আগামী বছর থেকে যুক্তরাজ্যের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহকদের মাসিক বিল ১১৩ পাউন্ড বা ১২৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানিগুলো আগামী বছর মূল্যস্ফীতির দোহাই দিয়ে পরিষেবা ফি বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ইন্টারনেট বিল বাড়বে। সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গিয়েছে। খবর টেকটাইমস।
বিটি, টকটক, ইই, প্লাসনেট ও ভোডাফোনসহ যুক্তরাজ্যের বৃহৎ ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা রয়েছে। যার মাধ্যমে প্রতি বছর ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) এবং মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী গ্রাহকের ফি বাড়িয়ে থাকে। জানুয়ারির হিসাবে এরই মধ্যে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানায়, আগামী বছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি বেড়ে যাবে, ফলে চুক্তির মধ্যবর্তী লাখ লাখ ব্রডব্যান্ড গ্রাহকের বিল ১৪ শতাংশ বাড়বে।
সর্বশেষ ব্রডব্যান্ড সমীক্ষা বলছে, গ্রাহক ফি সর্বাধিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে বিটি কোম্পানির গ্রাহকদের। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিটি গ্রাহকরা যে ফি দিয়েছিলেন সে তুলনায় আগামী বছর ১১৩ পাউন্ড বা ১২৬ ডলার বেশি দেয়া লাগতে পারে।
বিটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান প্লাসনেট, পাঁচটি টেলিযোগাযোগের মধ্যে তার গ্রাহকদের জন্য সর্বনিম্ন মূল্য বৃদ্ধি করেছে, যার পরিমাণ ছিল ৮৭ দশমিক ১৫ পাউন্ড।
যদি টেলিকম সংস্থাগুলো ২০২৩ সালের এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ইন্টারনেট বিল ১০ শতাংশ বাড়ায়, তবে তার অর্থ হবে আগামী বসন্তে গ্রাহকদের ইন্টারনেট বিল ১২০-১৫৬ পাউন্ডের মধ্যে দেখতে হবে।
প্রধান অর্থনীতিবিদ ও পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির পরিচালক রোসিও কনচা এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, এটি মেনে নেয়া যায় না, অনেক ইন্টারনেট গ্রাহক স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সীমাহীন ব্যয়ের মধ্যেও মূল্যবৃদ্ধির শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, যদি কোনো গ্রাহকের চুক্তির মাঝ পথে দাম বাড়ানো হয়, সেটি স্পষ্টভাবে হোক বা না হোক, তাদের অবশ্যই কোনো ফি না দিয়ে চুক্তি বাতিল করার স্বাধীনতা থাকা উচিত। বিটি অবশ্য আগেই ঘোষণা দিয়েছে, তাদের নিজস্ব ব্যয় বাড়লেও আগামী বছর ফি অপরিবর্তিত থাকবে। এপ্রিল ও জুনের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বিল বৃদ্ধি তাদের বিক্রি বাড়ানোর উদ্যোগকে প্রভাব ফেলেছে।
তথাকথিত এ মূল্যস্ফীতি কৌশলটি আগামী বছর টেলিকম ব্যবসাগুলোকে প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত মুনাফা এনে দেবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা।










