সেলফোন ও ট্যাব মেরামতে ও স্থায়িত্ব বাড়াতে নতুন নিয়ম কার্যকরের প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইন প্রণয়নকারী শাখা। প্রস্তাবের তথ্যানুযায়ী, নতুন সেলফোন বাজারজাত করার পর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারিত ১৫টি যন্ত্রাংশের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে। খবর এনগ্যাজেট।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাহকরা ব্যাটারি, ডিসপ্লে, চার্জার, ব্যাক কভার থেকে শুরু করে সিম ও মেমোরি কার্ডের মতো যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করতে পারবে বলে দ্য ভার্জের নোট সূত্রে জানা গেছে। এসব যন্ত্রাংশ পরিবর্তন ও সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি ইউরোপিয়ান কমিশন ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানোর বিষয়টি তদারক করছে।
বিবৃতিতে কমিশন জানায়, সেলফোন ও ট্যাবলেটে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হবে সেগুলো পূর্ণ সক্ষমতা থেকে ৮৩ শতাংশে নেমে আসার আগে অন্তত ৫০০ বার ফুল চার্জ গ্রহণে সক্ষম হতে হবে। প্রস্তাবিত প্রবিধানের অধীনে সেলফোনে ব্যাটারির স্থায়িত্ব, হাত থেকে কিংবা পানিতে পড়লে ক্ষতি হবে না, এমন রেটিংস ও সার্টিফিকেটগুলোর বিস্তারিত লেবেলে লিখিত থাকতে হবে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমের তথ্যানুযায়ী, ইলেকট্রনিক বর্জ্য ও পরিবেশের ওপর সেলফোন-ট্যাবলেটের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে নতুন এ নিয়ম কার্যকরের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এক জরিপের তথ্যানুযায়ী, স্মার্টফোনের স্থায়িত্ব পাঁচ বছর বাড়ানো রাস্তা থেকে ৫০ লাখ গাড়ি অপসারণের সমান। প্রস্তাবের মাধ্যমে একটি বিষয় জানানো হয়, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ডিভাইসকে আরো বেশি মেরামতযোগ্য ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য করতে পারলে এগুলোর উৎপাদনে যে পরিমাণ শক্তি ও অর্থ ব্যয় হয় তা অনেকাংশেই কমে আসবে।
অন্যদিকে, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এসব যন্ত্রাংশ সরবরাহের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। তাদের দাবি দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় এসব যন্ত্রাংশের সরবরাহ নিশ্চিত করতে গেলে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়বে। এ বিষয়ে ইউরোপের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্য গ্রুপগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ডিজিটাল ইউরোপ জানায়, অধিক হারে যন্ত্রাংশের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাড়তি উপাদান ধ্বংসের কারণে সম্পদের অপচয় হবে। পাশাপাশি উপাদানের সক্ষমতা কমবে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যে কারণে পরে সামগ্রিক ব্যয় ভোক্তার ওপরই বর্তাবে।
কিছু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেলফ রিপেয়ার প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও টুল সরবরাহের মাধ্যমে এ প্রবিধানের আগে এগিয়ে যেতে চাইছে। এরই মধ্যে কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল, সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং তাদের ব্যবহারকারীদের কাছে স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি শুরু করেছে।
প্রস্তাবিত প্রবিধান সফটওয়্যার আপডেটের বিষয়কেও প্রভাবিত করবে। কোনো ডিভাইস বিক্রি বন্ধের পরের পাঁচ বছর উৎপাদনকারীদের সিকিউরিটি আপডেট দিতে হবে এবং তিন বছর ডিভাইস চালু রাখার সুবিধা দিতে হবে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলক ইউএসবি-সি পোর্টের চার্জারসংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন করেছে ইইউ। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট ও ইউরোপিয়ান কাউন্সিল এতে সবুজ সংকেত দিয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ২০২৪ সাল থেকেই সব ফোনে একই ধরনের চার্জার থাকতে হবে।
অনেক দিন ধরেই এক ফোন এক চার্জার নীতিমালার পক্ষে জোরেশোরে প্রচারণা চালিয়ে আসছিল ইইউ কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে যত ফোন লঞ্চ হবে, তা সে যে ব্র্যান্ডেরই হোক না কেন, থাকতে হবে ইউএসবি-সি পোর্ট। ইইউর আইনপ্রণেতারা অবশেষে এমনই সমঝোতায় পৌঁছেছেন। খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ২০২৪ সালে পদার্পণের পর থেকেই ইইউতে যত ফোন লঞ্চ করবে, সেগুলোয় ইউএসবি-সি চার্জিং পোর্ট বাধ্যতামূলক।
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের গণসংযোগ প্রধান অ্যালেক্স এজিয়াস সালিবা এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিটি নতুন ডিভাইসের জন্য বিভিন্ন চার্জার ব্যবহার করতে করতে ইউরোপীয় ভোক্তারা ত্যক্ত-বিরক্ত। এবার থেকে তারা সব পোর্টেবল ইলেকট্রনিকস ডিভাইসে একটাই চার্জার ব্যবহার করতে পারবেন।










