কর্মক্ষেত্র বা যাত্রার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে থাকা অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ থাকে না। সম্পূর্ণ চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে হয় তীরে পৌঁছানো পর্যন্ত। তবে এবার এ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা করতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর। অসুস্থ হয়ে পড়া সমুদ্রযাত্রীদের দ্রুততার ভিত্তিতে চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দিতে ড্রোন পরিষেবা চালু করতে যাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চালু করা হবে টেলিকনসালটেশন পরিষেবা। এর ফলে তীরে না এসেও ডাক্তারের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে নেয়া যাবে পরামর্শ।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিষেবাটি সিঙ্গাপুরের শিপিং সংস্থাগুলোয় যারা কাজ করেন তাদের লক্ষ্যে চালু করা হবে। আগামী জুলাইয়ে ‘টেলকো এম১’ এবং সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবা সংস্থা ‘ফুলারটন হেলথের’ মধ্যে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এটি পরিচালিত হবে।
সমুদ্রে ড্রোন এবং উচ্চমানসম্পন্ন ভিডিও কলের জন্য ব্যবহার হবে এম১-এর ফাইভজি মেরিটাইম নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। সম্প্রতি সেন্ট জন দ্বীপ, বুকম দ্বীপ ও র্যাফেলস বাতিঘর এ তিনটি স্টেশনে যা এরই মধ্যে চালু হয়েছে। এর প্রত্যেকটির নেটওয়ার্ক বিস্তৃতি কমপক্ষে ১৫ কিলোমিটার। সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ উপকূলীয় জলভাগে নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের মধ্যে আরো নয়টি স্টেশন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
প্রতিবেদন বলছে, উপকূলে রোগীদের নিয়ে আসতে প্রতিবার ৩০০ থেকে ৬০০ ডলার প্রয়োজন হয়। এ বিষয়ে, সিঙ্গাপুরের একজন চিকিৎসক ডা. লিম স্ট্রেইটস টাইমসকে বলেছিলেন, যখন সমুদ্রযাত্রীরা অসুস্থ থাকে, তারা সাধারণত ফোনে বা ই-মেইলের মাধ্যমে ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ করে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়। তবে ফাইভজি নেটওয়ার্ক যুক্ত করা হলে চিকিৎসকরা বুঝতে পারবেন রোগীর অবস্থা কেমন। রোগীর ক্লিনিকে আসা উচিত কিনা বা ওষুধ সরবরাহ করা লাগবে কিনা। যদি ওষুধ প্রয়োজন হয় তখন ড্রোনের মাধ্যমে সেটি পাঠানো যাবে। এক্ষেত্রে পরামর্শের ৩ ঘণ্টার মধ্যে অসুস্থ কর্মীরা জাহাজ বা নৌকাটিকে উপকূলে ভেড়ানো ছাড়াই ছোটখাটো ক্ষত বা জ্বরের মতো কম মাত্রার অসুস্থতায় ওষুধ পেতে পারেন।










