মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্ম টুইটার অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন ধনকুবের ইলোন মাস্ককে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্লাটফর্মটির মূল অ্যাকাউন্ট সংখ্যার দ্বন্দ্বে টেসলা প্রধান চুক্তি বাতিলের হুমকিও দিয়েছিলেন। বর্তমানে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য প্রাপ্তিতে অ্যাডটেক বা বিজ্ঞাপনদাতা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে নথি চাইছেন ইলোন। দেলাওয়ার আদালতের নথিসূত্রে এ তথ্য জানা গিয়েছে। খবর রয়টার্স।
বট ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কীভাবে যাচাই করা হয় সে-সংক্রান্ত তথ্য না দেয়ার অভিযোগে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অধিগ্রহণ চুক্তি থেকে সরে আসায় টেসলা প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে টুইটার। আগামী ১৭ অক্টোবর মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ইলোন মাস্কের আইনজীবীরা ইন্টিগ্রাল অ্যাড সায়েন্স ও ডাবল ভেরিফাইয়ের কাছে টুইটারের ইউজার যাচাইয়ে যেকোনো ধরনের জরিপ বা অডিটে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত নথি সরবরাহের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দুটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্লাটফর্মে প্রদত্ত ডিজিটাল বিজ্ঞাপন আসল ব্যবহারকারী দেখছে কিনা সেটি শনাক্তে প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে বিজ্ঞাপনদাতারা যেসব বিজ্ঞাপনের জন্য ফি দিয়ে থাকে, সেগুলো নির্ধারিত গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা তা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির পরিষেবা নিয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে টুইটার, আইএএস ও ডাবল ভেরিফাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। টুইটার কীভাবে তাদের পরিষেবা মূল্যায়ন করে থাকে সে বিষয়ে একজন ব্যবহারকারীর টুইটের উত্তরে ইলোন মাস্ক বলেন, এটি সেসব প্রশ্নের অন্তর্গত যেগুলোর উত্তর না দেয়ার জন্য টুইটার যা যা প্রয়োজন সব করছে।
চলতি মাসের শুরুতে টুইটারের বিবৃতির বিপরীতে মাস্ক দাবি জানায়, টুইটারের মনিটাইজেশনের আওতায় থাকা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিবৃতির তুলনায় ৬ কোটি ৫০ লাখ কম। তবে টুইটার তার বক্তব্যে অনড়। টুইটারের নথির তথ্যানুযায়ী, যারা ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে লগইন করতে পারে, কোনো সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে পারে ও বিজ্ঞাপন দেখতে পায় তারা সবাই মূল ব্যবহারকারী।
আগে টুইটার কিনে নেয়ার চুক্তি থেকে সরে আসায় ইলোন মাস্কের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির আবেদন জানিয়েছিল টুইটার। অকস্মাৎ মাস্কের চুক্তি থেকে সরে আসার ঘটনাকে বিশ্বাসঘাতকতার অপবাদ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ওই আবেদনের বিপরীতে শুনানি পেছাতে আবেদন করেছিলেন ইলোন। মাস্কের আইনজীবীরা আগামী বছর পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ইলোন মাস্ক আরো কিছু সময় চেয়েছেন। মাস্কের পক্ষ থেকে তার আইনজীবী জানান, মাত্র পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে এ ধরনের একটি জটিল বিষয়ের মামলার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বরং সেটাই হবে অস্বাভাবিক। মামলার কাজ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ শুরু হলে উভয় পক্ষ লাভবান হবে।
অপরদিকে ইলোন মাস্ক দাবি করেছিলেন, মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্মটির ২০ শতাংশই স্প্যাম বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট, যা টুইটারের দাবির চার গুণ বেশি। প্রকৃত স্প্যাম অ্যাকাউন্টের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। কিন্তু শুরু থেকেই টুইটারের দাবি ছিল, তাদের প্লাটফর্মে স্প্যাম বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ৫ শতাংশ।
টুইটারে স্প্যাম, বট বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট হচ্ছে এমন অ্যাকাউন্ট যেখানে বাস্তবে অনুপস্থিত ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করা হয়। কিছু স্প্যাম অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি, আবার কিছু অ্যাকাউন্টের পেছনে কোনো ব্যক্তি জড়িত। এ কারণে স্প্যাম ও বট চিহ্নিত করার কাজটি বেশ জটিল। স্প্যাম বা বটের মাধ্যমে টুইট করা যায়, টুইট শেয়ার করা যায়, কাউকে ফলো দেয়া যায় বা ওই অ্যাকাউন্টকে অন্যরা ফলো দিতে পারে। টুইটারের দাবি, কিছু স্বয়ংক্রিয় বট অনেক ব্যবহারকারীর জন্য উপকারে আসতে পারে। উদাহরণস্বরূপ স্টকবট বিভিন্ন স্টকের বাজারদর জানায়। এছাড়া আর্থকোয়াকবট বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে রিখটার স্কেলে ৫ কিংবা তার চেয়ে উচ্চমাত্রার ভূকম্পনের তথ্য শেয়ার করে। তবে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বড় বড় করপোরেশনও তাদের স্বার্থ রক্ষায় স্প্যাম বট ব্যবহার করে।










