রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবার ব্যবহারে দেশের যাত্রীদের বছরে আনুমানিক ১ কোটি ৭০ লাখ ঘণ্টা সাশ্রয় হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
৯০ শতাংশ যাত্রী জানান, যাতায়াতকালীন স্বস্তি তাদের উবার ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এছাড়াও ২০২১ সালে দেশের অর্থনীতিতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অবদান রেখেছে উবার। এক অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে প্রতিবেদনটি উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ-বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক নীতিগবেষণা সংস্থা পাবলিক ফার্স্ট প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি কীভাবে উবার যাত্রী, চালক ও সমাজের জন্য অন-ডিমান্ড অর্থনীতির পরিবর্তনে সাহায্য করেছে সে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আনুমানিক ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অবদান রেখেছে উবার। এর মধ্যে উবারের মাধ্যমে চালকদের উপার্জনের প্রভাব এবং বৃহত্তর পরিসরে কোম্পানির বিস্তৃত সরবরাহ ব্যবস্থায় পরোক্ষ ও বহুমুখী প্রভাব উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই বছর উবারের রাইড কনজিউমার সারপ্লাসে ৭ হাজার কোটি টাকা উৎপাদন করেছে, যা দেশের জিডিপির দশমিক ২৫ শতাংশ।
চালকদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ বলেন, ২০২১ সালে তারা উবার নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। এর মাধ্যমে গত বছর তারা অতিরিক্ত ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকা আয় করেছেন।
উবার ব্যবহারকারী ৯০ শতাংশ নারী যাত্রী জানান, তাদের উবার বেছে নেয়ার পেছনে নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অন্যদিকে ৭২ শতাংশ নারী যাত্রী রাতে দেরি করে বাড়ি পৌঁছানো আগের তুলনায় সহজ বলে জানিয়েছেন।
সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের অভিযাত্রায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জোয়ারে এর গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ২০৪১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে উবারের মতো আরো ব্র্যান্ড আমাদের উন্নয়নের অংশীদার হবে। আমাদের অর্থনীতিতে উবারের ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। উবারের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পাবলিক পলিসি ও গভর্নমেন্ট রিলেশনস বিভাগের সিনিয়র পরিচালক মাইক অরগিল বলেন, ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সুযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে উবার। কিন্তু আমাদের অবদানের ব্যাপ্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এ গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চালক, যাত্রী ও অর্থনীতির ওপর অবদানের সার্বিক প্রভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি। পাশাপাশি এর মাধ্যমে যাতায়াতের উন্নত ব্যবস্থা কীভাবে মানুষকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেয় এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সাহায্য করে সে বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।










