চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতের বাজারে স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ইউনিট, গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় যা ৬ শতাংশ কমেছে। ৯২ লাখ স্মার্টফোন বিক্রির মাধ্যমে ভারতের বাজারে শীর্ষস্থান শাওমির। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্যামসাংয়ের বিক্রি হয়েছে ৮১ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা ভিভো ও অপোর বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৭৩ লাখ ৭১ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন। ৬২ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রির মাধ্যমে পঞ্চম স্থান আরেক চীনা ব্র্যান্ড রিয়েলমির। ক্যানালিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ক্যানালিসের বিশ্লেষক সানিয়াম চৌরাসিয়া বলেন, সুখবর হচ্ছে উৎসব মৌসুম শুরু হওয়ায় গত প্রান্তিকের কয়েক সপ্তাহে চাহিদা চাঙ্গা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় এন্ট্রি-লেভেলের ডিভাইসের বাজার সংকুচিত হয়েছে। তবে মাঝারি থেকে উচ্চমূল্যের সেগমেন্টে বিক্রি বেশ চাঙ্গা ছিল। এতে অপোর ওয়ানপ্লাস ও ভিভোর আইকিউওওর মতো ব্র্যান্ড ভূমিকা রেখেছে।

ফাইভজি হ্যান্ডসেটও ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে জানান চৌরাসিয়া। তিনি বলেন, এন্ট্রি-লেভেলের ব্র্যান্ডগুলোও ফাইভজি সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। প্রধান ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে টেক্কা দিতে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ফাইভজি স্মার্টফোন আনতে কাজ করছে গুগল ও জিও।

ভারত, চীনসহ প্রধান বাজারগুলোয় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে স্মার্টফোন বিক্রি কমেছে। ক্যানালিসের বিশ্লেষক সানিয়াম চৌরাসিয়া বলেন, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিক ও ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে স্মার্টফোন বাজার চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন ডিসকাউন্ট ও বান্ডেল প্রমোশনের আশায় হয়তো অনেক গ্রাহকই নতুন স্মার্টফোন ক্রয় পেছাচ্ছে। গত বছরের এ উৎসব মৌসুমে যে রকম স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছিল এবার তেমনটা দেখা যাচ্ছে না।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চীনে প্রলম্বিত লকডাউন, শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। এতে সেমিকন্ডাক্টর, ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি), এলসিডি প্যানেলসহ প্রায় সব ধরনের পণ্য ও শিল্প উপকরণ বিক্রি কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকের মতো দ্বিতীয় প্রান্তিকেও বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রি ৯ শতাংশ কমেছিল।

মহামারীর প্রথম দুই বছরে পেশাগত প্রয়োজন ও বিনোদন চাহিদা পূরণে স্মার্টফোন, ট্যাব ও পিসির চাহিদা রেকর্ড সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছিল। বিষয়টি আমলে নিয়ে স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিগুলোও বাজারে নিত্যনতুন মডেলের হ্যান্ডসেট নিয়ে আসে। ভোক্তাদের কাছে এখন বিভিন্ন বিকল্প। বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্য বাদে ব্যয় কমাচ্ছে ভোক্তারা।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রি চার বছরের সর্বোচ্চ ছিল। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২১ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রি ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৩৯ কোটি ইউনিট। ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ কোটি ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ জানায়, ২০১৭ সালে রেকর্ড ১৫৬ কোটি ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি হয়।