গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এরপর চীন থেকে আমদানীকৃত সেমিকন্ডাক্টরে ত্রুটির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে শুরু করেছে। মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য উৎস থেকে বৈদ্যুতিক পণ্য সরবরাহ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম কমারস্যান্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
নাম না প্রকাশের শর্তে এক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কমারস্যান্ট জানায়, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমাগত নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন থেকে আমদানি করা ৪০ শতাংশ চিপই ত্রুটিযুক্তি ছিল, মার্চের আগে যার হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ। রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কমারস্যান্টকে জানায়, ত্রুটিপূর্ণ আমদানি ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা কোনো তথ্য পায়নি।
ত্রুটিপূর্ণ চিপ আমদানির বিষয়ে কমারস্যান্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়টি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার বস্তুতে পরিণত হয়েছে। কমারস্যান্ট মূলত রাশিয়ার অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক গণমাধ্যম। দেশটির একজন ধনকুবের ও অলিগার্ক আলিশার উসমানভ এর মালিক। ইস্পাত ও খনিজ খনন শিল্পের মাধ্যমে তিনি দেশটির অন্যতম ধনকুবেরে পরিণত হয়েছেন। দেশটির টেলিকম অপারেটর মেগাফোনের একটি বড় অংশের মালিকও তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে চীন থেকে ত্রুটিপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ কারণে অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের মেশিন, প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও নীলনকশা ব্যবহার করতে পারছে না। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে যন্ত্রাংশের সরবরাহ নিশ্চিতে অপরিচিতদের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। অন্যদিকে চীনের বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাইডেন প্রশাসন। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংবলিত চিপ ও প্রযুক্তি রফতানি বন্ধে আইনও কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যে কারণে অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদনে পিছিয়ে যাচ্ছে চীন।
গত কয়েক বছরে চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্কের উন্নতি হলেও ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে বেইজিং প্রথম থেকেই নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। চীন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো দেখতে পায়, নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করলেও তারা কালো তালিকাভুক্ত হতে পারে। এ কারণে অধিকাংশ চীনা প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মেনে চলার পাশাপাশি রাশিয়াপন্থী গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে সূক্ষ্মভাবে কাজ করছে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ইনস্টিটিউট (সিইএলআই) রাশিয়ায় এখনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানতে পেরেছে, যার মধ্যে চীনেরই ৪১টি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।










