আগামী প্রান্তিকে পূর্বপরিকল্পনার চেয়ে ২০ শতাংশ কম আইফোন এসই উৎপাদন করবে অ্যাপল। এছাড়া এয়ারপডসের উৎপাদন কমানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ইউক্রেন সংকট ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ভোক্তা পণ্য ও ইলেকট্রনিক খাতে যে প্রভাব পড়েছে তা আমলে নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টটির। খবর নিক্কেই এশিয়া।
তিন সপ্তাহ আগে প্রথম ফাইভজি আইফোন এসই উন্মোচন করে অ্যাপল। সম্প্রতি সরবরাহকারীদের অ্যাপল জানায়, আগামী প্রান্তিকে ২০ লাখ আইফোন এসই উৎপাদন করবে তারা। এর আগের পরিকল্পনায় ৩০ লাখ আইফোন এসই উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোভিত্তিক কোম্পানিটি।
বিষয় সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাতে নিক্কেই এশিয়া আরো জানায়, চলতি বছরে এয়ারপডস এয়ারফোন উৎপাদন ১ কোটি ইউনিট কমিয়ে আনবে। চাহিদায় সাম্প্রতিক শ্লথগতির বিষয়টি আমলে নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের উপাত্তে দেখা গেছে, ২০২১ সালে ৭ কোটি ৬৮ লাখ ইউনিট এয়ারপডস বাজারজাত করেছিল অ্যাপল। চলতি বছরে এ অংকটা কমতে যাচ্ছে, এমনটাই মনে করে সূত্রগুলো।
আইফোন এসইর পাশাপাশি সরবরাহকারীদের আইফোন ১৩ সিরিজের ফোনের উৎপাদনও কমানোর নির্দেশনা দিয়েছে অ্যাপল। মাস খানেক ধরে চলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্টটির। গত বছর চিপস্বল্পতার কারণে আক্রান্ত হয়েছে স্মার্টফোন, পিসি থেকে শুরু করে গাড়ি শিল্প। চিপস্বল্পতা এখনো পুরোপুরি কেটে ওঠেনি। তার মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইউক্রেন সংকট।
ইউক্রেন আগ্রাসন নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি। এতে সরবরাহ চেইনে যে প্রভাব পড়বে তা প্রলম্বিত চিপ সংকট আরো দীর্ঘায়িত করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যয় বাড়ছে এবং ভোক্তা ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতেই রাশিয়ায় উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করে অ্যাপল। রাশিয়ায় তৃতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানি ছিল অ্যাপল। গত বছর দেশটিতে ৫০ লাখ আইফোন বিক্রি করেছে তারা। আইডিসির উপাত্তে দেখা গেছে, ২০২১ সালে রাশিয়ায় স্মার্টফোনের ১৬ শতাংশ বাজার হিস্যা ছিল অ্যাপলের। এছাড়া রাশিয়ার ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি) বাজারে অ্যাপলের অবস্থান পঞ্চম।
অ্যাপলের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, যুদ্ধের ফলে ইউরোপের বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। স্পষ্টত ভোক্তারা এখন খাদ্য ও জ্বালানির মতো জরুরি পণ্যে ব্যয়ের জন্য মজুদ করছেন।
অ্যাপলের উৎপাদন কমানোর এ সিদ্ধান্তে অন্যান্য প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস কোম্পানিতে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চাহিদা হ্রাস এবং বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টির ফলে অনেক ভোক্তা ইলেকট্রনিকস কোম্পানিই উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ইউক্রেনে অস্থিতিশীলতা এবং বেশ কয়েকটি দেশে শ্লথগতির ফলে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমাতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এপ্রিলে নতুন প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস দেবে আইএমএফ। আগের পূর্বাভাসে ২০২২ সালে আইএমএফের
বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছিল চীন।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রযুক্তি বিশ্লেষক ব্রাডি ওয়েং নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, চীনের স্মার্টফোন বাজারে চাহিদায় শ্লথগতি দেখতে পাচ্ছি। পুরো ইউরোপের ভোক্তাবাজারে পড়তে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব। এজন্য চলতি বছরে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়ে ৫ শতাংশ করছে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ।









