প্রণোদনা প্যাকেজের সহায়তায় বর্তমানে প্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন ধরনের চাহিদা বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে ২০০ কোটি ইউরো বা ২১৬ কোটি ডলারের নতুন বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছে সিমেন্স। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে জার্মানির ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি গ্রুপ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন কারখানা, গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে সিমেন্স। কভিড-১৯ মহামারী ও ভূরাজনৈতিক কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

২০২৩ সালে যেসব বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়েছে বিনিয়োগে সেসব বিষয়ও থাকবে। এর মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে শিল্প খাত স্বয়ংক্রিয় করার জন্য ২০ কোটি ইউরোর কারখানা স্থাপন করা হবে। এক বিবৃতিতে সিমেন্সের প্রধান নির্বাহী রোল্যান্ড বুশ বলেন, ‘সিমেন্স বাজারে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে। যে কারণে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, নতুন উদ্ভাবন ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।’‌

চলতি বছর গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে আরো ৫০ কোটি ইউরো ব্যয় করবে জার্মানির এ প্রযুক্তি কোম্পানিটি। বর্তমানে সিমেন্সে ৩ লাখ ১১ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে। কোম্পানিটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। ২০২২ সালে কোম্পানিটির বার্ষিক বিক্রি ১৬ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ২০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।

সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এক ইভেন্টে বুশ বলেন, ‘অর্ডার ব্যাকলগের কারণে মূলত এ পরিমাণ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।’ এর আগে দেয়া এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, ২০২২-২৭ সালের মধ্যে ট্রেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজার ৭ শতাংশ বাড়বে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গৃহীত প্রণোদনা প্রকল্পের মাধ্যমে এ বিনিয়োগ পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আইন ও ইউরোপের গ্রিন ডিল অন্যতম। বিশ্লেষকদের গত মাসে বুশ জানান, সিমেন্স প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় দ্রুত বাজার হিস্যা বাড়াতে চায়। এসব বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতেই বিনিয়োগ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যে বিদ্যমান উদ্বেগের কারণে অনেক কোম্পানিই চীননির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে চাইছে। বিশেষ করে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রকট। সিঙ্গাপুর প্রকল্পের জন্য চীনকে অন্যতম জায়গা হিসেবে প্রাধান্য দিলেও সিমেন্সের সুপারভাইজরি বোর্ড এতে বাধা দেয়। মূলত দুটি দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে শঙ্কা থাকায় বোর্ড বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তবে এর মাঝেও চীনের চেংডু শহরে ১৪ কোটি ইউরো ব্যয়ে নতুন ডিজিটাল কারখানা এবং শেনজেনে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।