুতেই সাধারণ মানুষের জন্য চালু হবে অ্যামাজন গো কার্যক্রম। এ সেবা ভোক্তাদের পছন্দসই হলে অ্যামাজনের এমন আরো দুই হাজার মুদিখানা চালুর ইচ্ছে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
আধুনিক ভোগবাদ
অলিভার শ্লেক গুরুত্ব দেন আধুনিক ভোগবাদের ওপর। অ্যামাজন গো অনলাইনে কেনাকাটা সহজ করে দিচ্ছে। অনলাইনে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে খাবার কিনে তা ড্রোন সরাসরি ভোক্তার টেবিলে পৌঁছে দিলে বিষয়টি মন্দ হয় না!
ড্রোন জীবন
কেমন হবে যদি আকাশপথে কোনো যান কাঙ্ক্ষিত পণ্য হাতের নাগালে এনে দেয়? ৭-ইলেভেন স্টোর চেইনের মাধ্যমে কেনাকাটা করলে এ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় সহজেই। আর এ সুবিধা ভোগ করতে চাইলে সময় এসেছে বাড়ির আঙিনায়ই একটি অবতরণ ভূমি তৈরির। অতিরিক্ত গাছপালাও রাখা যাচ্ছে না বাড়িতে।
সুদের হার বৃদ্ধি ও আবাসন খাত
আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নেবে বলেই ধারণা ফিন্যান্স অ্যান্ড এক্সিকিউটিভ-ইন-রেসিডেন্সের প্রফেসর ক্লিফোর্ড রসির। এতে আবাসন খাতে প্রবৃদ্ধিতে ভাটা পড়বে। ফলে সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বাড়ির দামে পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। এক্ষেত্রে ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে কাজ করবে মুদ্রাস্ফীতি। এটি বাড়লে বাড়ির দামও বাড়বে।
শেয়ারদরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
চীনের করপোরেট ঋণ নিয়ে ২০১০ সাল থেকে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনা ঋণের অনুপাতের আরো অবনতি হয়েছে। অ্যাকাউন্টিংয়ের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর নিক সেইবার্তের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ার বিক্রিতে দুর্বল প্রবৃদ্ধির কারণে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস ৫০০-এ আয়ের পরিসংখ্যান খুবই মলিন। এ অবস্থায় ফেড সুদের হার বাড়ালে ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদক দেশগুলো তেলের দরবৃদ্ধিতে কোনো উদ্যোগ নিলে পূর্ব ও পশ্চিমা বিশ্বের করপোরেট আয় প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে হতে হবে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখনই মার্কিন শেয়ারবাজার নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বেশ মুশকিল বলে মনে করেন নিক।
করপোরেট করের নিম্ন হার
ফিন্যান্স বিভাগের স্নাতকোত্তর কর্মসূচির পরিচালক ও অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মাইকেল ফাউলকেন্ডার গুরুত্ব দিচ্ছেন করপোরেট কর কমানোর বিষয়টিতে। তিনি কর কাঠামো পুনর্গঠনের আশা করছেন। বিশেষ করে করপোরেট খাতে এটি প্রয়োজন। বেশি মাত্রার করপোরেট করের হার মার্কিন ট্রেজারির জন্যও ভালো নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বিদেশে আয় করলেও অতিরিক্ত কর প্রদান এড়াতে তা দেশে আনে না। তার মতে, করপোরেট আয় করের হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা উচিত। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফিরিয়ে আনতে উত্সাহী হবে। ফলে বিদেশে অর্থ সঞ্চয়ের প্রবণতাও কমে আসবে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট করের হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ। এ হার বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। ওই সময় ট্যাক্স ফেডারেশন ১৭৩ দেশের ওপর জরিপ চালিয়েছিল। জরিপে দেখা গেছে, ২০০৩ সালে বিশ্বব্যাপী করপোরেট করের হার ৩০ শতাংশ থাকলেও ২০১৫ সাল নাগাদ তা নেমেছে ২২ দশমিক ৯ শতাংশে। ১২ বছরে পৃথিবীর অন্য দেশে করের হার কমলেও কমেনি যুক্তরাষ্ট্রে। (ভাষান্তর টুসি বোস)
আসছে বছর অর্থনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী-সংবলিত একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে থিংকট্যাংক ইউরেশিয়া গ্রুপ। আরব স্ট্র্যাটেজি ফোরামের জন্য প্রস্তুতকৃত এ প্রতিবেদনে অর্থনীতি ও রাজনীতির বিভিন্ন নিয়ামকের পরিবর্তন ও প্রভাব সম্পর্কে কিছু অনুমান তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটির সংক্ষেপিত অংশ
তেলের দাম
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্রেন্টের গড় মূল্য ৬০ ডলারের নিচে থাকবে। এর সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব থাকবে ৭৫ শতাংশ।
গত ৩০ নভেম্বর ওপেক উৎপাদন কমানোর যে ঘোষণা দেয়, তাতে মোট উৎপাদন কমে দৈনিক প্রায় ৩৩ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে যেতে পারে। তাতে জ্বালানি তেলের দাম ২০১৭ সালের প্রথমার্ধে ৫০ ডলারের আশপাশেই থাকবে আর দ্বিতীয়ার্ধে গড়ে ৬০ ডলারের নিচে।
মার্কিন শেল উৎপাদন আগামী বছরের মাঝামাঝিতে কিছুটা বাড়বে। প্রবৃদ্ধি ভালো থাকবে, ফলে দাম ৬০ ডলারের উপরে থাকবে। এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে, কারণ তাদের জন্য তেলের দাম বাড়াটা বেশি জরুরি।
