২০১৭ সালে যেদিন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জংউনের সৎ ভাই খুন হন, এর কয়েক দিন আগে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন এক মার্কিন গুপ্তচর। ওই হোটেলের ক্যামেরা ফুটেজে এ সাক্ষাত্কারের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

গত ডিসেম্বরে রাশিয়ার গুপ্তরচরদের কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে বেলিংক্যাট ওয়েবসাইট। কেজিবির উত্তরসূরি রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির তিন এজেন্টের টেলিফোন ও ভ্রমণ উপাত্ত প্রকাশ করে এ গবেষণামূলক ওয়েবসাইট। দেখা গিয়েছে, তারা রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে হত্যার চেষ্টা করেছেন।

বিশ শতকে অতি গোপনে যেভাবে বিভিন্ন গুপ্তচরবৃত্তি করা হতো, তা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশিক্ষিত সিআইএ কর্মকর্তারা বিভিন্ন নাম-পরিচয় নিয়ে অন্য দেশে ভিন্ন ভূগোলে চলে যেতে পারতেন। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন এজেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারতেন। কিন্তু এখন তাকে বিভিন্ন ডিজিটাল প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শুধু যে স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ, গাড়ি এমন নয়, সীমান্তে সর্বব্যাপী নজরদারি ক্যামেরা ও বায়োমেট্রিকস প্রযুক্তি বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। তারপর রয়েছে ‘ডিজিটাল ডাস্ট’, ইন্টারনেটে প্রায় প্রত্যেকে যে রেকর্ড রাখছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বেশ অগ্রগতি হওয়ায় ডাটা প্রসেস করা দ্রুততর হয়েছে। বর্তমানে দায়িত্বরত এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অবসরে যাওয়া মার্কিন ও পশ্চিমা গোয়েন্দারা বলছেন, প্রযুক্তি এত শক্তিশালী হয়েছে যে বিদেশের মাটিতে গুপ্তচরবৃত্তি অনেক কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, আমরা যেভাবে কাজ করি, তাতে বড় আকারের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে প্রযুক্তি। সর্বব্যাপী প্রযুক্তিগত মনিটরিং সিআইএর জন্য উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এজেন্ট নিয়োগ থেকে শুরু করে গোপনীয়তা চুরিতে নতুন পদ্ধতির দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান দ্য সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তথ্য সংগ্রহ ও শত্রুদের চিহ্নিত করতে অগ্রসর ডিজিটাল প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একই সুবিধা কিন্তু পাচ্ছে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশ।

প্রযুক্তির কারণে কাজের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে তা অস্বীকার করেন সিআইএর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তারা গুপ্তচরবৃত্তির নতুন ও পুরনো মাধ্যম ব্যবহার করে যাবেন। এআইয়ের জমজমাট অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদে মানবীয় বুদ্ধিমত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনটা মনে করেন সিআইএ কর্মকর্তারা।

তবে অনেকে এর সঙ্গে একমত নন। সিআইএর সাবেক পরিচালক দুইয়ান নরম্যান বলেন, আমি মনে করি গুপ্তচরবৃত্তির মূল উপাদান বিপর্যস্ত হয়েছে। সেগুলো একেবারেই নড়বড়ে। দায়িত্বরত অবস্থায় তিনি এজেন্সিকে ডিজিটাল যুগে নিয়ে যেতে কাজ করেছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো এজেন্ট হয়তো এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করল, তখন হয়তো তার তথ্য ও ছবি রেকর্ড হয়ে গেল। সঙ্গে থাকা স্মার্টফোন তার অবস্থান জানিয়ে দেবে। আবার এগুলো ছাড়া কি চলা যাবে? যদি কারো ইলেকট্রনিক উপস্থিতি না থাকে, সেলফোন কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার না করেন, তাহলেও এটা কিন্তু সন্দেহ বাড়িয়ে দেবে।

সিআইএর বিজ্ঞাপন ও প্রযুক্তি শাখার উপপরিচালক ডন মেবিরিকস ২০১৮ সালে এক বক্তৃতায় জানান, প্রায় ৩০টি দেশে বিদেশী গোয়েন্দারা সরকারি কর্মকর্তাদের সশরীরে অনুসরণ করেন না। সিসিটিভি ও তারবিহীন অবকাঠামো দিয়েই এ কাজ সারা যাচ্ছে।

—ওয়াশিংটন পোস্ট অবলম্বনে