মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের সক্রিয় অনেক ব্যবহারকারী প্লাটফর্মটি ছেড়ে দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।

টুইটারের নিজস্ব নথিতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন সেলিব্রিটিসহ সক্রিয় ব্যবহারকারীদের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। এমনকি অনেক সেলিব্রিটি ব্যবহারকারী মানসিক সুস্থতা ধরে রাখার স্বার্থে প্লাটফর্ম ছেড়ে দেয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিতে দেখা যাচ্ছে। ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে ইলোন মাস্কের টুইটার অধিগ্রহণের সময়সীমা যখন ঘনিয়ে আসছে তখন ব্যবহারকারী হ্রাসের এ উপাত্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

সপ্তাহে ছয় বা সাতদিন লগইন করে এবং তিন-চারবার টুইট করে, এ ধরনের অ্যাকাউন্টকে সক্রিয় বলে টুইটার। বন্ধ হতে যাওয়া এসব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট মোট ব্যবহারকারীর ১০ শতাংশের বেশি নয়। তবে এরাই ৯০ শতাংশ টুইট পোস্ট করে। আর এরাই প্রতিষ্ঠানটির মোট লাভের অর্ধেক এনে দেয়। কভিড মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকেই এ শ্রেণী প্লাটফর্মটি ছেড়ে দিচ্ছে। টুইটারের গবেষণায় এ নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। তাদের ইউজাররা কোথায় যাচ্ছে তা জানতে মরিয়া টুইটার।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গত দুই বছরে সবচেয়ে সক্রিয় ইংরেজিভাষী ব্যবহারকারীরও টুইটারের প্রতি আগ্রহ কমেছে। ফলে বিজ্ঞাপনদাতারা আগ্রহ হারাতে পারেন। এছাড়া সংবাদ, খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক বিষয়ে কম আগ্রহ দেখানোর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা ব্যবহারকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সি, পর্নোগ্রাফি ও অন্যান্য অনিরাপদ কনটেন্টে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ নিয়েও চিন্তিত টুইটার কর্তৃপক্ষ।

অবশ্য ইংরেজিভাষীদের মাধ্যমে কী পরিমাণ আয় হয় তা প্রকাশ না করলেও সংখ্যাটি টুইটারের ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ইনসাইডার ইন্টেলিজেন্সের একজন বিশ্লেষক বলছেন, প্লাটফর্মটি অন্যান্য বাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি বিজ্ঞাপন আয় করে।