চীনের বাজারে সব ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংবলিত চিপ সরবরাহে সম্প্রতি এনভিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এর পর পরই চীনে এইচ১০০ চিপ তৈরিতে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে দেশটি। সম্প্রতি এক ঘোষণায় এনভিডিয়া এ কথা জানায়। খবর টেকটাইমস।
নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। সিএনবিসি প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরকার চীন ও রাশিয়ার সার্ভারের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এ১০০ ও এইচ১০০ চিপ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানটি চীনে এইচ১০০ চিপ উৎপাদন করতে পারবে। তবে এসব দেশে উল্লিখিত চিপ দুটির বিক্রি নিষিদ্ধ। রফতানিতে নতুন এ নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি প্রান্তিকে এনভিডিয়া ৪০ কোটি ডলার হারাবে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, চিপ বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে সামরিক খাতে রাশিয়া ও চীনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা কমবে। বিভিন্ন উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে অস্ত্র ও নজরদারি প্রযুক্তির উন্নয়নও রয়েছে। এক ফাইলিংয়ে চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এনভিডিয়া করপোরেশন বা কোম্পানির এইচ১০০ ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের উন্নয়ন, রফতানি, পুনঃরফতানি এবং দেশের অভ্যন্তরে প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার অনুমতি দিয়েছে।
ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, অস্ত্রের উন্নয়ন, ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ ও সামরিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগে এনভিডিয়া ও অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস (এএমডি) নির্মিত গ্রাফিকস প্রসেসরগুলো বেশ কার্যকর। এনভিডিয়ার দ্রুতবর্ধনশীল একটি খাত হচ্ছে ডাটা সেন্টার ব্যবসা। জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে এ খাতের অংশ হিসেবে এ১০০ ও এইচ১০০ চিপ বিক্রির মাধ্যমে ৩৮০ কোটি ডলার আয় করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬১ শতাংশ বেশি।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং আগস্টের দিকে গবেষকদের সতর্ক করে বলেছিলেন, কোম্পানির ব্যবসা বিস্তারে চীন অন্যতম বাজার। সেই সঙ্গে দেশটির ক্লাউড পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডাটা সেন্টার বিস্তার কার্যক্রমের গতি কমিয়ে দিয়েছে। এনভিডিয়া দাবি জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের হংকংয়ের কারখানা থেকে চিপ সরবরাহ করতে পারবে।










