রাশিয়ার হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ, ভুল তথ্যের প্রচার বন্ধ ও মৃতদের শনাক্তে ক্লিয়ারভিউয়ের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ইউক্রেন সরকার। সম্প্রতি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।
ক্লিয়ারভিউয়ের একজন উপদেষ্টা ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের কূটনীতিক লি ওলস্কি জানান, ইউক্রেন সরকার ক্লিয়ারভিউয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) শক্তিশালী ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ এর মাধ্যমে নাগরিকদের চেকপয়েন্টে সহায়তা করছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর ক্লিয়ারভিউয়ের শীর্ষ নির্বাহী হোয়ান টন-দ্যাট কিয়েভ কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতার কথা জানিয়ে চিঠি পাঠান। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা রাশিয়াকে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানায়নি।
এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে দেশটির ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ক্লিয়ারভিউয়ের মতো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর অফার বিবেচনা করছে। পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইউক্রেনকে ইন্টারনেট হার্ডওয়্যার, সাইবারনিরাপত্তা টুলসহ অন্যান্য সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছে।
ক্লিয়ারভিউয়ের প্রতিষ্ঠাতা জানান, রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকন্টাক্টের তুলনায় তার স্টার্টআপে ২০০ কোটির বেশি ছবি রয়েছে। ক্লিয়ারভিউয়ের মোট এক হাজার কোটি ছবির তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। এক লিখিত বার্তায় টন দ্যাট বলেন, এ তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে ইউক্রেন সরকার ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেলানোর পরিবর্তে সহজেই মৃতদের শনাক্ত করতে পারবে। এমনকি কারো মুখমণ্ডল বিকৃত থাকলেও পরিচয় মিলবে।
চিঠিতে টন আরো বলেন, ক্লিয়ারভিউয়ের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শরণার্থীদের খুঁজে বের করা, রাশিয়ার হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা যাবে। পাশাপাশি যুদ্ধসংক্রান্ত ভুয়া ও মিথ্যা তথ্যের প্রসার বন্ধে এটি সরকারকে সহায়তা করবে। তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঠিক কী কারণে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সেটি এখনো পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছেন টন। ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের প্রশাসনও ধীরে ধীরে ক্লিয়ারভিউয়ের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বলে টন-ওলস্কি সূত্রে জানা গেছে।
ভিকন্টাক্টের ছবি ক্লিয়ারভিউয়ের তথ্যভাণ্ডারকে পিমআইসের তুলনায় আরো জটিল করে তোলে। পিমআইস একটি উন্মুক্ত ইমেজ অনুসন্ধান ইঞ্জিন। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যুদ্ধের ছবি থেকে পরিচিতদের খুঁজে থাকেন বলে জানান ওলস্কি। এ বিষয়ে ভিকন্টাক্টের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন ফেসবুক ও বর্তমান মেটা ক্লিয়ারভিউকে তাদের তথ্য ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
নিউইয়র্কে সার্ভেইল্যান্স টেকনোলজি ওভারসাইট প্রকল্পের পরিচালক অ্যালবার্ট ফক্স বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি মুখমণ্ডল শনাক্তে ব্যর্থ হতে পারে। একটু এদিক-ওদিক হলেই তা সাধারণ অধিবাসীর প্রাণহানির কারণ হতে পারে কিংবা পুলিশের অনাকাঙ্ক্ষিত ধরপাকড়ের মাত্রা বাড়তে পারে। যে প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের উপকার করা যেত, সেটি এখন বিপরীত ফল দেবে।
টন-দ্যাট বলেন, শনাক্তকরণের জন্য ক্লিয়ারভিউকে কখনই একমাত্র উৎস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। যুদ্ধের সময় মানবিক ব্যবহারের জন্য জেনেভা কনভেনশনে যে বিধি তৈরি করা হয়েছে, সেটিও তিনি অতিক্রম করতে চান না বলে জানান। ক্লিয়ারভিউ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তাদের পরিষেবা বিক্রি করে। ওয়েব থেকে ছবি সংগ্রহের মাধ্যমে গোপনীয়তা বিধি লঙ্ঘন করায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে মামলা লড়ছে।










