ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে চিপ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু কাঁচামালের সংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধাবস্থার যদি উন্নতি না হয়, তাহলে সেমিকন্ডাক্টর হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরিতে ভারতের স্বপ্ন ব্যাহত হওয়ার শংকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর আইএএনএস।
চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে, উন্নতমানের সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে এবং বৈশ্বিক হাবে পরিণত হতে ভারত সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন (আইএসএম) চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সেমিকন্ডাক্টরের উন্নয়ন ও ডিসপ্লে উৎপাদন কার্যক্রমের গতি বাড়াতে ১ হাজার কোটি ডলার বা ৭৬ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আগামী ছয় বছরে ৭৬ হাজার কোটি রুপির প্রডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ (পিএলআই) পরিকল্পনার প্রসার ঘটানো হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারতকে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের অন্যতম বৈশ্বিক কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য ২ দশমিক ৩ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা জানান, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এখন এশিয়া থেকে ইউরোপে ছড়িয়ে যাচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন থেকে তা কাঁচামাল সরবরাহে পৌঁছে গেছে। তাই যেসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভারতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইছে, তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের বিষয়েও ভাবতে হবে। চিপ উৎপাদনে ব্যবহূত বেশকিছু উপাদান রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নিয়ন গ্যাস, সি৪এফ৬ কেমিক্যাল, পালাডিয়াম, নিকেল, প্লাটিনাম, রোডিয়াম ও টাইটেনিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ ধাতু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যে যুদ্ধ চলমান, এ রকম ঘটনা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে চিপের উৎপাদন কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি দাম বাড়ানোর বিষয়ও সম্পর্কিত। আইএএনএসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে সিএমআরের ইন্ডাস্ট্রি ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের প্রধান প্রভু রাম বলেন, একটি আন্তঃসংযুক্ত ও আন্তঃসম্পর্কিত বিশ্বে বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনে ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হবে।
রাম বলেন, সেমিকন্ডাক্টর গ্রেড নিয়ন ও প্যালাডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সংকট সরবরাহ চেইনের পাশাপাশি এশিয়ার সেসব চিপ উৎপাদনকারীকে প্রভাবিত করবে, যারা মূলত ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল। পিএলআইয়ের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পণ্য ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে দেশটির সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার অনেক প্রতিষ্ঠানকে ভারতে উৎপাদন শুরুতে উৎসাহ দিয়েছে। সে মুহূর্তে হঠাৎ যুদ্ধ ও কাঁচামাল সংকট ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
ভারতের সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান পঙ্কজ মোহিন্দ্রো জানান, ইউক্রেনে চলমান দ্বন্দ্ব ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে আইএএনএসকে দেয়া সাক্ষাত্কারে মোহিন্দ্রো বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেশকিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে ইউক্রেন থেকে যেসব কাঁচামাল আমদানি করা হয়, সেগুলোর মূল্য যদি না কমে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে ভোক্তা বৈদ্যুতিক পণ্যের বাজারে সাময়িক সময়ের জন্য দামের তারতম্য হতে পারে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ব্র্যাডি ওয়াংয়ের তথ্যানুযায়ী, ছোট ও মাঝারি আকারের চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উপাদান সংকটের কারণে চাপের মুখে পড়বে। পাশাপাশি দ্বন্দ্ব চলমান থাকলে অন্য উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।










