দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ডাটা সেন্টার নির্মাণে ঝুঁকছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত অবকাঠামোর চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এসব বিনিয়োগ এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। কারণ ডাটা সেন্টার নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমশক্তির প্রয়োজন পড়বে। এছাড়া এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ডাটা সায়েন্স ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত প্রতিভার বিকাশও ঘটবে। খবর দ্য স্ট্রেইট টাইমস।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন বিনিয়োগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নত করবে। এতে সব আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে পারবে। ফলে তথ্যের ‘ডাউনটাইম’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে।

মেব্যাংকের বিশ্লেষকরা গত বছরের অক্টোবরে এক প্রতিবেদনে বলেন, চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল উদ্ভাবনের ফলে প্রচলিত ইন্টারনেট সার্চের তুলনায় চার-পাঁচ গুণ বেশি তথ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ কারণে আগামী পাঁচ-সাত বছরে ডাটা সেন্টারের চাহিদা বছরে প্রায় ২০ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।

তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয়, বিদ্যুতের সহজলভ্যতা ও ভূরাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ডাটা সেন্টার স্থাপনের আদর্শ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তালিকায় শীর্ষ পাঁচ হলো সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম।

সিঙ্গাপুরের ডাটা সেন্টারের বর্তমান সক্ষমতা প্রায় ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট। উন্নতমানের অবকাঠামো ও স্থিতিশীল নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে সিঙ্গাপুরকে সবচেয়ে ভালো গন্তব্য হিসেবে দেখছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে পরিবেশের ওপর ডাটা সেন্টার নির্মাণের প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ২০১৯-২২ সাল পর্যন্ত এর অনুমোদন বন্ধ রেখেছিল দেশটি। এ সময় মালয়েশিয়া নতুন ডাটা সেন্টার বিনিয়োগের বড় অংশটি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়। বর্তমানে উভয় দেশ আগামী দুই বছরে প্রায় এক গিগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতার ডাটা সেন্টার চালুর কথা ভাবছে, যা তাদের বিদ্যমান সক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।

মালয়েশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরএইচবি ব্যাংক জানিয়েছে, অতিরিক্ত ৩ গিগাওয়াট ডাটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে তা আগামী তিন-পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে চালু হবে।

মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। গত মে মাসে মাইক্রোসফট জানায়, আগামী চার বছরে দেশটিতে ক্লাউড ও এআই অবকাঠামো নির্মাণে তারা ২২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এছাড়া গত আগস্টে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) বলেছে, তারা দেশটিতে ডাটা সেন্টার ও ক্লাউড রিজিয়ন স্থাপনে প্রায় ৬২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।