আয়কর অভিযান, ফাইভজি নেটওয়ার্ক পরীক্ষার তালিকা থেকে বাদ ও গবেষণা সহযোগিতায় ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিধি কমানোর পরিকল্পনা করছে চীনের অন্যতম প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে এ তথ্য জানা গিয়েছে। খবর দ্য হিন্দু।
কার্যক্রমের পরিধি কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই দশকে দেশটিকে প্রতিষ্ঠানটি যে ৩ হাজার ৫০০ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছিল সেটির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, যত কিছুই হোক না কেন প্রতিষ্ঠানটি ভারতে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। কিন্তু সে ঘোষণার এক বছর পর বেঙ্গালুরুর বাইরে গবেষণা ও উন্নয়ন ক্যাম্পাসের কিছু অংশ বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি কার্যক্রম সংকুচিত করার নতুন পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ্যে এল।
কয়েক দফায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মুখে পড়ার পর প্রতিষ্ঠান তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে আয়করের জন্য অভিযান, প্রতিষ্ঠানের ২০ বছরের তথ্যের ওপর অডিট, হুয়াওয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয় তদন্ত এবং হুয়াওয়ে টেলিকমিউনিকেশন ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) লি শিওংওয়ের বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার দেয়ার বিষয়ও জড়িত। কোনো ভ্রমণকারীর বিরুদ্ধে পুলিশের কোনো ওয়ারেন্ট আছে কিনা সেটি যাচাইয়ের জন্য এটি দেয়া হয়।
১২ আগস্ট লি তার ওপর আরোপিত এলওসির বিরুদ্ধে তার আইনজীবী বিজয় আগারওয়ালের মাধ্যমে আদালতে আপিল করেন। যেখানে তিনি বলেন, আমি একজন চাইনিজ এবং আমি কোনো সন্ত্রাসী নই। লুক আউট সার্কুলারের জন্য তিনি বিদেশ ভ্রমণে যেতে পারছিলেন না। অন্যদিকে দেশটির কর বিভাগ, হুয়াওয়ের সিইওর দেশ ত্যাগে অনুমতি না দেয়ার আহ্বান জানান। মূলত তিনি যাতে কর ফাঁকি ও নিয়ম ভঙ্গের বিচার থেকে বেঁচে না যান সেজন্য এ আহ্বান জানানো হয়।
একাধিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, হুয়াওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশটিতে তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াকে কঠিন মনে করছেন। কেননা দেশটির সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণাণলয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্যরা বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী, কভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর থেকে চীন থেকে হুয়াওয়ের পণ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ভিসার অভাবে ভারতে আসতে পারছিলেন না। পাশাপাশি চীন সরকারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
বিধিনিষেধের কারণে এবং নতুন সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে হুয়াওয়ে তার কিছু সমালোচনামূলক উন্নয়ন প্রকল্পকে চীনে স্থানান্তর করেছে এবং ভারতের বিশেষজ্ঞ দলগুলোকে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোয় পুনর্বণ্টন করেছে। গুরগাওভিত্তিক একজন টেলিকম বিশেষজ্ঞ বলেন, ভারতে হুয়াওয়ের বাজার অনেকটাই শেষের দিকে। তিনি আরো বলেন, ফাইভজি ছাড়া টুজি, থ্রিজি বা ফোরজি নেটওয়ার্ক পরিষেবার জন্য প্রতিষ্ঠানটির আর কোনো সুযোগ নেই। কেননা দেশটির সরকার নির্ধারিত বিশ্বাসযোগ্য সহযোগীর তালিকায় হুয়াওয়ের নাম নেই।
হুয়াওয়ে ছাড়াও গত কয়েক মাসে জিটিই, ভিভো, শাওমি, অপোসহ অন্যান্য চাইনিজ প্রতিষ্ঠানের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে দেশটির আয়কর বিভাগ ও রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একাধিক দল। গত সপ্তাহে দিল্লিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীনের রাষ্ট্রদূত সান ওয়েইডং ভারত সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, এটি ভারতে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ও মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ভারতের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে জানান, চীনের সঙ্গে যে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বিভিন্ন সংস্থা বর্তমানে বেইজিং সমর্থিত হুয়াওয়েসহ অন্যান্য চীনা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে গভীর তদন্ত করছে।