অপর্যাপ্ত রাজস্বপ্রবাহ তেল রফতানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যয় সংকোচন এবং এ ধরনের ব্যয় সংকোচনে সময়ক্ষেপণ আরো বড় ধরনের অর্থনৈতিক অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জটিল ও কঠিন বাস্তবতার মুখে ফেলতে পারে।
বাহরাইন, আলজেরিয়া, ওমান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার তেল রফতানিকারক দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়তে পারে। আইএমএফের প্রক্ষেপণ তেমনটিই বলছে। এ অঞ্চলের বাইরে এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হতে পারে ভেনিজুয়েলা ও নাইজেরিয়াকে।
২০১৭ সালের বৈশ্বিক অর্থনীতি
বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে থাকবে। ২০১৭ সালে বিশ্বের বৃহত্ অর্থনীতিগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের অভাবের কারণেই এমনটি হবে। এর সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব থাকবে ৭০ শতাংশ।
বৃহৎ অর্থনীতির নেতারা মনে করবেন, যেন তারা সংস্কারের জন্য যা করার তা করেছেন। ভারতে নরেন্দ্র মোদি পণ্য ও সেবা খাতে সংস্কারের জন্য সন্তুষ্ট থাকবেন। মুদ্রানীতির সংস্কার ও বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআর) উদারীকরণ নিয়ে তৃপ্ত থাকবেন।
প্রথম ক্যাটাগরির দেশগুলোর মধ্যে জাপানের আবে প্রশাসন তার নিজস্ব ব্র্যান্ডের অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে উতরে যাবেন। মেক্সিকো সরকার তাদের প্রতিশ্রুত পূরণ করবে।
দ্বিতীয় ক্যাটাগরির দেশগুলোয় চলবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংস্কার। চীন তাদের নেতৃত্বে পুনর্বিন্যাস করবে। ফ্রান্স, জার্মানি ও রাশিয়াও চীনকে অনুসরণ করবে।
তবে যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের মতো দেশে যেখানে সংস্কার হবে অত্যন্ত কঠিন, তা অসম্পন্নই থেকে যাবে। যুক্তরাজ্য বরং ব্রেক্সিটের ক্ষতি সর্বনিম্ন রাখার নীতিতেই এগোবে।
তবে মধ্যপ্রাচ্য এদিক থেকে লাভবান হতে পারে। তারা বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে নীতিতে সংস্কার আনলে, তাদের জন্য নতুন বছরে সুসংবাদ অপেক্ষা করছে।
বিশ্ব বাণিজ্য কি বড় ধাক্কা খাবে?
বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ অতিক্রম করবে না। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি এই অংকে অথবা এর নিচেই ঘোরাফেরা করবে। এর সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে ৬৫ শতাংশ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্ব বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি বদলে গেছে। প্রযুক্তি উৎপাদকদের সস্তা শ্রমের বদলে এখন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে বৈশ্বিক রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক এর সঙ্গে সেভাবে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না।
সাম্প্রতিক জনপ্রিয়তার রাজনীতি (পপুলিস্ট পলিটিকস) নতুন আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিতে যেভাবে প্রভাব ফেলছে, তা ২০১৭ সালেও অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নতুন বাণিজ্যচুক্তির জন্য মোটেও ইতিবাচক হবে না।
ফ্রান্স ও জার্মানি যখন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত, তখন ইউরোপের সম্ভাবনাময় ট্রান্স আটলান্টিক ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ সমঝোতা প্রক্রিয়া আরো ধীরগতির হবে, যা এরই মধ্যে ধুঁকতে শুরু করেছে। ইউরোপ ও অন্য অংশীদারদের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্য সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও নতুন বাণিজ্য অংশীদারিত্ব সৃষ্টিতে ব্রিটেনের আরো কয়েক বছর সময় লাগবে।
২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একগুচ্ছ সংরক্ষণবাদী নীতি, ডলারের নিম্নমান, সম্প্রসারণমূলক অর্থনীতি— এ সবকিছুই দেশটির মুদ্রাস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে। পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির প্রতি ভীতি ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হারের বিষয়ে উগ্র নীতি ও প্রবৃদ্ধির বিষয়ে অবস্থান ধরে রাখতে সমস্যায় ফেলবে। এসব কারণে দেশটির অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়বে, যা প্রকারান্তরে বিশ্ব অর্থনীতিকেও আঘাত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রেক্সিটের বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। ২০১৭ সালের শুরুতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। এ কারণে বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইইউ-ব্রিটেনের এ আলোচনা ২০১৭ সালে বিশ্বে নতুন নতুন অনেক প্রশ্নের জন্ম দেবে। আগামী দুই বছরের আলোচনার মধ্য দিয়ে ইইউ-ব্রিটেন বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন মেকানিজম খুঁজে বের করতে হবে। আর এভাবেই ব্রেক্সিট ইস্যুটি বিশ্ব অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।
