ভিয়েতনামে অ্যাপল ওয়াচ ও ম্যাকবুক উৎপাদন চালুতে আলোচনা চালাচ্ছে অ্যাপল। চীননির্ভরতা কমানো এবং উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যে ভিয়েতনামে অ্যাপল পণ্য উৎপাদনে জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি। নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় কারখানায় পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপল ওয়াচ তৈরি শুরু করেছে অ্যাপলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লাক্সশেয়ার প্রিসিজন ইন্ডাস্ট্রি ও ফক্সকন। প্রথমবারের মতো চীনের বাইরে অ্যাপল ওয়াচ তৈরি করল চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিষয় সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র নিক্কেই এশিয়াকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চীনের বাইরে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আগে থেকেই আস্থা অর্জন করেছে ভিয়েতনাম। এতদিন ভিয়েতনাম কারখানাগুলোয় আইপ্যাড ট্যাবলেট ও এয়ারপড ইয়ারফোন তৈরি হয়ে আসছিল।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাপল ওয়াচ তৈরিতে আরো দক্ষতা ও সতর্কতার দাবি রাখে। কারণ ছোট্ট একটি কেসে অনেকগুলো যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করতে হয়। এমনতর ডিভাইস উৎপাদনের মাধ্যমে ভিয়েতনাম বিশ্ববাজারে আরো আস্থা অর্জন করবে। প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে পরিণত হতে ভিয়েতনামের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় রসদ জোগাবে অ্যাপলের এ সিদ্ধান্ত।

সাংহাইয়ে কভিড-১৯ সংক্রান্ত লকডাউনের সময়েই আইপ্যাড উৎপাদনের কাজ ভিয়েতনামে সরিয়ে আনতে শুরু করে অ্যাপল। চীনে অ্যাপলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তবে সূত্রগুলো নিক্কেই এশিয়াকে জানায়, ভিয়েতনামে আইপ্যাড উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে অ্যাপলের শীর্ষ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফক্সকন। বর্তমানে হোমপড স্মার্ট স্পিকার নির্মাণ পরীক্ষামূলকভাবে শুরুতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অ্যাপল আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানায় সূত্রগুলো।

সংশ্লিষ্ট দুই সূত্রের ভাষ্য, ভিয়েতনামে পরীক্ষামূলকভাবে ম্যাকবুক উৎপাদন চালুতে সরবরাহকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে অ্যাপল। তবে মহামারী-সংক্রান্ত জটিলতা এখনো কাটিয়ে না ওঠায় দেশটিতে পুরোদমে ম্যাকবুক উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না। অ্যাপলের পণ্য উৎপাদনে সরবরাহ চেইনের মধ্যে যে সংযোগ থাকা দরকার তা ঠিকভাবে নিশ্চিত করতে পারে চীন। এখনো পণ্য উৎপাদনের সব নেটওয়ার্ক সচল করে উঠতে পারেনি ভিয়েতনাম।

একটি সূত্র বলছে, ভিয়েতনামে আইফোন উৎপাদন ছাড়াও এয়ারপড, অ্যাপল ওয়াচ, হোমপড নিয়ে বড় পরিকল্পনা রয়েছে অ্যাপলের। ম্যাকবুকের উপকরণ এখন অধিকতর সহজলভ্য হওয়ায় চীনের বাইরেও ল্যাপটপ উৎপাদন সহজতর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পণ্য উৎপাদনে চীননির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো ভিয়েতনামে এয়ারপড উৎপাদন শুরু করে অ্যাপল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে বেইজিং-ওয়াশিংটনের বাণিজ্য যুদ্ধের সময়েই ইয়ারফোন উৎপাদন চীনের বাইরে নিয়ে আসে তারা। এতে কয়েক দশকব্যাপী এককভাবে যে চীননির্ভরতা ছিল তা কমার আভাস পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ ভিয়েতনামের জন্য সোনায় সোহাগা হিসেবে দেখা দিয়েছে। নিক্কেই এশিয়ার জরিপে দেখা গিয়েছে, ২০১৮ সালে ভিয়েতনামে যেখানে ১৪টি কারখানা ছিল সেখানে বর্তমানে অ্যাপলের সরবরাহকারীদের কারখানা ২২টি ছাড়িয়েছে। চীননির্ভরতা কমাতে ভিয়েতনামে কারখানা চালু করেছে গুগল, ডেল ও অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট।

ইসাইয়াহ রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এডি হ্যান বলেন, ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের টানাপড়েনের মধ্যে উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে ইলেকট্রনিকস পণ্য নির্মাতারা। শীর্ষ স্মাটফোন বিক্রেতা কোম্পানি স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় কারখানা এখন ভিয়েতনামে। অ্যাপলের আস্থা অর্জন করতে পারলে অন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও সেখানে কার্যক্রম বাড়াবে, তা-ই স্বাভাবিক।