মাইক্রোসফট ও ওরাকলের মতো কোম্পানিগুলো অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে এমন ডাটা সেন্টারের শক্তির চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে বেশ অনেকটা সময় ধরেই। ফলে তারা পারমাণবিক শক্তির মতো বিকল্প দিকে নজর দিচ্ছে। কিন্তু স্পেনের ডিস্ট্যান্স ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রিদ (ইউডিআইএমএ) ও কলম্বিয়ার মিশন ক্রিটিকা ডাটা সেন্টারের গবেষকরা বিদ্যুৎ শক্তির এ সমস্যা ভিন্নভাবে দেখছেন। ডাটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার পরিবর্তে তারা এমন উপায় খুঁজছেন, যেন ডাটা সেন্টারগুলো নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। খবর টেকর‍্যাডার।

গবেষকরা বলছেন, তারা বর্জ্য বায়ুকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে পরিণত করতে কুলিং ফ্যান থেকে বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছেন। অন্য কোনো প্রক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হওয়া এ বায়ুকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যেন এটি অপচয় না হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করে।

ডাটা সেন্টারের এইচভিএসি সিস্টেমগুলো বাইরে গরম বাতাস ছেড়ে দেয় এবং বাতাসের একটি স্থির উৎস তৈরি করে, যা বিদ্যুতে পরিণত হতে পারে। কলম্বিয়ার একটি ডাটা সেন্টারের এক গবেষণায়, গবেষকরা এ বর্জ্য বায়ুর জন্য টেসআপ ভিসেভেন ভার্টিক্যাল উইন্ড টারবাইন ব্যবহার করেছেন। এ টারবাইনগুলো কুলিং যন্ত্রের ওপর স্থাপন করা হয়। এগুলো আকারে ছোট ও ওজনে হালকা হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষ। গবেষণায় দেখা গেছে, ছয়টি বায়ু টারবাইন কৃত্রিম বায়ুপ্রবাহ থেকে প্রতি বছর ৫১৩ দশমিক ৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এ পরিমাণ ফ্যাসিলিটির ফ্যানগুলোর শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল, যার ফলে ১৩১ দশমিক ১২ মেগাওয়াট প্রতি ঘণ্টা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়েছিল।

সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণায় তাদের ফলাফলের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুবিধার কথা বলা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সম্ভাব্য অসুবিধার কথাও বলেছেন প্রযুক্তিবিদরা। যেমন উচ্চ খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ, শক্তি উৎপাদনে সম্ভাব্য অদক্ষতা, স্থানসংশ্লিষ্ট সীমাবদ্ধতা, নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ, শব্দের উদ্বেগ এবং টারবাইন উৎপাদন ও ইনস্টলেশনের কারণে পরিবেশের ওপর প্রভাব।