মহামারীর অভিঘাত ও পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের জেরে অচলাবস্থা তৈরি হয় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। সংকুচিত হয়ে পড়ে চিপ উৎপাদন ও রফতানি। যার প্রভাব পড়েছিল জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোয়। তবে চলতি অর্থবছরে প্রশমিত হতে শুরু করেছে চিপ সংকট। নতুন গাড়ির সরবরাহের ক্ষেত্রে সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এর ফলে। খবর নিক্কেই এশিয়া। 

চিপের সংকট কমে যাওয়ার জেরে টয়োটা ও নিশানের গাড়ি সরবরাহ ছয় মাস আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। টয়োটার ইয়ারিস সাব-কমপ্যাক্টের কথাই ধরা যাক। নভেম্বরে প্রতিটি ক্রয়াদেশের বিপরীতে সরবরাহ সময় ছয় মাস পর্যন্ত লেগে গিয়েছিল। অথচ মে মাসে সরবরাহ সময় কমে নেমে এসেছে তিন মাসে। অবশ্য একুয়ার জন্য অগ্রগতিটা অত বড় নয়। নভেম্বরে সরবরাহ সময় ছিল ছয় মাস। সেখানে মে মাসে সরবরাহ সময় কমে নেমে এসেছে পাঁচ মাসে। চিপ সহজলভ্য হয়ে আসার কারণে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে নিশানের নতুন গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে। আরিয়া বিদ্যুচ্চালিত এসইউভির সরবরাহ সময় আগে গত নভেম্বরে ছিল এক বছর। মে মাসে তা অর্ধেক কমে ছয় মাসে নেমে এসেছে। সরবরাহ সময়ের হারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে। উৎপাদনকারীরাও ক্রয়াদেশর দীর্ঘ তালিকা নিয়ে গতি ফিরিয়ে এনেছেন উৎপাদনে। তবে বড় ধরনের বিক্রিকে প্রাধান্য দিয়ে কার্যক্রম সাজাচ্ছে। 

টয়োটার গ্যাসোলিনচালিত সেডানের সরবরাহ সময় নভেম্বরে ছিল তিন মাস। এখন তার সরবরাহ সময় চার মাসে নেমে এসেছে। তবে ভক্সির মতো ছোট আকারের ভ্যানগুলোর সময় এখনো ছয় মাসই। হোন্ডার ক্ষেত্রেও গল্প খুব একটা আলাদা না। সরবরাহ সময় ছয় মাসই রয়েছে এন সিরিজের মিনিকারের জন্য। ফ্রিড সাব-কমপ্যাক্ট মিনিভ্যানের জন্য ছয় মাস ও ফিট সাব-কমপ্যাক্টের জন্য ছয় মাস। তবে ভিজেল এসইউভি, স্টেপ ডব্লিউজিএন মিনিভ্যান ও ফিটের গ্যাসোলিন সংস্করণে সরবরাহ সময় এক বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। নতুন গাড়ির ডিলারশিপ সাধারণত দুই সপ্তাহ লাগে। জনৈক টয়োটা ডিলার পূর্বাভাস দিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে ডিলারশিপ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য কার্যক্রম চলবে অক্টোবরে শুরু থেকে আগামী মার্চ পর্যন্ত। ডিলাররা গ্রাহককে উৎসাহিত করছেন অর্ডার করার জন্য। আগের চেয়ে বেশি চালানো হচ্ছে তৎপরতা। জাপানের ক্রেতারা সাধারণত প্রয়োজনীয় গাড়ির ব্যাপারে খবরাখবর নিয়ে গাড়ির ব্যাপারে অর্ডার স্থাপন করে। ফলে টোকিওর ডিলাররা গ্রাহককে আগাম নোটিস পাঠিয়ে দিচ্ছেন, যেন এক বছর আগে থেকেই খবর নিয়ে রাখেন। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চিপ সংকট নিরসন ও দেশীয় বাজারে বিক্রয় বাড়ানো নিয়ে কাজ করছে। টয়োটা রফতানির হার কমিয়েছে নতুন গাড়ির। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৬০ শতাংশ রফতানি করলেও এপ্রিলে কমে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে।