ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে পরিবেশে ফেনল ও সালফারসহ বিষাক্ত সিনথেটিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ছড়াচ্ছে। বর্জ্য শোধনাগার কেন্দ্রগুলো থেকে এসব বিষাক্ত পদার্থ ধূলিকণার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এতে শোধনাগারের কর্মীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্প্রতি এক গবেষণা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর এএনআই।

গবেষণাটি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি লেটার্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিক, রাবার ও পলিমারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সিনথেটিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ব্যবহার করে। ফলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাতিল হলেও এর বাহ্যিক অংশ সহজে নষ্ট হয় না। শোধনাগারে যখন এসব ডিভাইসের বাহ্যিক অংশ ভাঙা হয়, তখন সেখান থেকে ফেনল ও সালফারসহ বিষাক্ত সিনথেটিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

আগের এক গবেষণায় পরিবেশ দূষণ ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর লো-মলিক্যুলার ওয়েট সিনথেটিক ফেনোলিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উপস্থিতির বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। ল্যাব পরীক্ষায় এসব পদার্থের কিছু প্রাণী ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে প্রমাণিত হয়।

সম্প্রতি উৎপাদনকারীরা অধিক কার্যকর ও কম নিঃসরণকারী হাই-মলিক্যুলার ওয়েট সিনথেটিক ফেনোলিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পদার্থ উন্মোচন করেছে। এটি হিন্ডারড ফেনোল অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস (এইচপিএ) নামে পরিচিত। এইচপিএ ছাড়াও সালফার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যৌগগুলো প্রায়ই রাবার ও প্লাস্টিকের পলিমারগুলোয় সহায়ক হিসেবে যুক্ত করা হয়।

পরিবেশের ওপর নতুন পদার্থগুলোর প্রভাব ও এর বিষাক্ততার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই লিক্সি জেং ও তার সহযোগীরা ইলেকট্রনিক বর্জ্য শোধনাগার থেকে উত্পন্ন নতুন এইচপিএ এবং এসএ পদার্থের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে যেসব কেন্দ্রে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইলফোন, ট্যাবলেট ভাঙা ও পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

২০২০ সালের আগস্টে চীনের ইচুন শহরের একটি শিল্প পার্কে থাকা ই-বর্জ্য শোধনাগারের তিনটি বিভাগ থেকে গবেষকরা ৪৫টি ধুলোর নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। বিভাগগুলো হলো ওয়্যার অ্যান্ড কেবল ডিসম্যান্টলিং, ইলেকট্রনিক প্লাস্টিক প্রসেসিং ও সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য। এরপর গবেষকরা লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ক্রোমাটোগ্রাফি হচ্ছে কেনো পদার্থের মিশ্রণে থাকা উপাদানগুলোকে আলাদা করা। ১৮টি এইচপিএ ও ছয়টি এসএর উপস্থিতি যাচাইয়ে এ পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। পরীক্ষায় বাতাসে ২৪টি উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে জর্জিয়া ও কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসভুক্ত (সিআইএস-সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত স্বাধীন দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা) দেশগুলোয় উপাদিত ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১০-১৯ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী উপাদিত ইলেকট্রনিক বর্জ্যের তুলনায় দেশগুলোয় এ বৃদ্ধির পরিমাণ লক্ষ করা যায়। বিশ্বব্যাপী উপাদিত ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ সংগ্রহ ও নিরাপদ সংস্থান করা হয়। অন্যদিকে জর্জিয়া ও সিআইএসভুক্ত দেশগুলোয় উপাদিত এসব ইলেকট্রনিক বর্জ্যের মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশ সংগ্রহ ও নিরাপদ সংস্থান করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় যথেষ্ট কম।

ইউএন বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএনইউ) ও ইউএন ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চের (ইউএনআইটিএআর) সহযোগিতায় প্রথমবার ‘রিজিওনাল ই-ওয়েস্ট মনিটর, সিআইএন প্লাস জর্জিয়া’ শিরোনামে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সাসটেইনেবল সাইকেলস (এসসিওয়াইসিএলই) প্রোগ্রাম।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সিআইএসভুক্ত দেশগুলো ও জর্জিয়ার বিভিন্ন পণ্য থেকে ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হয়। তবে প্রধানত তিনটি ভাগে এগুলোকে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো তাপমাত্রা পরিবর্তন যন্ত্র থেকে উপাদিত বর্জ্য—যেমন হিটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও রেফ্রিজারেশন ইউনিট; বৃহদাকারের যন্ত্র—যেমন ওয়াশিং মেশিন অথবা ওভেন এবং ক্ষুদ্র যন্ত্র—যেমন রান্নাঘরের সামগ্রী অথবা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। প্রধানত এ তিন ধরনের ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ মোট উপাদিত বর্জ্যের ৭৭ শতাংশ।