ব্রিটেনের লক্ষ্য থাকবে আলোচনার মাধ্যমে ইইউর একক বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশের সুযোগ লাভ করা। এজন্য দেশটি কিছু ছাড় দিতেও প্রস্তুত থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকেও যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতার বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। মনোযোগ দিতে হবে ব্রেক্সিটের কারণে বিশ্ববাজারে সৃষ্ট অচলাবস্থার দিকেও।
সার্বিক বাধাগুলো বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে চরমভাবে প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে উদীয়মান বাজারগুলো এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইরানকে ২০১৭ বৈদেশিক নীতির বিষয়ে আরো কঠোর করবে না। তেল থেকে আহরিত রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ধীরগতিতে বাণিজ্য বিস্তার ইরানকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরো কঠোর অবস্থানের দিকে প্ররোচিত করবে না। কারণ বছরের শুরুতে দেশটির অভিজাত শ্রেণী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। দ্বিতীয় কারণ, দেশটির অর্থনীতির ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলেও এখনো টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছায়নি। তৃতীয়ত. ইরানের অনেক বৈদেশিক নীতির একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো আছে এবং সেগুলো স্বল্পমেয়াদি নয়।
আরবের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তি ২০১৭ সালে অর্থনৈতিক সহযোগিতা অসম্ভব করে তুলবে। এর আশঙ্কা ৬০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়বে ৭০ শতাংশ। বিশেষ করে এ অঞ্চলের প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যকার অনৈক্য ও দ্বন্দ্ব ২০১৭ সালে আরব ঐক্য ও বৃহত্তর পরিসরে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকার ২০১৭ সালে বৈধতা পাবে। যদিও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্রোহীরা সক্রিয় থাকবে। তাছাড়া বিশ্বশক্তিগুলো আসাদকে ক্ষমতা ভাগাভাগির বিষয়ে চাপ দিতে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র বিদ্রোহীদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। মিসর, তিউনিসিয়াসহ আরো কিছু দেশ আসাদ সরকারের সঙ্গে সীমিত সম্পর্ক বজায় রাখবে।
রাশিয়ার ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’র বছর
২০১৭ সালে রাশিয়ার নীতিনির্ধারণ অনেকটাই স্থবির থাকবে বলা যায়। ক্রেমলিনবান্ধব ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা নেয়ার পর কূটনীতিতে নতুন মাত্রা নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এ কারণে রাশিয়ার নীতিনির্ধারকদের অবস্থান হবে ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’। তাছাড়া ২০১৭ সালের জন্য রাশিয়ার নতুন অর্থনৈতিক নীতি দেশটির দেনার পরিমাণ বাড়াবে। বিভিন্ন খাতে খরচ কমানোর সিদ্ধান্তের কারণে ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যেকোনো রাজনৈতিক স্পর্শকাতর সংস্কার সরকার এড়িয়ে যাবে।
চীনের নেতৃত্বে পরিবর্তন
২০১৭ সালে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে বাড়তে পারে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা। তবে বৈদেশিক নিরাপত্তানীতিতে সুফল আসতে পারে। অবশ্য অর্থনীতি ও নিরাপত্তা— উভয় ক্ষেত্রেই নিজের জাতীয় স্বার্থকে বছরের পর বছর ধরে প্রাধান্য দিয়ে আসছেন চীনা নেতারা।
সংস্কারের ব্যাপারে আদর্শিক প্রত্যয় থাকলেও অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনায় রাজনৈতিকভাবে ঝামেলাপূর্ণ বিষয়গুলো আপাতত বাদ দিতে পারে শি জিনপিং প্রশাসন। ধারণা করা হচ্ছে, এতে চীনের আর্থিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে না। বরং দীর্ঘস্থায়ী বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির চালক হিসেবে দেশটির অর্থনীতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বাইরের অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা বাড়বে
ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) ভূখণ্ড হারানোয় বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলা কমবে যেমনটা ধারণা করা হয়, তা হবে না। আইএসের বিদেশী যোদ্ধারা নিজের দেশে ফিরে গিয়ে হামলা করতে পারে এবং দখলকৃত ভূখণ্ডে ঘাঁটি হারিয়ে এখন অন্য কোথাও সংগঠনটি নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়ার চেষ্টা করবে। এতে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ইতালি, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো বেশি আক্রান্ত হতে পারে। (ভাষান্তর জাহাঙ্গীর আলম)






