দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে নগদ অর্থ নির্ভরতা কমছে। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ভোক্তারা মোবাইল ওয়ালেট ও স্পর্শবিহীন কার্ডনির্ভর হয়ে পড়বেন। উপসাগরীয় বাণিজ্য নগরী দুবাইয়ে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
দুবাই পুলিশ, দুবাই ইকোনমি ও ভিসা কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন তারা দোকানপাটে নগদ অর্থের স্থলে ডিজিটাল পেমেন্ট করেছেন। স্পর্শবিহীন কার্ডের (কনট্যাক্টলেস কার্ড) মাধ্যমে লেনদেন করেছেন ৫৪ শতাংশ এবং মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করেছেন ৪৬ শতাংশ। করোনার কারণে ডিজিটাল নির্ভরতা আরো বেড়েছে। এতে রিটেইল ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের প্রশ্ন জেগেছে।
এডিএল মিডল ইস্টের অংশীদার পিয়েরে মারিয়ানি অ্যারাবিয়ান বিজনেসকে জানান, সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে ই-কমার্স ও আর্থিক সেবাকে কাছাকাছি আনতে ভূমিকা রাখছে বিভিন্ন মোবাইল সুপার অ্যাপ।
বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের রিটেইল ব্যাংকিংয়ের মতোই উপসাগরীয় অঞ্চলের খাতটি বড় চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নিম্ন সুদহারের কারণে ব্যাংকের মুনাফায় প্রভাব, নতুন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আসা চ্যালেঞ্জ, বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ কোম্পানির আর্থিক খাতে প্রবেশ প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের জন্য হুমকি হিসেবে হাজির হয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে শীর্ষ ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থ ব্যবস্থায় গ্রাহক আনুগত্যও দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) প্রায় দুই হাজার গ্রাহকের রিটেইল ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের ৪৫ শতাংশ গ্রাহকই বলছেন, তারা আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির সেবা গ্রহণে প্রস্তুত। জরিপে অংশ নেয়াদের ৪৯ শতাংশেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৪-এর মধ্যে।
ব্যাংকিং খাতে দ্রুত পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে বিভিন্ন সুপার অ্যাপ। সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরির মাধ্যমে ই-কমার্স ও আর্থিক সেবা খাতকে যূথবদ্ধ করছে এ সুপার অ্যাপগুলো। মহামারীর কারণে পুরো জিসিসি অঞ্চলেই ডিজিটালাইজেশন বেড়েছে। এতে রিটেইল ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা প্রদান শুরু করেছে।
২০২১ সালে ইউগভ পরিচালিত আরেক জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের স্থলে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
ইউএইর বাজারে ব্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার আকর্ষণীয় খাত হচ্ছে বিনোদন, শিক্ষা, রিটেইল ও খাদ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বক্সিং, রেসলিং ও ইউএফসির মতো দর্শকপ্রিয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, এর টিকিটিং, স্পন্সরশিপসহ বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরাসরি কোনো ব্যাংকে গিয়ে টিকিট কাটার চেয়ে গ্রাহকরা অবশ্যই ঘরে বসে কোনো সুপারঅ্যাপে এ কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।










