যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের কারণে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে উৎপাদন কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো কুপারটিনোর প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ভারতে ৭০০ কোটি ডলার মূল্যের আইফোন অ্যাসেম্বল করেছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে কোম্পানির উৎপাদন তিন গুণ বেড়েছে। খবর ব্লুমবার্গ।
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিটি বর্তমানে ভারতে ৭ শতাংশ আইফোন উৎপাদন করে থাকে বলে অবগত সূত্র জানিয়েছে। ফক্সকন টেকনোলজি ও পেগাট্রন করপোরেশন এতে সহায়তা করে থাকে। এটি ভারতের জন্য বড় ধরনের উল্লম্ফন। কেননা ২০২১ সালে এর হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ।
ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ ক্রমে বাড়ছে। আর এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে চীননির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন উপায় খুঁজছে অ্যাপল। কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি সহযোগীরা বিগত বছরগুলোয় অ্যাসেম্বলি লাইনের পরিধি বাড়িয়েছে। আগে যেখানে চীনের কারখানাতেই বেশি উৎপাদন করা হতো।
গত বছর চীনের ঝেংঝুতে অবস্থিত আইফোন সিটিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের মুখে পড়ে ফক্সকন। এর কারণে সেখানকার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং অ্যাপলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্থানীয় পর্যায়ে সেমিকন্ডাক্টরের উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। মোট উৎপাদনের মধ্যে অ্যাপল মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের আইফোন বাজারজাত করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় চার গুণ বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
চলতি বছরের বসন্তে চীনের পাশাপাশি ভারতেও পরবর্তী প্রজন্মের আইফোন উৎপাদন করার কথা ভাবছে অ্যাপল। যদি তা সত্য হয় তাহলে প্রথমবারের মতো দুই দেশে আইফোন অ্যাসেম্বল শুরু হবে। আর এ ধারা চলমান থাকলে ২০২৫ সাল নাগাদ ভারতে এক-চতুর্থাংশ ডিভাইস অ্যাসেম্বল করতে বা জোড়া দিতে পারবে। তবে এ বিষয়ে অ্যাপলের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত বছর ঝেংঝুতে সমস্যা হওয়ার আগেই অ্যাপল সরবরাহ চেইন পরিবর্তনের বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল। ভারতে কারখানা স্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি অনুমতি নিতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি ফক্সকন, উইস্ট্রন ও পেগাট্রনকে সেখানে উৎপাদন শুরুর জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
তিনটি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে এখন পর্যন্ত ভারতে ৬০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। এখানে আইফোন ১১ থেকে সবশেষ মডেল ১৪ ও তৈরি করা হয়ে থাকে। এসব কারণে বর্তমানে চীনের বিকল্প হিসেবে অন্যতম উৎপাদন হাবে পরিণত হতে ভারতের যে লক্ষ্য তার কেন্দ্রে রয়েছে অ্যাপল।
আইফোনের উৎপাদন ভারতমুখী হওয়া দেশটির অর্থনৈতিক বিজয়ের একটি স্মারক। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য ব্র্যান্ডের ভবিষ্যৎ বাজার কেমন হবে তার একটি ধারণা পাওয়া যায়। অ্যাপলের জন্য দেশটি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে। ভারতে নতুন দুটি রিটেইল স্টোর চালু করবে অ্যাপল। একটি মুম্বাইয়ে অন্যটি দিল্লিতে। কোম্পানিটির মুখপাত্র টিম কুক ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে স্টোর দুটি চালু করবেন বলে জানা গেছে। কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি ভারতে তাদের শ্রম আইনেও পরিবর্তন এনেছে। মূলত স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়াতে ও বড় কারখানা তৈরিতেই এ পরিবর্তন।
অ্যাপলের চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফক্সকন দক্ষিণের একটি প্লান্টে ৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ফক্সকন, উইস্ট্রন ও পেগাট্রনের কোনো মুখপাত্র মন্তব্য করেনি।










