স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন চিপ তৈরির মাধ্যমে পুনরায় সার্ভার বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম। সম্প্রতি এক ঘোষণায় এ কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। খবর টেকটাইমস।
ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি নুভিয়া অধিগ্রহণের পর নতুন একটি পণ্য তৈরি করেছে। বর্তমানে সেটি বিক্রির জন্য গ্রাহক খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যামাজন ক্লাউড ডিভিশন, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) কোয়ালকমের অফার পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
২০২১ সালে চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি নুভিয়া অধিগ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠানটির যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা রয়েছে সেটিকে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও অটোমোটিভ প্রসেসরে ব্যবহারে উদ্দেশ্যেই অ্যাপল এ পদক্ষেপ নেয়। কোয়ালকমের প্রস্তাব যাচাই করে দেখার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে অ্যামাজন। সানদিয়াগোভিত্তিক চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি তাদের চতুর্থ প্রান্তিকের আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। পূর্বাভাসে স্মার্টফোনের চাহিদা কমে যাওয়ায় সেলফোন চিপসেট উৎপাদন ব্যবসা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
কোয়ালকমের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা আকাশ পালখিওয়ালা জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলমান অস্থিতিশীলতা ও কভিড-১৯ মহামারীর কারণে চীনে আরোপিত বিধিনিষেধের প্রভাবে গ্রাহকরা বছরের বাকি অর্ধেক সময়ে সব ধরনের কেনাকাটার বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও চীনের লকডাউনের কারণে সরবরাহ চেইন ও চাহিদায় বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। যে কারণে অনেক সেলফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চিপের চাহিদা কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির ধারণা ২০২২ সাল শেষে স্মার্টফোন বিক্রি ৫ শতাংশ কমবে। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি) স্মার্টফোন বাজারজাতে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ অবনমনের পূর্বাভাস দিয়েছে। কোয়ালকমের অর্ধেকের বেশি বিক্রি হ্যান্ডসেট খাতেই হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপলের আইফোন ও স্যামসাং গ্যালাক্সি এস সিরিজের জন্য সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কর্মকর্তাদের আশা, প্রিমিয়াম সেগমেন্টের স্মার্টফোনের জন্য চিপ সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য খাতে ব্যবসা বিস্তারের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সেটি স্মার্টফোনে চাহিদা কমে যাওয়ার ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে দেবে। টাইমস অব সানদিয়াগোর তথ্যানুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনার প্রতিষ্ঠানটি হ্যান্ডসেট চিপ ব্যবসায় ৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।










