বিভিন্ন সোস্যাল সাইট ও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই আয় করে আসছিলেন অনেকে। গেম স্ট্রিমার, বিউটি ব্লগার, পডকাস্ট প্রযোজক, ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার, নিউজলেটার লেখক ও অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়া স্টাররা ছিলেন এ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যমণি। ২০২১ সালে রেকর্ডসংখ্যক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৈরি হয়েছে। এতে ভূমিকা রেখেছে করোনার প্রভাবে অর্থনীতিতে পরিবর্তন এবং বিভিন্ন প্লাটফর্ম কর্তৃক নিজ নিজ প্লাটফর্মে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ বিনিয়োগ। খবর এনগ্যাজেট।

আগে ইনফ্লুয়েন্সারদের আকৃষ্ট করতে তেমন চেষ্টা না করা অনেক প্লাটফর্মই তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। যারা আগে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে তেমন সম্পর্ক রাখত না তারা এখন মনিটাইজেশন টুলস নিয়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠিত ও ক্রিয়েটরবান্ধব কোম্পানিগুলো নতুন তহবিল ও টুলস নিয়ে তাদের পরিকল্পনা ঢেলে সাজাচ্ছে।

ভিডিওকেন্দ্রিক একমাত্র মনিটাইজেশন ফিচার ছিল টুইটারের। কিন্তু পাবলিশার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আকৃষ্ট করতে পুরো প্লাটফর্ম ঢেলে সাজাচ্ছে মাইক্রোব্লগিং সাইটটি। ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য প্যাট্রিয়নের মতো সুপার ফলোজ সাবস্ক্রিপশন সেবা চালু করেছে তারা। লাইভ অডিও ফিচার থেকে আয়ের জন্য টুইটার চালু করেছে টিকেটেড স্পেসেজ। এছাড়া ইন-অ্যাপ টিপ ও নিউজলেটার প্লাটফর্ম চালু করেছে টুইটার।

ইনফ্লুয়েন্সার ধারণা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা স্ন্যাপচ্যাট সম্প্রতি ২৫ কোটি ডলারের তহবিল ঘোষণা করে। স্পটলাইট ফিচারের মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ২০২০-এর শেষের দিকে এ অর্থ বরাদ্দ করেছে স্ন্যাপ মালিকানাধীন অ্যাপটি। এছাড়া স্ন্যাপচ্যাট ডিসকভার নামে ফিচারে নিজস্ব শো আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছেন প্লাটফর্মটির বড় তারকারা।

ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আকৃষ্টে প্রয়াস আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ফেসবুক। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বলে আসছে সিইও মার্ক জাকারবার্গ। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ২০২২ সালের শেষ নাগাদ ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ক্রিয়েটর ও মনিটাইজেশন ফিচার নিয়ে কখনো আওয়াজ করতে দেখা না গেলে পিন্টারেস্টের মতো প্লাটফর্মকেও দেখা গেছে ৫ লাখ ডলারের ক্রিয়েটর ফান্ড তৈরিতে। পেশাজীবীদের সাইট লিংকডইন আড়াই কোটি ডলারের একটি ক্রিয়েটর ফান্ড তৈরি করেছে। ক্লাবহাউজ চালু করেছে টিপিং ফিচার। ব্লগারদের জন্য সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস চালু করেছে টাম্বলার।

আগে থেকেই কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পছন্দের সাইট ইউটিউব জানিয়েছে, ২০২১ সালে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল ক্রিয়েটর ইকোনমি সম্প্রসারণ। টিকটকের মতো শর্টস ফিচারের জন্য ১০ কোটি ডলারের নতুন তহবিল ঘোষণা করেছে গুগল নিয়ন্ত্রণাধীন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মটি। ২০২০ সালে ২০ কোটি ডলারের তহবিল ঘোষণা করা টিকটক নতুন মনিটাইজেশন ফিচার চালু করেছে।

বিভিন্ন প্লাটফর্মে অর্থ ওড়াউড়ি করায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের উৎসও বাড়ছে। পেমেন্ট কোম্পানি স্ট্রাইপ জানায়, ২০২১ সালে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সংখ্যা ২০২০-এর তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে ৫০টি প্লাটফর্মে আগামী পাঁচ বছরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সংখ্যা ১ কোটি ৫৫ লাখে দাঁড়াবে।

চলতি বছরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে মহামারী। আগে থেকেই অনেকে কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করলেও করোনা মহামারীতে এ খাতে বুম ঘটেছে। পেশা ও আয়ের বিকল্প মাধ্যম না থাকায় বিভিন্ন প্লাটফর্মে কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে আয়ের চেষ্টা চালিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।