ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের পর রাশিয়ায় প্রযুক্তিগত সব ধরনের সহায়তা বন্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতি আবেদন জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। এতে সাড়া দেয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কর্মীরা। খবর রয়টার্স।
চলতি মাসে ইউক্রেনের নেতার কাছে পাঠানো লিখিত এক বার্তায় মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ পরিষ্কারভাবে জানান, রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছেদে কিয়েভের আহ্বান সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি স্কুল, হাসপাতালসহ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
গত ১৪ মার্চ পাঠানো আরেকটি চিঠিতে স্মিথ জানান, স্কুল-হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার আপডেটসহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান বন্ধ করলে তা শিশু, বৃদ্ধসহ নিরীহ নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় তাদের নৈতিক দায়িত্বের বিষয়ে জানান। বর্তমানে রাশিয়ায় সব ধরনের কার্যক্রম ও পরিষেবা বন্ধের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, সেটি স্থগিতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিনিময়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে মাইক্রোসফট ও ইউক্রেনের মুখপাত্ররা এ বিষয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জানান।
ইউক্রেনের আবেদন সত্ত্বেও রাশিয়ায় মাইক্রোসফট, জার্মানির সফটওয়্যার বিজনেস টেকনোলজি প্রতিষ্ঠান এসএপি এসই এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনের (আইবিএম) কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত অন্যান্য দেশের কর্মীদের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। মাইক্রোসফট, এসএপি ও আইবিএমে কর্মরতদের একটি ছোট গ্রুপ ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ায় সব কার্যক্রম বন্ধের পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ১৮ জন কর্মীর মতের ভিত্তিতে রয়টার্স এ বিষয়ে জানতে পারে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা ইউক্রেনের আবেদনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে রাশিয়ায় নতুন পণ্য বিক্রি বন্ধে ও অনুমোদিত ব্যবসায়িক অংশীদারদের বাদ দেয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছেন। তারা রাশিয়ায় সব ধরনের চুক্তি বাতিলের কথা জানিয়েছেন। যার মধ্যে বিক্রি, সরবরাহ চেইন ও কর্মপরিবেশ অনুসরণে ব্যবহূত সফটওয়্যারও রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপের বিষয়ে আইবিএম জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব প্রকার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। রয়টার্সকে দেয়া এক বিবৃতিতে এসএপি জানায়, তারা ইউক্রেন সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সব কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে আলোচনাধীন যেকোনো নিষেধাজ্ঞা মেনে কাজ করতে প্রস্তুত।
রাশিয়ার সঙ্গে সব প্রকার কার্যক্রম বন্ধে ইউক্রেনের আহ্বানে সাড়া দেয়ার কথা জানিয়েছে এসএপি। চলতি মাসে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার হাসপাতাল, বেসামরিক অবকাঠামো, সরবরাহ চেইনসহ অপরিহার্য রাশিয়ান পরিষেবায় কাজ করার বিষয়ে জানিয়েছে।
তিনটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনার কথা জানায়নি। এখন পর্যন্ত রাশিয়ায় অবস্থানরত কর্মীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন বলে তাদের সহকর্মী সূত্রে রয়টার্স জানতে পেরেছে। পাশাপাশি সেখানকার আঞ্চলিক ফোন নাম্বারও চালু রয়েছে। পশ্চিমা প্রযুক্তি ব্যবসায় নিজস্ব কর্মীদের কাছ থেকে প্রাপ্তির বিষয়ে ও রাশিয়া ত্যাগে ইউক্রেন সরকারের আবেদনের বিষয়ে ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র জানান, কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। কেউ কেউ এখনো রয়েছে। তাদের অভাব পূরণে নতুন প্রতিষ্ঠান চলে আসবে।
রাশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে অবস্থানরত পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অপরিহার্য পণ্যের উৎপাদন সচল রাখতে আইনপ্রণেতারা সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যানুযায়ী আইবিএম এ তালিকায় রয়েছে।










